শনিবার, ২২ জুন ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ঝুঁকি নিয়ে দাঁড়িয়ে ৫০ ভবন

আপডেট : ১২ জুন ২০২৪, ০২:০৮ এএম

আগে দুই দফায় ধসে পড়ে জরাজীর্ণ তিনতলা ভবনের কিছু অংশ। সবশেষ গত ৫ জুন ফের ধসে পড়েছে ভবনের অর্ধেক। এতে প্রাণহানিসহ বড় ধরনের ক্ষতি না হলেও মানুষের মধ্যে চরম অতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাটি ঘটে জনবহুল খুলনা মহানগরীর একদম ডাকবাংলা মোড়েই। যার হোল্ডিং নম্বর ৮৩।

শুধুই ৮৩ নম্বর হোল্ডিংয়ের ভবনই নয়; মহানগরী জুড়ে এমন ৫০টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন রয়েছে। এর মধ্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ২৯টি ও ২১টি কম ঝুঁকিপূর্ণ। বসবাসের অনুপযোগী পরিত্যক্ত এসব ভবন অপসারণে ২০১০ সালে সংশ্লিষ্ট মালিকদের চিঠি দেওয়া হয়। অথচ ১৩ থেকে ১৪ বছরেও জরাজীর্ণ ভবনগুলো ভেঙে ফেলা হয়নি। অনেক ভবনে এখনো চলছে পরিবার নিয়ে মানুষের বসবাস। পরিচালিত হচ্ছে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও। চলতি বর্ষা মৌসুমে বড় ধরনের দুর্ঘটনার শঙ্কা রয়েছে।

করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, অধিক ঝুঁকিপূর্ণের তালিকায় রয়েছে, জেলা প্রশাসকের মালিকানাধীন হেলাতলা মোড়ের ২৮ নং জিগজাগ রোড ও ১৬ নম্বর জিগজাগ রোড দুটি, ১ নম্বর, ১২ নম্বর, ২১ নম্বর, ২৬ নম্বর, ২৭ নম্বর ও ৪২ নম্বর ওয়েস্ট মেকট রোডে মোট ছয়টি, ১৮ ও ১৯ নম্বর বাজার রোডে দুইটি, হোটেল আফগানিয়া, ৬২ পুরাতন বাজার রোডে একটি, ৩ নম্বর কালিবাড়ী রোডে একটি, ৪ নম্বর, ১৯ নম্বর ও ২৬ নম্বর পুরাতন যশোর রোডে তিনটি, ৬২/৮ নম্বর, ৭০ নম্বর, ৯ নম্বর ও ১০ নম্বর বাজার রোডে চারটি, ১০৬১ যশোর রোডে একটি, ১৩৭ নম্বর স্যার ইকবাল রোডে একটি। গণপূর্ত বিভাগ-২ এর মালিকানাধীন ১৪ নম্বর রামচন্দ্র দাস লেনে একটি। ব্যক্তি মালিকানাধীন ৫ (ক) পুরাতন যশোর রোডের শ্যামল সিংহ রায়ের বাড়ি ও হাজী ইসমাইল লিংক রোডের সাদেক হোসেনের হাউজ বিল্ডিং ও ১ নম্বর ধর্মসভা রোডে একটি, সোনাডাঙ্গার ছোট বয়রাস্থ ৩১/৩২ নম্বর ডাক্তারপাড়ার জেবুন্নাহারের বাড়ি, ৮৩ নম্বর লোয়ার যশোর রোডের হাজী ইমদাদুল হকের বাড়ি ও ৮ নম্বর আপার যশোর রোডের সমবায় ভূমি উন্নয়ন ব্যাংক লিমিটেড।

কম ঝুঁকিপূর্ণের তালিকায় রয়েছে, গণপূর্ত-২ এর মালিকানাধীন খালিশপুর হাউজিং এস্টেটের সেন্ট্রাল ওয়েস্ট ব্লক-বি/১৫, ৬১ সেন্ট্রাল ব্লক, ৪৫ সেন্ট্রাল ব্লক, ১/২৭ ইস্ট ব্লক, ২৮ সেন্ট্রাল সাউথ ব্লক, ৪৫/৪৬ ইস্ট ব্লক, ১১ ইস্ট ব্লক, পি-১৭/১৮, ১৮ ইস্ট ব্লকে মোট নয়টি, ১৪২ শেরে বাংলা রোডে একটি, ৭১ খানজাহান আলী রোডে একটি, ২৫ সাউথ সেন্ট্রাল রোডে একটি, ৫৮/১ পশ্চিম বানিয়াখামার রোডের আলাউদ্দিনের পরিত্যক্ত বাড়ি, ১৩০ শেরে বাংলা রোড ও ২৯ সিমেন্ট্রি রোডে একটি ও ২৬ নম্বর ক্লে রোডে একটি। এ ছাড়া ব্যক্তি মালিকানাধীন ৬ নম্বর কেডি ঘোষ রোডে দুটি, ২ নম্বর ও ১০ নম্বর ওয়েস্ট মেকট রোডে দুটি এবং ৭ নম্বর ভৈরব স্ট্যান্ড রোডে হাজী ইমান উদ্দিন অ্যান্ড সন্স।

ধসে পড়া ৮৩ নম্বর ভবনে সামনে বসে প্রতিদিন জুতা পালিশ করেন কালিপদ দাস। তিনি দেশ রূপান্তরকে জানান, ঘটনার দিন কাজে না আসায় রক্ষা পেয়েছেন। তবে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটির অবস্থান ফুটপাতের একদম পাশেই। এই ফুটপাতে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করে। ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার শঙ্কা ছিল।

খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, জনবহুল এলাকায় দুই যুগ ধরে এসব ঝুঁকিপূর্ণ ভবন রয়েছে। যা প্রতিনিয়ত খসে পড়ছে। ফলে দুর্ঘটনায় জানমালের মারাত্মক ক্ষতি আশঙ্কা রয়েছে। তাই খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, খুলনা সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসনের সম্মিলিত উদ্যোগে ভবনগুলো দ্রুত অপসারণ করা উচিত।

খুলনা সিটি করপোরেশনের বৈষয়িক কর্মকর্তা নুরুজ্জামান তালুকদার বলেন, ২০১০ সালের ২০তম সাধারণ সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভবনগুলো বসবাসের অনুপযোগী ঘোষণা করা হয়। প্রতি ভবনে ঝুঁকিপূর্ণ লেখা সাইনবোর্ডও দেওয়া আছে। সংশ্লিষ্ট মালিকদের চিঠি দেওয়া হয়েছে অপসারণের জন্য। কিন্তু তারা অপসারণ করে না। কারণ ভবনগুলো নিয়ে শরিকানা বিরোধ ও মামলাসহ নানা জটিলতা রয়েছে।

খুলনা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী-২ অমিত কুমার বিশ্বাস বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপসারণের বিষয়টি ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয়ে অনুমোদন মিলেছে। এখন নিলামের মাধ্যমে অপসারণ করা হবে।

খুলনা জেলা প্রশাসক খন্দকার ইয়াসির আরেফিন বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নিয়ে ইতিমধ্যে আলোচনা হয়েছে। অনেক ভবন নিয়ে মামলা রয়েছে। কিন্তু জনস্বার্থে পর্যায়ক্রমে ভেঙে ফেলা হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত