শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

সমালোচনার শেলে বিদ্ধ পাকিস্তান

আপডেট : ১১ জুন ২০২৪, ০২:০৬ এএম

দ্বিপক্ষীয় সিরিজ হয় না বলেই বৈশ্বিক আসরগুলোর দিকে মুখিয়ে থাকতে হয় ক্রিকেটপ্রেমীদের। ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় দ্বৈরথ ‘ভারত-পাকিস্তান’ ম্যাচটিও তাই ওয়েস্ট ইন্ডিজে না করে নবাগত যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজন করে আইসিসি। মাঠের খেলা ছাপিয়ে নিউ ইয়র্কের নাসাউ কাউন্টি ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ড্রপড-ইন পিচই যেন কেড়ে নিল সব আলো। রবিবার রাতে ভারতকে ১১৯ রানে থামিয়ে দিয়ে নিশ্চিত ফেভারিট অবস্থানে ছিল পাকিস্তান। টিভি পর্দায় দেখানো হচ্ছিল ভারতের জয়ের সম্ভাবনা ৮ শতাংশ এবং পাকিস্তানের ৯২ শতাংশ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জেতা ম্যাচটি মাঠেই ফেলে এলো পাকিস্তান। সমর্থকদের হৃদস্পন্দনের ওঠানামার ম্যাচটি শেষ অব্দি ৬ রানে জেতে ভারত। যার সবচেয়ে উৎকৃষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ভন। তিনি বলেছেন, ‘কখনো কখনো সত্যিকার অর্থেই বাজে পিচও সেরা ম্যাচ উপহার দেয়... এটা (ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ) সেগুলোরই একটি।’

১৪ থেকে ১৯ ওভারে পাকিস্তান একটি বাউন্ডারিও মারতে পারেনি। বরং একের পর এক উইকেট হারিয়ে আরও চাপে পড়েছে। অধিনায়ক বাবর আজম ব্যাখ্যা দিয়েছেন, ‘প্রথম দশ ওভারের পর ওরা (ভারত) ভালো বোলিং করেছে। কিন্তু এরপর একের পর এক উইকেট হারিয়েছি, বেশ কিছু ডট বল হয়েছে। এতে চাপ বেড়েছে। আর (শেষ মুহূর্তে) টেলএন্ডারদের কাছ থেকে তো খুব বেশি আশা করা যায় না।’

৪৪ বলে সর্বোচ্চ ৩১ রান করা মোহাম্মদ রিজওয়ান আউট হওয়ার পরেই পাল্টে যায় খেলার চিত্র। এরপর পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ৩৫ বলে ৪০ রানের। সেই সমীকরণ মেলাতে না পারায় বেশ ক্ষুব্ধ হয়েছেন পাকিস্তানের কিংবদন্তি ক্রিকেটার ওয়াসিম আকরাম। বলেছেন, ‘ওরা ১০ বছর ধরে ক্রিকেট খেলছে।  রিজওয়ানের মধ্যে কোনো গেম অ্যাওয়ারনেসই (ম্যাচ পরিস্থিতি বোঝা) নেই। তার জানার কথা বুমরার হাতে বল তুলে দেওয়া হয়েছে উইকেটের জন্য। কিন্তু রিজওয়ান বড় শট খেলতে গেল এবং আউটও হলো।’ বিরক্ত আকরাম আরও বলেন, ‘পাকিস্তানি খেলোয়াড়রা মনে করে, তারা ভালো না করলে কোচ বরখাস্ত হবে। তাদের কিছু হবে না। সময় এসেছে কোচকে রেখে পুরো দলই বদলে ফেলার।’ এমন হারকে রীতিমতো অপমান হিসেবে নিয়েছেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান মহসিন নাকভি। যুক্তরাষ্ট্র থেকেই তিনি বলেছেন, ‘মনে হয়েছিল পাকিস্তান ক্রিকেট দলের জন্য মাইনর সার্জারিই (ছোটখাটো অস্ত্রোপচার) যথেষ্ট। কিন্তু এ ধরনের বাজে পারফরম্যানসের পর এটা পরিষ্কার যে, দলে মেজর সার্জারি দরকার।’

হারের জন্য অবসরফেরত ইমাদ ওয়াসিমের ৬৫.২১ স্ট্রাইক রেটের ইনিংসটিকে দায় দিয়েছেন সাবেক অধিনায়ক সেলিম মালিক। ইমাদকে দুষতে গিয়ে অন্য রকম এক ইঙ্গিতই দিয়েছেন মালিক, ‘ইনিংসটির দিকে তাকান, দেখে তো মনে হয়েছে সে রান তাড়ায় সবকিছু কঠিন করে তুলতে বল নষ্ট করেছে।’ পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডি এক্সপ্রেস খ্যাত সাবেক তারকা পেসার শোয়েব আখতার বলেছেন, ‘ম্যাচ দেখে হতাশ ও দুঃখিত। সারা দেশ মর্মাহত। দেশের জার্সি পরে নামা মানে দেশকে গর্বিত করার সুযোগ পাওয়া। এই সুযোগ হেলায় হারাল পাকিস্তান। জয়ের জন্য নিজের সেরাটা উজাড় করে দিতে হয়। আমার মনে হয় পাকিস্তান জেতার যোগ্য দলই নয়।’

এত ক্ষোভের পেছনের কারণটুকুও স্পষ্ট। প্রথম ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হারের পর এই সুযোগ নষ্ট করায় গ্রুপ পর্বেই বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ার শঙ্কায় তিনবারের ফাইনালিস্টরা।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত