শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

কট্টর ডানদের দাপট ইউরোপে

আপডেট : ১১ জুন ২০২৪, ০১:৩৭ এএম

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট নির্বাচনে কট্টর ডানপন্থি দলগুলো বড় সাফল্য পেয়েছে। চার দিনের এই নির্বাচন গত রবিবার শেষ হয়। ৭২০ আসনের এই পার্লামেন্টে মধ্যপন্থি, উদার ও সমাজতান্ত্রিক দলগুলো মিলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে যাচ্ছে। কিন্তু ফ্রান্স, জার্মানি, অস্ট্রিয়ার নেতাদের জন্য এই নির্বাচনের ফলাফল একটা বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে। অবশ্য মধ্যপন্থিদের জয় ধরে রাখার ক্ষেত্রে তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না।

জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে বলছে, ফ্রান্সে ডানপন্থি মেরিন লে পেন প্রতিষ্ঠিত ন্যাশনাল র‌্যালি পেতে যাচ্ছে প্রায় ৩৩ শতাংশ ভোট। দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর রেনেসাঁ পার্টি পেতে যাচ্ছে ১৫ শতাংশ ভোট। এই ফলাফল দেখে আগাম জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন মাখোঁ। তিনি দেশটির পার্লামেন্ট বিলুপ্ত ঘোষণা করেছেন। এই পদক্ষেপকে মাখোঁর জন্য একটি বড় রাজনৈতিক ঝুঁকি হিসেবে দেখা হচ্ছে। মাখোঁর মতো জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎজের জন্যও এই নির্বাচন দুঃসংবাদ হয়ে এসেছে। নির্বাচনে তার সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি সবচেয়ে বাজে ফল করেছে। অতি ডানপন্থি অলটারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি) দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে। অস্ট্রিয়ায় অতি ডানপন্থি ফ্রিডম পার্টি প্রায় ২৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন রক্ষণশীল পিপলস পার্টি ২৪ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে। ভালো ফল করেছে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির ব্রাদার্স অব ইতালি।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট নির্বাচনে ডানপন্থিদের উত্থানকে উদ্বেগের কারণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। বিশ্ব জুড়ে ইউরোপীয় পার্লামেন্টকে ইউরোপীয় জাতিসত্তার আয়না বলা হয়ে থাকে। ইউরোপীয় পার্লামেন্ট নির্বাচনে কোনো দল  থেকে ব্যক্তিবিশেষ সরাসরি ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় করতে পারেন না। শুধু দলভিত্তিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দল ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য হওয়ার জন্য তালিকা তৈরি করে। যেকোনো দল তাদের প্রাপ্ত ভোটের অনুপাত অনুযায়ী সংসদ সদস্যপদ লাভ করে।

অবশ্য ফলাফল থেকে বোঝা যাচ্ছে, উরসুলা ফন ডেয়ার লাইয়েন ২০২৯ পর্যন্ত ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট থাকবেন। গতকাল তিনি বলেছেন, ‘আমরা ইউরোপীয় নির্বাচন জিতছি। আমরা এখনো পর্যন্ত সবচেয়ে শক্তিশালী দল। আমরা স্থায়িত্বের প্রতীক। মধ্যপন্থিরা জয় ধরে রাখতে পেরেছে।’

২৭টি দেশের সরকারি প্রোজেকশন দেখাচ্ছে, উরসুলার মধ্য-ডানপন্থি ইউরোপিয়ান পিপলস পার্টি (ইপিপি) ৭২০টি আসনের ইইউ পার্লামেন্টের ১৯১টি আসনে তারা জিতেছে। দ্বিতীয় স্থানে আছে মধ্য-বামপন্থি সোশ্যালিস্ট অ্যান্ড ডেমোক্র্যাটরা (এস অ্যান্ড ডি)। তাদের শক্তি সামান্য কমলেও তারা ১৩৫টি আসন পেয়েছে। তৃতীয় স্থানে আছে উদারপন্থি রিনিউ গ্রুপ, তারা পেয়েছে ৮৩টি আসন। উরসুলা বলেছেন, ‘আমরা চরমপন্থিদের বিরুদ্ধে দুর্গ গড়ে তুলব।’

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, যে উদ্দেশ্য ও ধারণা থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন গঠিত হয়েছিল, তা ছিল পারস্পরিক বাণিজ্য ও সহযোগিতার সম্প্রসারণ। ইউরোপ জুড়ে সাধারণ বাজার সৃষ্টি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার পর ইউরোপীয় একত্রীকরণকে আজও একটি শান্তি প্রকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু অনেক দেশে জাতীয়তাবাদী ও পপুলিস্টরা শক্তি অর্জন করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ইউরোপীয় নির্বাচনে রক্ষণশীলদের এই ধারা অব্যাহত থাকবে। সে ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সামনে আরও চ্যালেঞ্জ আসছে। প্রায় দুই বছর ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধ ইউরোপীয় ইউনিয়নকে নতুন সংকটের মধ্যে ফেলেছে। আগামী বছরগুলোয় এই জোটকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে কী আকারে এবং কী পরিমাণে ইউক্রেনকে সমর্থন অব্যাহত রাখা সম্ভব।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউরোপের এখন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমাতে কী পন্থা নেওয়া প্রয়োজন, সে বিষয়েও কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের আগ্রাসন নিয়েও ইইউ জোটে একমত হওয়ার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ হবে এই ভোটের ফল।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত