সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ৩ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

চার রানের আক্ষেপ!

আপডেট : ১২ জুন ২০২৪, ০১:৪৩ এএম

কেশব মহারাজের বলে মাহমুদউল্লাহর লং অন দিয়ে মারা শট ছক্কা হলে রবিবার দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জিতে যেত বাংলাদেশ। হয়নি প্রোটিয়া অধিনায়ক এইডেন মার্করাম সীমানার ধারে লাফিয়ে উঠে বলটি ধরে নেওয়ায়। ১১৪ রানও করতে না পারা নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে যেমন, তেমনি বিতর্কিত আম্পায়ারিং নিয়েও কথা হচ্ছে। অন্তত দুটি সিদ্ধান্ত অনুকূলে পেলে বাংলাদেশের জন্য সমীকরণ এত কঠিন হতো না বলেই মন্তব্য করেছেন অনেক ক্রিকেট বিশ্লেষকই।

একটি ঘটনা বাংলাদেশের ইনিংসের ১৭তম ওভারের। ওর্টনিল বার্টম্যানের করা দ্বিতীয় বল মাহমুদউল্লাহর পায়ে লেগে চলে যায় বাউন্ডারির বাইরে। এর আগেই অবশ্য এলবিডাব্লিউয়ের আবেদনে আঙুল তুলে দেন অস্ট্রেলীয় আম্পায়ার স্যাম নোগাস্কি। এরপর মাহমুদউল্লাহ রিভিউ নিলে দেখা যায়, বল স্টাম্পে আঘাত করেনি। আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত তাই পাল্টে যায়। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী, আম্পায়ার আউট দেওয়ার পর বল ডেড হয়ে যাওয়ায় লেগ বাই হিসেবে ৪ রান পায়নি বাংলাদেশ।

আম্পায়ারের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আক্ষেপ শোনা গেছে ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে আশা তাওহীদ হৃদয়ের কণ্ঠে, ‘সত্যি বলতে, সেটি ভালো সিদ্ধান্ত ছিল না। টাইট ম্যাচে আমাদের জন্য ভালো কিছু ছিল না সেটি। আমার মতে, আম্পায়ার আউট দিয়েছেন, কিন্তু আমাদের জন্য বিষয়টা কঠিন ছিল। ওই চারটি রান পেলে ম্যাচের চেহারা ভিন্ন হতে পারত। আমার আর কিছু বলার নেই। নিয়ম তো আইসিসি করেছে, এটা তো আসলে আমাদের হাতে নেই। কিন্তু ওই সময় ওই চারটি রান খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল আমাদের জন্য।’ সেই বলটির আগে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ২৩ বলে ২৬ রান। বাউন্ডারি পেয়ে গেলে বাংলাদেশের দরকার হতো ২২ বলে ২২ রান।

বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল ভীষণ ক্ষুব্ধ সিদ্ধান্তটি নিয়ে, ‘যদি ব্যাটসম্যান আউট না হয়, আর বল যদি তার থাইপ্যাডে বা অন্য কোথাও লেগে বাউন্ডারির বাইরে চলে যায়, তবে সে ক্ষেত্রে রান দেওয়া উচিত। যদি সে আউট না হয় আরকি। এটা আমি কঠিনভাবে বিশ্বাস করি।’

নিউজিল্যান্ডের সাবেক পেসার সাইমন ডুল প্রশ্ন তুলেছেন আম্পায়ারিংয়ের মানসিকতা নিয়ে, ‘একেবারে বন্দুকধারীর মতো দ্রুতগতিতে আম্পায়ার হাত তুলেছে। এটা বাজে সিদ্ধান্ত ছিল। আর আমাদের বলতেই হবে পুরো টুর্নামেন্টেই আমরা খুব ভালো কিছু আম্পায়ারিং দেখেছি। কিন্তু এইক্ষেত্রে সেটা ছিল না। তারচেয়ে বড় কথা, লেগবাইয়ে চার রান হওয়া দরকার ছিল।’ 

ভারতের সাবেক ক্রিকেটার, ধারাভাষ্যকার সঞ্জয় মাঞ্জরেকারের মতও একই রকম, ‘আম্পায়ার কি সবকিছু শেষ হয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারেন না? আম্পায়ার চাইলে বলটা বাউন্ডারি লাইন অতিক্রম করা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারেন এবং তারপর তার আঙুল তুলতে পারেন বা বলতে পারেন যে আউট হয়নি। এরপর সেটা আপনি রেকর্ড করলেন এবং রিভিউয়ের পর যা হওয়ার, তা-ই হবে।’

এমসিসির আইনের ২০.১.১.৩ ধারায় বলা আছে, কোনো খেলোয়াড়ের রিভিউ নেওয়ার ফলে যদি আম্পায়ারের দেওয়া আউটের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়ে নট আউট হয়, তাহলে প্রথম সিদ্ধান্ত দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বল ডেড হয়ে যাবে। অন ফিল্ড আম্পায়ারের আসল সিদ্ধান্ত নট আউট থাকলে ব্যাটিং পক্ষ যে রানের সুবিধা পেত, রিভিউ পরিবর্তনের সুফল পেলেও ব্যাটিং পক্ষ এ ক্ষেত্রে সেটা পাবে না, যদি না সেটা নো বল হয়।

আম্পায়ারিংয়ের আরেকটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ছিল তাওহীদ হৃদয়ের আউটটি নিয়ে। পরের ওভারেই কাগিসো রাবাদার প্রথম বল লেগ সাইডে খেলতে গেলে প্যাডের ওপরের দিকে লাগে। বোলার আপিল করেননি, কিন্তু উইকেটকিপারের আপিলে আঙুল তুলে দেন রিচার্ড ইলিংওয়ার্থ। পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক রমিজ রাজা বলেছেন, ‘এমন একটি আউট দিয়ে দিয়েছেন আম্পায়ার, যেটি না দিলেও পারতেন। সেটা ছিল আম্পায়ার্স কল এবং বল লেগেছে অনেক ওপরে। এরপর লেগ সাইড দিয়ে বল চলেও যাচ্ছিল। মনে হচ্ছে ভাগ্যও বাংলাদেশের পক্ষে ছিল না।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত