শনিবার, ২২ জুন ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ফ্রিজের বাজারে প্রবৃদ্ধি প্রায় ১০ শতাংশ

আপডেট : ১০ জুন ২০২৪, ০১:১২ এএম

গত দুই বছর ধরে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে। ফ্রিজের বাজারে এর প্রভাব কেমন?

ফ্রিজ উৎপাদন শিল্পে বর্তমান প্রতিবন্ধকতার মধ্যে অন্যতম হলো ডলার সংকট। বিশ্বব্যাপী ডলার সংকট থাকায় বিদেশ থেকে কাঁচামাল আমদানি করতে বেশ সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। ডলার সংকট ছাড়াও, গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধিও উৎপাদনের ক্ষেত্রে একটি প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করছে। তবে বাংলাদেশ সরকার ডলার সমস্যা নিরসনে কাজ করে যাচ্ছে এবং দ্রুতই এই সমস্যা সমাধান হবে বলে আমরা আশাবাদী। মূলত এসব কারণেই অনেক কোম্পানি বাধ্য হচ্ছে ফ্রিজের দাম বাড়াতে। তবে মিনিস্টার ক্রেতাদের কথা মাথায় রেখে অল্প লাভ হলেও ক্রেতার নাগালের মধ্যেই রাখছে ফ্রিজসহ সব পণ্যের দাম।

স্থানীয় বাজারে দেশীয় কোম্পানিগুলোর হিস্যা কেমন? স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ফ্রিজের মান কেমন?

বাংলাদেশে যেসব ফ্রিজ বাজারে পাওয়া যায় তার প্রায় ৮০ শতাংশই দেশীয়ভাবে উৎপাদিত ফ্রিজ। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ফ্রিজের মান বর্তমানে বিদেশি ফ্রিজের মানের সমপর্যায়ের হয়ে থাকে। এদিকে, দেশি ফ্রিজের চাহিদা বেশি হওয়ার কারণ হলো দেশি ফ্রিজে ভ্যাট-ট্যাক্সের জন্য বেশি টাকা গুনতে হয় না ক্রেতাকে এবং নিজস্ব বাজেটে উন্নতমানের পণ্যটি হাতে পেয়ে যায়।

উচ্চ প্রযুক্তির ফ্রিজের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ কেমন?

ক্রেতারা সাধারণত উচ্চ প্রযুক্তির ফ্রিজই পছন্দ করে থাকে। বাজেটের মধ্যে সবচেয়ে ভালো মানের ফ্রিজ কিনতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে থাকে। তাই সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কোম্পানিগুলো তাদের পণ্যের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন করতে নিরলসভাবে কাজ করে প্রতিনিয়ত। প্রযুক্তিতে পিছিয়ে গেলে বেচাকেনাতেও অন্যদের তুলনায় পিছিয়ে পড়তে হয়। তাই ক্রেতাদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে মিনিস্টার সবসময় ক্রেতার বাজেটের মধ্যে সর্বোচ্চ মানের উচ্চ প্রযুক্তির ফ্রিজ দিয়ে থাকে।

দেশে উৎপাদিত ফ্রিজ এখন আন্তর্জাতিক বাজারেও যাচ্ছে? গত এক বছরে ফ্রিজের রপ্তানি কতটা বেড়েছে?

সমীক্ষা অনুযায়ী, গত অর্থবছরে ফ্রিজ রপ্তানি করে বাংলাদেশ আয় করেছে ১৭৫ কোটি টাকা। বিগত বছরের তুলনায় এক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি ভালো। বাংলাদেশের বেশিরভাগ ফ্রিজ রপ্তানি হয়ে থাকে ভারতে। মিনিস্টার ফ্রিজ এখনো রপ্তানি শুরু করেনি তবে খুব শিগগিরই আমরা আন্তর্জাতিক বাজারে পা রাখতে যাচ্ছি।

ঈদেই সবচেয়ে বেশি ফ্রিজ বিক্রি হয়। এবারের ঈদে ক্রেতাদের জন্য কী ধরনের সুবিধা দিচ্ছেন?

সাধারণত কোরবানির ঈদের সময় ফ্রিজের চাহিদা বেশি থাকে। ঈদুল আজহাকে ঘিরে আমাদের প্রস্তুতি এখন পর্যন্ত বেশ ভালো। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবারের চাহিদা তুলনামূলক বেশি। কারণ, এবার অত্যধিক গরমের কারণে ফ্রিজের চাহিদা গ্রাহকদের মধ্যে বেশি। এছাড়াও, গ্রাহকদের জন্য মিনিস্টার নিয়ে এসেছে ‘মিনিস্টার ফ্রিজ কিনুন, হাম্বা জিতুন’ অফার যেখানে ফ্রিজ কিনলেই গ্রাহক পাবেন স্ক্র্যাচ কার্ড আর কার্ড ঘষলেই নিশ্চিত পাওয়া যাবে ফ্রি গরু অথবা ফ্রিজ কিংবা আকর্ষণীয় মূল্যছাড়সহ যেকোনো নিশ্চিত উপহার।

দেশে ফ্রিজের বাজারের প্রবৃদ্ধি কতটা?

পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশে ফ্রিজের বাজার এখন প্রায় দুই বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। বাংলাদেশের ফ্রিজের বাজারের বার্ষিক গড় প্রবৃদ্ধি হবে ৫ থেকে ১০ শতাংশ। গত কয়েক বছরে মিনিস্টারের মার্কেটও বেড়েছে। রেফ্রিজারেটরের চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশই বর্তমানে পূরণ হয় দেশীয় কোম্পানির রেফ্রিজারেটর দ্বারা। বাকি ২০ শতাংশ আমদানির ওপর নির্ভর করে। মিনিস্টার রেফ্রিজারেটর দেশীয় রেফ্রিজারেটরের মার্কেটে বিশেষ অবদান রাখছে। আমরা আশা করছি খুব শিগগিরই আন্তর্জাতিক মার্কেটেও পদার্পণ করছি।

বিক্রয়োত্তর সেবা নিয়ে গ্রাহকরা দুশ্চিন্তায় থাকেন। এক্ষেত্রে আপনাদের সেবা কেমন?

সারা দেশে আমাদের ৩০০টিরও বেশি সার্ভিস পয়েন্ট এবং নিজস্ব কল সেন্টারের মাধ্যমে মিনিস্টার ২৪/৭ গ্রাহক পরিষেবা, ওয়ারেন্টি কভারেজ এবং নির্ভরযোগ্য বিক্রয়োত্তর সহায়তা প্রদান করে থাকে। যেকোনো যান্ত্রিক ত্রুটি হলে গ্রাহককে দ্রুত সার্ভিস দিতে একটি দক্ষ টিম সার্বক্ষণিক কাজ করছে। বাজারে শুধুমাত্র মিনিস্টারই দিচ্ছে ১২ বছর পর্যন্ত কম্প্রেসর গ্যারান্টি সেবা।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত