সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে সুপার এইটের সম্ভাবনা জাগালো বাংলাদেশ

আপডেট : ১৪ জুন ২০২৪, ১২:৫১ এএম

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক পেসার ও ধারাভাষ্যকার ইয়ান বিশপ ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, নেদারল্যান্ডস হারিয়ে দেবে বাংলাদেশকে। কিন্তু আর্নস ভেলে ফলল না বিশপের ভবিষ্যদ্বাণী বরং নেদারল্যান্ডসকে ২৫ রানে হারিয়ে সুপার এইটের পথে এক পা দিয়ে রাখল বাংলাদেশ।
টস হেরে আগে ব্যাট করে বাংলাদেশ করে ৫ উইকেটে ১৫৯ রান। সাকিব আল হাসান ৬৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন, সঙ্গে তানজিদ হাসান তামিমের ৩৫ রান আর মাহমুদউল্লাহর ২৫ রানে বাংলাদেশ দাঁড় করায় চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ। জবাবে বাংলাদেশের বোলাররা নেদারল্যান্ডসকে বেঁধে রাখে ৮ উইকেটে মাত্র ১৩৪ রানে। চার ওভারে ৩৩ রানে ৩ উইকেট নেন রিশাদ হোসেন।

সাকিব দীর্ঘদিন ধরেই ভুগছিলেন রানখরায়। তার ব্যাটে মরচে পড়েছে, সাকিব ফুরিয়ে গেছেন এমন রবও উঠছিল। সবই সাকিব উড়িয়ে দিয়েছেন চমৎকার এক ইনিংসে। ম্যাচসেরা হওয়ার পুরস্কার নিতে এসে সাকিব বলেছেন, ‘শীর্ষ চার ব্যাটসম্যানের কারও একজনকে গোটা ইনিংস ব্যাট করতে হতো। দলের জন্য অবদান রাখতে পেরে ভালো লাগছে। শুরুতে এ উইকেটে ব্যাট করাটা কঠিন ছিল। তবে আমরা আমাদের নার্ভ ধরে রেখেছি। আমাদের রানটা ছিল একটা চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ, নিশ্চিত জয়ের মতো রান ছিল এটা বলা যায় না। তবে বোলাররা ওদের ভালোভাবেই চেপে ধরেছে, মোস্তাফিজ আর রিশাদ ম্যাচটা ওদের হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে।’

সেন্ট ভিনসেন্টের মাঠে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট হয় না লম্বা সময়। সেই প্রসঙ্গ উল্লেখ করেই সাকিব বললেন, ‘এ মাঠে গত চার-পাঁচ বছরে কদাচিৎ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট হয়েছে। তাই আমরা নিশ্চিত ছিলাম না এ মাঠে কত রান ঠিক জয়ের নিশ্চয়তা দেবে। আমাদের পরিকল্পনা ছিল ১৪-১৫ ওভার পর্যন্ত হাতে উইকেট রাখা এবং সেখান থেকে ১৬০ রানের জন্য চেষ্টা করা। বিশ্বকাপের ম্যাচে ১৬০ রান সবসময়ই খুব ট্রিকি। নেদারল্যান্ডস তাদের সুযোগটা পেয়েছিল। এ উইকেটে শেষ সাত-আট ওভারে প্রতি ওভারে গড়ে ১০ রান করে নেওয়াটা খুবই কঠিন। বাতাস একদিক থেকে বইছিল, সেটা রান তাড়া করাটা আরও কঠিন করে তুলেছিল। শেষ পর্যন্ত বোলাররাই ম্যাচটা জিতিয়েছে।’ অনুশীলনে গলায় নেক-ব্রেস জড়ানো নিয়ে হেসে বলেছেন, ‘ও কিছু না।’

ম্যাচশেষে জয়ী দলের অধিনায়ক হিসেবে নাজমুল হোসেন শান্ত এসে বলেছেন, ‘ছেলেরা চমৎকার চারিত্রিক দৃঢ়তা দেখিয়েছে। সাকিব শান্ত আছে আর আমরা জানি সে কতটা গুরুত্বপূর্ণ। দিন শেষে ব্যাটসম্যান ও বোলার সবাই ভালো করেছে। মোস্তাফিজ ভালো করেছে, রিশাদ সব বোলারের মতোই দারুণ বল করেছে।’

তিন ম্যাচ থেকে প্রাপ্ত দুই জয়ে বাংলাদেশ সুপার এইটে দিয়ে রাখল এক পা আর তিন ম্যাচে দুই হার আর এক ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবেই ডাচদের সুপার এইটের সম্ভাবনার সমাপ্তি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত