সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ৩ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

শপথে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি একাধিক বৈঠক প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট : ১০ জুন ২০২৪, ০১:৫৫ এএম

টানা তৃতীয়বারের মতো ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন নরেন্দ্র মোদি। আড়ম্বরপূর্ণ এ শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শপথ অনুষ্ঠানের পর শেখ হাসিনাসহ আমন্ত্রিত বিশেষ অতিথিরা দিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনে দেশটির রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর দেওয়া ভোজসভায় অংশ নেন। এর মধ্যে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর একান্তে একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে নিয়ে রাষ্ট্রপতি ভবনে শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেন শেখ হাসিনা। ভারতীয় গণমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারে দেখা যায়, সুসজ্জিত গাড়িবহরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে আসা হয় রাইসিনা হিলে। বঙ্গবন্ধুর নাতনি ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) আঞ্চলিক পরিচালক সায়মা ওয়াজেদকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশের সরকারপ্রধান যখন রাষ্ট্রপতি ভবনে প্রবেশ করছিলেন, সেই সময় ভারতের সরকারি টিভি ও রেডিওতে ঢাকা-দিল্লি মধ্যকার সম্পর্ক এবং মোদি সরকারের ‘প্রতিবেশী প্রথম নীতি’র কথা বারবার বলা হচ্ছিল। বাংলাদেশের সঙ্গে স্বাধীনতা উত্তর দেশটির সম্পর্ক তুলে ধরা হয়।

বর্ণাঢ্য এ আয়োজনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এবং বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটুও উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিবেশী দেশ ও ভারত মহাসাগর অঞ্চল থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া যে বিশিষ্ট অতিথিদের শপথ আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহে, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুইজ্জু, সেশেলসের ভাইস প্রেসিডেন্ট আহমেদ আফিফ, মরিশাসের প্রধানমন্ত্রী প্রবীণ কুমার জগন্নাথ, নেপালের প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কমল দাহাল প্রচন্ড এবং ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে।

এর আগে গত শনিবার শেখ হাসিনা দিল্লি পৌঁছান। তাকে স্বাগত জানাতে দিল্লির বিভিন্ন স্থানে টানানো হয়েছে শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদির ছবি সংবলিত ব্যানার। ওই ব্যানারে লেখা, ‘ভারতে স্বাগতম’।

ভারতীয় সূত্র জানিয়েছে, গতকাল মোদির শপথ অনুষ্ঠানে আট হাজারেরও বেশি উচ্চপদস্থ ব্যক্তি যোগ দেন। পরে তারা রাষ্ট্রপতি ভবনে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর দেওয়া ভোজসভায় অংশ নেন।

ভুটান থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানির আগ্রহ পুনর্ব্যক্ত করেছেন শেখ হাসিনা : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দিল্লিতে গতকাল বিকেলে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগে। ভুটান থেকে ভারতের মধ্য দিয়ে জলবিদ্যুৎ আমদানিতে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন শেখ হাসিনা।

তিনি ভুটানের প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, ‘একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি প্রয়োজন এবং আমরা এরই মধ্যে ভারতের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছি।’ সাক্ষাৎ শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ সেখানে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। ভুটান বাংলাদেশে জলবিদ্যুৎ রপ্তানির জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে বলে জানান তিনি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, শেখ হাসিনা ভুটানের প্রধানমন্ত্রীকে বলেছেন, ভারতীয় ভূখণ্ডের মধ্য দিয়ে ভুটান থেকে বিদ্যুৎ আনতে একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি প্রয়োজন এবং বিষয়টি এরই মধ্যে ভারতের নজরে আনা হয়েছে। বার্ন ইউনিট নির্মাণ এবং এক বছরের জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান শেরিং তোবগে।

এ সময় ভুটানের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর একমাত্র কন্যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক সায়মা ওয়াজেদের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং তার সাম্প্রতিক ভুটান সফরের কথা উল্লেখ করেন বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা প্রসঙ্গে পৃথক এক সংবাদ সম্মেলনে ভুটানের প্রধানমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব নাঈমুল ইসলাম খান বলেন, তিনি (ভুটানের প্রধানমন্ত্রী) সবসময় বাংলাদেশের কথা মনে রাখেন এবং চিন্তা করেন। ভুটানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নয়াদিল্লিতে অবস্থানকালে জিমে যাওয়ার পথে বাংলাদেশ হাইকমিশন দেখি। এটি আমাকে সবসময় বাংলাদেশের কথা মনে করিয়ে দেয়।’

এর আগে গতকাল সকালে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বর্ষীয়ান নেতা লালকৃষ্ণ আদভানির সঙ্গে তার বাড়িতে গিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারতের রাজধানী দিল্লিতে এ সাক্ষাৎ হয়। এ সময় তারা সৌহার্দ্য বিনিময় ও স্মৃতি রোমন্থন করেন।

ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. মুস্তাফিজুর রহমানের বরাত দিয়ে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস জানায়, বৈঠকে উভয় নেতা তাদের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কথা বলেন।

৯৬ বছর বয়সী এল কে আদভানি বিজেপি প্রতিষ্ঠার পর থেকে জেনারেল সেক্রেটারি ও পরে দলটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৮৮ সালে তিনি বিজেপি সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হন। ২০০২ সাল থেকে ২০০৪ পর্যন্ত ভারতের উপপ্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন আদভানি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত