শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

আ.লীগ যতবার ক্ষমতায় এসেছে ততবার গণতন্ত্র হরণ করেছে: সালাম

আপডেট : ০৯ জুন ২০২৪, ১০:৫৪ পিএম

বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহবায়ক আবদুস সালাম বলেছেন, আওয়ামী লীগের কারণে মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন আজ বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে গণতন্ত্র রক্ষা করা যাবে না। আওয়ামী লীগ যতবার ক্ষমতায় এসেছে ততবার গণতন্ত্র হরণ করেছে।

রবিবার রাজধানীর রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনের সেমিনারে হলে বাঙালির তৃতীয় জাগরণের পথপ্রদর্শক সিরাজুল আলম খানের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে যুব বাঙালি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। যুব বাঙালির সভাপতি রায়হান তানভীরের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ সরকার। আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যুব বাঙালির সংগঠক মশিউর রহমান দীপু। 

ভোটের অধিকার ও নিজের দেশের মালিকানা ফেরত চাইতে তরুণদের আহ্বান জানিয়ে সালাম বলেন, সরকার ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে ফেরত দেয় না। শেখ হাসিনা নিজেই ঋণখেলাপি। বেনজীর-আজিজকে ধরতে পারে না। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে বাংলাদেশের এই অবস্থা হবে। আওয়ামী লীগের হাতে আমাদের স্বাধীনতা কখনো নিরাপদ নয়।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের পেয়ারে পাকিস্তান। যুদ্ধ চলাকালে খন্দকার মোশতাকের নেতৃত্বে পাকিস্তানের সঙ্গে কনফেডারেশন করার চেষ্টা করছে। যুদ্ধ যদি দীর্ঘায়িত হতো তাহলে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসতে পারত না। যুদ্ধকে সংক্ষিপ্ত করা হয়েছিল আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা দেওয়ার জন্য।

তিনি বলেন, শুধু পাকিস্তানের নাম বদল করে বাংলাদেশ আর মুসলিম লীগের নাম বদলে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় বসাতে আমরা মুক্তিযুদ্ধ করিনি। আমরা দেশ স্বাধীন করেছিলাম সকল মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করার জন্য।যখন মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হলো না। আওয়ামী লীগ যখন লুটপাটে চলে গেল। তখন আমরাই প্রতিবাদ, প্রতিরোধ করেছিলাম।

বিএনপি চেয়ারপারসনের এই উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে যে ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক শক্তি সৃষ্টি হয়েছিল তা দিয়ে স্বাধীন দেশ গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছিলেন সিরাজুল আলম খান। এই শ্রমিক লীগের জন্ম, কৃষক লীগের জন্ম সিরাজুল আলম খান দিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে কুপি জ্বালানোর কেউ ছিল না। সেই সময় তিনি কার্যালয়ে যেতেন।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতি আন্দোলনমুখী করে তোলার জন্য সবচেয়ে বেশি ভূমিকা ছিল সিরাজুল আলম খানের। যে স্বপ্ন নিয়ে যুদ্ধে গেলাম সে স্বপ্ন পূরণ হলো না।

আলোচনায় অংশ নেন গণফোরাম সাধারণ অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, জেএসডি সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম সংগঠক মোয়াজ্জেম হোসেন খান মজলিশ, প্যালেস্টাইন প্রত্যাগত মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, বাংলাদেশের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জিয়াউল কবির দুলু।  

যুব বাঙালির উপদেষ্টা কাজী তানসেন, সংগঠক সাগর খালাসী, মোহাম্মদ আলী পারভেজ, ওয়ালিদ হাসান ভুবন আলোচনায় অংশ নেন প্রমুখ।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত