শনিবার, ২২ জুন ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

মোদির শপথ আজ

আপডেট : ০৯ জুন ২০২৪, ০২:২৫ এএম

টানা তৃতীয় মেয়াদে ভারতের সরকারপ্রধান হিসেবে আজ রবিবার শপথ নরেন্দ্র মোদির। মোদির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের সব আয়োজন গুছিয়ে আনা হয়েছে। ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু আজ সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রিপরিষদের অন্য সদস্যদের শপথ পাঠ করাবেন। শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সাত বিদেশি নেতা। আর সবমিলিয়ে এই শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথির সংখ্যা হবে আট হাজার। ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নয়াদিল্লি পৌঁছেছেন। ভারতের সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান নিিদ্র করতে এরই মধ্যে রাজধানী দিল্লিতে জারি করা হয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কতা।

এদিকে এক দশক পর বিরোধীদলীয় নেতা পেতে যাচ্ছে ভারত লোকসভা। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীই সেই পদে বসতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। গতকাল শনিবার দল থেকে রাহুল গান্ধীকে সর্বসম্মতভাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। অবশ্য বিষয়টি নিয়ে ইনডিয়া জোটের অন্য শরিকদের সঙ্গে আলোচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছে কংগ্রেস।

আগের দুই মেয়াদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া বিজেপি এবার লোকসভা নির্বাচনে ৫৪৩ আসনের মধ্যে এককভাবে মাত্র ২৪০টি আসন পেয়েছে। সরকার গঠনের জন্য ২৭২ আসন প্রয়োজন। অবশ্য দলটির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট ২৯৩টি আসন জিতেছে। জোটের সর্বাত্মক ভোটে সংসদ নেতা হয়েছেন মোদি। অন্যদিকে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইনডিয়া জোট ২৩২টি আসন জিতেছে, এর মধ্যে এককভাবে কংগ্রেস পেয়েছে ৯৯টি আসন।

গতকাল ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, মোদির শপথগ্রহণকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠানস্থল রাষ্ট্রপতি ভবনে পাঁচ কোম্পানি আধাসামরিক বাহিনীর জওয়ান ছাড়াও এনএসজি কমান্ডো, ড্রোন এবং স্নাইপার নিয়ে বহুস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান চলার সময় যেকোনো অপরাধমূলক বা সন্ত্রাসী হুমকি রোধ করতে দিল্লিতে নো-ফ্লাই জোন ঘোষণা করা হয়েছে। এই বিধিনিষেধ ৯ থেকে ১০ জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

বিদেশি অতিথিদের হোটেলে বিশেষ প্রোটোকলসহ বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। বিশেষ নিরাপত্তার আওতায় রয়েছে লীলা, তাজ, আইটিসি মৌর্য, ক্ল্যারিজেস এবং ওবেরয়ের মতো নামি হোটেলগুলো। অতিথিরা হোটেল থেকে অনুষ্ঠানস্থলে যাবেন নির্দিষ্ট পথে। এ সময় বিভিন্ন রাস্তা বন্ধ এবং ডাইভারশন করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ছাড়া সীমান্তেও শুরু হয়েছে কড়া নজরদারি।

মোদির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ছাড়া মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু থাকবেন ওই অনুষ্ঠানে। ভারতের ‘প্রতিবেশী প্রথম নীতির’ অংশ হিসেবে শ্রীলঙ্কা, ভুটান, নেপাল, মরিশাস এবং সেশেলসের নেতারা এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। তবে পাকিস্তানের কেউ থাকছেন না ওই অনুষ্ঠানে। 

এদিকে মোদির নতুন মন্ত্রিসভায় ২৭ থেকে ৩০ জন সদস্য থাকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, যার প্রায় এক তৃতীয়াংশ হবেন এনডিএ জোটের সদস্য। সঙ্গে কয়েকজন প্রতিমন্ত্রীও থাকতে পারেন।

অষ্টাদশ লোকসভার প্রথম অধিবেশন ১৫ জুন নাগাদ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম দুদিন যাবে নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথগ্রহণে। এরপরে নতুন স্পিকার নির্বাচন করা হবে এবং রাষ্ট্রপতি লোকসভা ও রাজ্যসভার একটি যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দেবেন, অধিবেশনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। প্রথম অধিবেশন আগামী ২২ জুন শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

রাহুল হবেন বিরোধীদলীয় নেতা :

এনডিটি টিভি জানাচ্ছে, এক দশক পর ভারত লোকসভায় বিরোধীদলীয় নেতা পেতে যাচ্ছে। আর সে ক্ষেত্রে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীরই সেই নেতা হওয়ার জোর সম্ভাবনা। গতকাল শনিবার দল থেকে রাহুল গান্ধীকে সর্বসম্মতভাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

সংবাদমাধ্যমটি জানাচ্ছে, রাহুলকে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে গতকাল বৈঠকে বসেছিলেন কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা। বৈঠক শেষে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে সি ভেনুগোপাল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, লোকসভায় রাহুল গান্ধীকে বিরোধী নেতা করা-সংক্রান্ত প্রস্তাব সব অংশগ্রহণকারী সর্বসম্মতভাবে পাস করেছেন। 

ভারতের কেন্দ্রীয় সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভা ২০১৪ সাল থেকে বিরোধীদলীয় নেতাশূন্য ছিল। কারণ, লোকসভায় বিরোধী নেতা হওয়ার জন্য কোনো একক দলকে ৫৪৩ আসনের অন্তত ১০ শতাংশ পেতে হয়। কিন্তু গত দুই লোকসভার নির্বাচনে কংগ্রেস বা অন্য কোনো দল তা পূরণ করতে পারেনি। এবার কংগ্রেস ৯৯টি আসন পাওয়ায় সেই খরা দূর করতে পারে।

২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের ভরাডুবি হয়। তখন ব্যর্থতার দায়ভার নিয়ে দলটির সভাপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ান রাহুল গান্ধী। কিন্তু সদ্য সমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের ঘুরে দাঁড়ানোর বড় কৃতিত্ব তার বলেই মনে করেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

৫৩ বছর বয়সী রাহুল গান্ধী ২০০৪ সালে রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু করেন। এরপর থেকে তিনি কখনো কোনো সাংবিধানিক পদ গ্রহণ করেননি। এমনকি তার দল ক্ষমতায় থাকার সময়ও নয়।

গত বছর রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদবি নিয়ে ব্যঙ্গ করার অভিযোগ করে বিজেপি। এরপর এক মানহানির মামলায় তার লোকসভার সদস্যপদ বাতিল করা হয়। তবে পরবর্তী সময়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে তিনি তার সদস্যপদ ফিরে পান। আর এবার জিতেছেন দুটো আসনে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত