বুধবার, ১৭ জুলাই ২০২৪, ২ শ্রাবণ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ঈদযাত্রায় স্বাস্থ্যঝুঁকি

আপডেট : ১৩ জুন ২০২৪, ১২:৫৯ এএম

ঈদে বাড়ি যাওয়ার আগে কিছু বিষয় জানা থাকলে অনেক রোগ ও দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব। শিশু, বয়স্ক এবং রোগীদের পক্ষে দীর্ঘ যাত্রাপথের ধকল সহ্য করা খুব কঠিন হয়। ঈদযাত্রা সবদিক থেকে নিরাপদ আর নির্বিঘ্ন করতে যা করতে হবে।

পরিধেয় পোশাক : ঈদযাত্রায় গরমের এই সময়ে হালকা আরামদায়ক, সহজে বাতাস চলাচল করতে পারে এমন পোশাক পরিধান করতে হবে। পায়ে নরম জুতা, স্যান্ডেল বা কেডস্ পড়তে হবে। একেবারে নতুন জুতা পরা যাবে না। পায়ে ফোসকা হতে পারে। মেয়েদের হাইহিল বাদ দেওয়াই ভালো।

খাবার নিয়ে সতর্কতা : ঘরের তৈরি খাবার এবং পানির বোতল সঙ্গে রাখুন। যাত্রাপথে বিশুদ্ধ পানি পান করুন। খাবার ও পানিবাহিত রোগপ্রতিরোধে সচেষ্ট থাকুন। বাইরের খাবার, ফলের জুস, চিপস, চকোলেট শিশুদের খেতে দেবেন না।

প্রয়োজনীয় ওষুধ : প্রয়োজনীয় ওষুধ যেমন প্যারাসিটামল, খাবার স্যালাইন, অ্যান্টিহিস্টামিন, ওমিপ্রাজল ইত্যাদি সঙ্গে রাখুন। এছাড়া তুলা, গজ, ব্যান্ডেজ, অ্যান্টিসেপটিক মলম সঙ্গে রাখুন। মোবাইল ফোনে চিকিৎসকের ফোন নম্বর ও ঠিকানা সংগ্রহে রাখুন। শিশুদের বিভিন্ন  মেয়াদি অসুখ যেমন বাতরোগ, অ্যাজমা বা অ্যালার্জি রোগে ভুগছে তার জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ নিতে একদম ভুলবেন না।

 যানবাহনের সতর্কতা : অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে বাস, ট্রেন, লঞ্চে উঠতে চেষ্টা করবেন না। ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ করা থেকে বিরত থাকুন। শিশুরা সব সময় জানালার পাশে বসতে চায়, তাই অতিরিক্ত বাতাসের কারণে ভ্রমণের ঠিক পরেই আক্রান্ত হয় সর্দি-জ্বর অথবা সাধারণ কাশিতে। তাই শিশুদের জানালার পাশে বসা থেকে বিরত রাখুন।

মোশন সিকনেস : অনেক শিশুকে বাসে বা যানবাহনে উঠলে বমি বমি ভাব এমনকি বমি করে দিতে দেখা যায়, সঙ্গে মাথা ঘোরাও

থাকতে পারে যাকে বলে ভ্রমণজনিত মোশন সিকনেস। এই প্রতিরোধে ট্যাবলেট/সিরাপ অটোসিল অথবা স্টিমিটিল জাতীয় ওষুধ ভ্রমণের আধ ঘণ্টা আগে খাওয়ালে এই অসুবিধা থেকে আরাম পাওয়া যায়। এছাড়াও বাস-ট্রেনে চলাচলের সময় শিশুদের চোখ বন্ধ করে রাখলে অথবা ঘুমিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও এই অসুবিধা টের পাওয়া যায় না বললেই চলে।

গর্ভবতী ও বয়স্কদের জন্য সতর্কতা  : গর্ভবতী নারীরা অতিরিক্ত ঝাঁকি হয় এমন পথে ভ্রমণ যত সম্ভব পরিহার করুন। গর্ভবতীদের প্রথম তিন মাস এবং ডেলিভারির দুই অথবা তিন মাস আগে ভ্রমণ এড়িয়ে চলাই ভালো। বয়স্কদের বেলায় যাত্রাপথে তারা যেন একই অবস্থায় বেশিক্ষণ বসে না থাকেন। এই জন্য যানবাহনের মধ্য দিয়ে যেন কিছু চলাফেরা করেন সেই ব্যাপারে খেয়াল রাখুন। বয়স্কদের প্রয়োজনীয় কিছু ওষুধ যেমন ইনহেলার, ইনসুলিন, প্রেসারের ওষুধ ইত্যাদি সঙ্গে নিতে ভুলবেন না।

বাড়ি গিয়ে যা করবেন :  কোরবানির ঈদ তাই পরিমিত খাবার খাবেন। তৈলাক্ত খাবার এড়িয়ে চলবেন, বেশি করে পানি খাবেন সঙ্গে শাকসবজিও খাবেন। অকারণে রোদে ঘোরাফেরা করবেন না এবং বাইরের খাবার খাবেন না।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত