মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ফিফা র‌্যাংকিংয়ে উন্নতির আশা

আপডেট : ১১ জুন ২০২৪, ০২:০৬ এএম

বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপ যৌথ বাছাইয়ের দ্বিতীয় পর্বের ‘আই’ গ্রুপে বাংলাদেশের অবস্থান সবার নিচে। সংগ্রহে একটা মাত্র পয়েন্ট। সেটা যাদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া, আজ সেই লেবাননকে হারানোর কঠিন স্বপ্নপূরণের লক্ষ্যে দোহার খলিফা আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে নামবে বাংলাদেশ। লেবাননের ফিফা র‌্যাংকিং ১২০, বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে ৬৪ ধাপ। গত সপ্তাহে সর্বশেষ ম্যাচে লেবানন ফিলিস্তিনের কাছ থেকে আদায় করেছে এক পয়েন্ট। তিন পয়েন্ট নিয়ে তারা গ্রুপের তিনে। তাদের পেছনে ফেলতে তাই বাংলাদেশের জয়ের বিকল্প নেই। অতীতে হারানোর অভিজ্ঞতা আছে, আছে ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়াকে কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়ার অনুপ্রেরণা। সে সব পুঁজি করে জয়ের স্বপ্ন বুনেই নামবে হাভিয়ের কাবরেরার দল।

দুটি দলই ছিটকে গেছে বিশ্বকাপের তৃতীয়পর্ব ওঠার রেস থেকে। তাদের ভাবি গন্তব্য এশিয়ান কাপের তৃতীয় পর্ব। তবে গ্রুপে তৃতীয় হলে তৃতীয়পর্বের ড্রয়ে খানিকটা সুবিধে মিলবে। শুধু এ কারণেই বাংলাদেশ জিততে চাচ্ছে না। তারা তিন পয়েন্ট পেতে চায় নিজেদের উন্নতির ছাপ রাখতে।

অন্যদিকে লেবানন চাইবে এই পর্বের বাছাইয়ে প্রথম জয়ের স্বাদ নিতে। কিংস অ্যারেনায় বাংলাদেশকে হারাতে না পেরেই আসলে সরাসরি এশিয়ান কাপে খেলার সুযোগ হাতছাড়া করে দলটি। সেই ক্ষতে প্রলেপ দিতে ভাড়াটে ভেন্যুতে লেবানিজরা চাইবে বাংলাদেশের রক্ষণ ভেঙে চুরমার করতে। লেবানিজ সেই সুনামি রুখে বাংলাদেশকেও ছুটতে হবে গোলের জন্য। ৬ জুন ঘরের মাঠে প্রবল পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়াকে গোলৎসব করতে না দেওয়ার আত্মবিশ্বাস তাদের সঙ্গী হয়েছে। আরও সঙ্গী হয়ে আছে লেবাননকে ১-১-এ রুখে দেওয়া, ২০১১ সালে হারিয়ে দেওয়ার সুখস্মৃতি। তবে অতীতে তাকাতে চান না বাংলাদেশ কোচ হাভিয়ের কাবরেরা। বরং তিনি আস্থা রাখতে চান তার অধীনে শিষ্যদের গেল কয়েক মাসের কঠোর পরিশ্রম ও লড়াকু মনোভাবে।

এক বছরের মধ্যে দুটি দলের তৃতীয়বারের মতো সাক্ষাৎ হতে যাচ্ছে। গত বছর জুনে ভারতের বেঙ্গালুরুতে হওয়া সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ভালো খেলেও বাংলাদেশকে হারতে হয় ২-০ ব্যবধানে। এরপর নভেম্বরে কিংস অ্যারেনায় যৌথ বাছাইয়ের দ্বিতীয় ম্যাচে শেখ মোরসালিন জাদুতে ১-১। আজ দোহায় বাংলাদেশের সামনে সাফের হার ফিরিয়ে দেওয়ার সুযোগ। কাবরেরা এই ম্যাচ দিয়ে পুরো এশিয়াকেই দিতে চান একটা বার্তা, ‘নিজেদের অবস্থান থেকে দুই ধাপ এগিয়ে যাওয়ার উপযুক্ত সময়ে দাঁড়িয়ে আছি আমরা। আমাদের সামনে খুব ভালো সুযোগ রয়েছে। আসছে প্রতিযোগিতাগুলোতে মুখোমুখি হতে যাওয়া দলগুলোকে বার্তা দেওয়ার যে এশিয়ায় আমরাও একটি কঠিন দল। আমরা জানি যে এখান থেকে পয়েন্ট নিতে পারলে আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিংয়ে আমরা কিছুটা এগিয়ে যেতে পারব। তাতে ভবিষ্যৎ টুর্নামেন্টগুলোতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।’

চেনা প্রতিপক্ষ বলেই কাবরেরা জয়ের ছক কষছেন নিজের মতো করে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে যে কৌশলে খেলেছে বাংলাদেশ, সেটা যে এই ম্যাচে থাকবে না তা তো বোঝাই যায়, ‘এই এক বছরে তৃতীয়বারের মতো লেবাননের মুখোমুখি হতে যাচ্ছি। আমরা ওদের সম্পর্কে খুব ভালোভাবেই জানি। তবে পরিস্থিতি কিছুটা জটিল, কেননা এ নিয়ে তিনবার তারা কোচ বদলেছে। আগের দুবারের মতোই এবারও লেবাননের ডাগআউটে দেখব নতুন কোচ। আগের ম্যাচগুলোতে যেভাবে তারা খেলেছে, এই ম্যাচে সেভাবেই খেলবে এটা প্রত্যাশা করা ঠিক নয়। এবার সম্ভবত শারীরিক শক্তি নির্ভর এক লেবাননকে দেখা যাবে।’

প্রায় ৪৬ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার খলিফা আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ২০২২ বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বের ছয়টি, দ্বিতীয়পর্বের একটি এবং তৃতীয়স্থান নির্ধারণী ম্যাচটি হয়েছে। হাজারো প্রবাসী বাংলাদেশি দোহায় থাকার সুবাদে ধারণা করা হচ্ছে লেবাননের ভাড়াটে মাঠেও বাংলাদেশের জন্য থাকবে অকুণ্ঠ সমর্থন। অতীতের অনুপ্রেরণার সঙ্গে সমর্থকদের ভালোবাসা যোগ করে একটা অন্যরকম রাত তো উপহার দিতেই পারেন তপু বর্মণ, রাকিব হোসেন, মোরসালিনরা।

   
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত