শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

রেজিস্ট্রেশন ব্যয় কমানোর দাবি রিহ্যাবের

আপডেট : ১০ জুন ২০২৪, ০২:২৪ এএম

দেশের আবাসন শিল্প রক্ষায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে জমি ও ফ্ল্যাটের রেজিস্ট্রেশন ব্যয় কমানোসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)। গতকাল রবিবার দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা সরকারের প্রতি এসব দাবি জানান।

রিহ্যাব সভাপতি মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার পূরণের স্বার্থে আমরা আবাসন খাতকে গতিশীল করার আহ্বান জানাই। মানুষ নিরাপদে বসবাসের জন্য মাথা গোঁজার ঠাঁই চায়। সবার জন্য আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য জাতীয় বাজেট পাসের আগে আমাদের কিছু দাবি আছে। সেসব দাবি বিবেচনার আহ্বান জানাই। আমাদের দাবিগুলো হচ্ছে রিয়েল এস্টেট সেক্টরের অবস্থা বিবেচনায় রেখে আবাসন ব্যবসায়ীদের আয়কর হ্রাস করা; সেকেন্ডারি মার্কেটের প্রচলন করা; মধ্যবিত্তদের ফ্ল্যাট ক্রয়ে সিঙ্গেল ডিজিট সুদে ক্রেতাদের হোম লোন প্রদানের ব্যবস্থা করা এবং নির্মাণসামগ্রীর মূল্য হ্রাস করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

তিনি আরও বলেন, আমাদের দাবিগুলো বাজেটে সম্পৃক্ত করা হলে এ খাত সরকারের রাজস্ব আয়ে ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে এবং ৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন ঝুঁকিমুক্ত হবে। কারণ নতুন সম্পদ সৃষ্টি প্রবৃদ্ধিকে সরাসরি ধনাত্বক করে। অন্যথায় এ খাতের সঙ্গে যুক্ত সব ব্যবসায়ী মারাত্মক সমস্যার মুখোমুখি হবে। এতে দেশ অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে নির্মাণসামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধি, নিবন্ধন ব্যয়, স্বল্প ও মধ্যবিত্ত নাগরিকদের জন্য হাউজিং লোন সম্পর্কে তেমন কোনো আলোচনা নেই। দেশের বৃহত্তর অর্থনীতির স্বার্থে জিডিপিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা আবাসন খাতকে গতিশীল করতে সরকারের যে ধরনের নীতি-সহায়তা দরকার ছিল তা বাজেটে দৃশ্যমান হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে রিহ্যাব সভাপতি বলেন, আবাসন খাতে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ নৈতিকভাবে সঠিক না হলেও এটি সময়োপযোগী। প্রস্তাবিত বাজেটের এ সিদ্ধান্তের ফলে আবাসনে বিনিয়োগ আসবে, সরকারের রাজস্ব বাড়বে। এ টাকা এলে মূল ধারার অর্থনীতিতে যুক্ত হচ্ছে। এ টাকার অস্তিত্ব আছে। সুতরাং সে টাকাটা পড়ে থেকে কোনো লাভ নেই। এটা বিনিয়োগ করলে সরকারেরই লাভ। এ টাকা যদি মূলধারায় নিয়ে না আসেন, তাহলে তো টাকা পাচার হয়ে যাবে। তাতে কার ক্ষতি? বরং মন্দের ভালো এটা যে, দেশে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, একজনকে ১৫ শতাংশ এবং আরেকজনকে ৩০ শতাংশ ট্যাক্স দিয়ে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এটা হয়তো উচিত না। কিন্তু যদি একজনকে টেক্সনেটের আওতায় নিয়ে আসা হয়, টিনের আওতায় নিয়ে আসা হয়, ভবিষ্যতে তো তাকে ট্যাক্স দিতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে রিহ্যাবের সহসভাপতি এম এ আউয়াল, মোহাম্মদ আক্তার বিশ্বাস, আবদুর রাজ্জাক, দেলোয়ার হোসেন, প্রেস অ্যান্ড মিডিয়া স্ট্যান্ডিং কমিটির পরিচালক মুহাম্মদ লাবিব বিল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত