বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ৩ শ্রাবণ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

প্রতিবাদী আসাদ গেট ও সাভারের মহাসড়ক

আপডেট : ১৫ জুন ২০২৪, ০১:৪৪ এএম

প্রখ্যাত সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। ছিলেন বাংলাদেশ সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠা করেন আর্ট গ্যালারি ‘শিল্পাঙ্গন’। প্রগতিশীল পাঠাগার ‘সমাজতান্ত্রিক পাঠাগার’-এর প্রতিষ্ঠাতা। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) প্রথম প্রধান সম্পাদক অকৃতদার এই কবি ও ছড়াকার মারা যান ২০১২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি। অতীতের সঙ্গে অধুনার সংযোগ ঘটাতে চিন্তা পাতায় ছাপা হলো তার লেখা উপসম্পাদকীয়

গত ক’দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরনো অঞ্চল খ-যুদ্ধের এলাকায় পরিণত হয়েছিল। আজকেও একই পরিস্থিতি। হেলমেটধারী সশস্ত্র পুলিশের সঙ্গে হাজার হাজার নিরস্ত্র ছাত্রের যুদ্ধ। ছাত্রদের দিক থেকে ইষ্টক বর্ষণ এবং পুলিশের কাঁদানে গ্যাসের সেল নিক্ষেপ। আটষট্টি-ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের প্রায় প্রতিদিনই এমন প্রতিরোধের দৃশ্য সবাই দেখেছেন। শুধু বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাতেই নয়, শহরের বহু অঞ্চলেই বিক্ষোভ আর প্রতিরোধের সংগ্রাম বিস্তার লাভ করেছিল। কার্জন হল, ঢাকা হল, ফজলুল হক হল ও বিশ্ববিদ্যালয় ময়দানের পাশ থেকেই প্রধানত ছাত্রদের প্রতিরোধ এবং আক্রমণ আসছিল। আর একটি ছাত্রস্রোত মেডিকেল কলেজ ও মধুর রেস্তোরাঁর পাশ দিয়ে প্রধান রাস্তায় পুলিশের আক্রমণের মুখে রুখে দাঁড়িয়েছিল। আজকের আক্রমণ প্রতি-আক্রমণের বিশেষ লক্ষণীয় বিষয় ছিল, পুলিশের নিক্ষিপ্ত কাঁদানে গ্যাসের জ¦লন্ত সেল বিক্ষুব্ধ ছাত্রগণ কর্তৃক পুনরায় আক্রমণকারী সংঘবদ্ধ পুলিশের দলের প্রতি নিক্ষেপ। এই নতুন যুদ্ধ পরিস্থিতিতে কিছুক্ষণের জন্য ট্রাকে টহলদার আক্রমণকারী সশস্ত্র পুলিশ আকস্মিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়। ছাত্রদের নয়া রণকৌশলের মুখোমুখি রাজারবাগ থেকে নতুন ও সতেজ পুলিশ বাহিনী আমদানির প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছিল।

প্রকৃতপক্ষে ছাত্রদের এই রণকৌশল অবলম্বন শুরু হয়েছিল ক’দিন পূর্ব থেকেই। এ যাবৎ আমরা সাধারণভাবে পুলিশ আক্রমণের আলোকচিত্রই দৈনিক পত্রিকাগুলোতে ছাপিয়ে আসছি। আর সরকারি পত্রিকাসমূহে যে সমস্ত চিত্র ছাপা হতো, সেগুলো কেবল ছাত্র-জনতার উচ্ছৃঙ্খল আচরণ ও পুলিশের ‘অ্যাকশন’ ন্যায়সঙ্গত বলে প্রমাণ করার উদ্দেশ্যেই। কিন্তু ঊনসত্তর সালের ২০ জানুয়ারি ছাত্র-জনতা ও পুলিশের খন্ডযুদ্ধের ক’দিন পূর্বে তৎকালীন গণমুখী দৈনিক আজাদ পত্রিকা পুলিশের ওপর আক্রমণকারী ছাত্র-জনতার একটি আলোকচিত্র উদ্দেশ্যমূলকভাবে প্রথম পৃষ্ঠায় প্রকাশ করেছিল। এই চিত্রটি অনেকের মধ্যে বিতর্কের সূচনা করে। এই আক্রমণের চিত্র প্রকাশের পক্ষে আজাদ-এর যুক্তি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্নতর। আমাকে (পত্রিকার চিফ রিপোর্টার) ও নিউজ এডিটরকে বিতর্কের উত্তরে প্রযোজ্য যুক্তি দিতে হয়েছে। আমাদের বক্তব্য ছিল, ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান এমন একপর্যায়ে গেছে, যখন তারা কেবল মার খায় না, শুধু প্রতিরোধই করে না, রুখে দাঁড়ায় এবং পাল্টা আক্রমণ করে। সে আক্রমণ ন্যায়সঙ্গত। এই কথাটা আলোকচিত্রের মাধ্যমে পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই ছিল আমাদের উদ্দেশ্য। পুলিশের গুলি, লাঠি চালনা, গ্যাস নিক্ষেপ ও নির্যাতন যেমন আমাদের জীবনযাত্রার স্বাভাবিক নিয়মের মধ্যে সে সময় গণ্য হতো, তেমনি তখন থেকে ছাত্র-জনতার প্রতিরোধ, প্রতিশোধ আর প্রতিআক্রমণও স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। এই আক্রমণ-প্রতিআক্রমণের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ক্ষণিক বিরতির পরই সতেজ সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী ট্রাক ও জিপে করে তড়িতগতিতে বিশ্ববিদ্যালয় গেটের অদূরে অবস্থিত রেললাইনের পাশে রশিদ বিল্ডিংয়ের নিকট এসে পৌঁছায়। এই চৌমাথার কোণেই চানখারপুলের পাশে একটি পেট্রোল পাম্প ছিল। পুনরায় পুলিশের কাঁদানে গ্যাসের প্রবল বর্ষণ শুরু হয় এবং দ্রুত ছাত্র-জনতা গ্যাস ও লাঠিচার্জের মুখে পাল্টা আক্রমণ করে এবং তাড়া খেয়ে হল ও বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে আশ্রয় নিতে আরম্ভ করে। কিন্তু আশ্রয়স্থল থেকে বারবার ছাত্ররা বেরিয়ে এসে পুলিশের আক্রমণ প্রতিহত করতে থাকে।

সেদিন ছিল ঊনসত্তর সালের ২০ জানুয়ারি। স্বাধীনতা লাভের ১ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর তেহাত্তর সালের ১ জানুয়ারি চিহ্নিত হয় সার্বভৌম স্বাধীন দেশের একটি রক্তখচিত দিনরূপে। ছাত্র ইউনিয়নের উদ্যোগে আয়োজিত ভিয়েতনাম দিবসে আমেরিকান নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে গিয়ে মার্কিন তথ্য কেন্দ্র ও প্রেসক্লাবের সম্মুখে স্বাধীন দেশের রাজনৈতিক সরকারের পুলিশের গুলিতে দু’জন ছাত্র প্রাণ হারায়-মতিউল ইসলাম ও মীর্জা কাদের। তাদের নামে স্মৃতিফলকটি এখনো বৈদেশিক দপ্তরের উল্টো দিকের পুষ্পদ্বীপে প্রতিবাদীর মতো দাঁড়িয়ে আছে। পুলিশের বিক্ষিপ্ত বুলেটে পুরনো প্রেসক্লাব ভবনের দেয়ালে প্রায় ১০ বছর পর্যন্ত ক্ষতচিহ্ন রয়েছিল। পয়লা জানুয়ারির এই মৃত্যুবাহী ঘটনা সম্পর্কে প্রখ্যাত সাহিত্যিক অধ্যাপক সরদার ফজলুল করিম তার ‘ব্যক্তিগত ভাবনা’য় (ডায়েরি) লিখেছেন : “ছাত্র-শিক্ষককেন্দ্র ছাড়িয়ে এগোলেই দেখলাম, মেডিকেল কলেজের দিক থেকে রক্তাক্ত শার্টের নিশান উড়িয়ে ছাত্রছাত্রীর জঙ্গি মিছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে এগোচ্ছে। বিস্ময়ের শেষ রইল না আমার; খবর নিলাম দু’জন মারা গেছে। তাদের কারও বুকে গুলি লেগেছে, কারোর গলা ভেদ করে গুলি বেরিয়ে গেছে। সবার মুখে প্রশ্ন, ওয়ার্নিং নয়, লাঠিচার্জ নয়, টিয়ার গ্যাস নয়, সোজা গুলি। আমেরিকার অফিস রক্ষার্থে। কোন্ আমেরিকা? যে আমেরিকা বাংলাদেশেরই সংগ্রামকে নস্যাৎ করে দিতে বঙ্গোপসাগরে সপ্তম নৌবহর পাঠিয়েছিল! ছাত্রদের জমায়েত আওয়াজ তুলছে : ছাত্র হত্যার বিচার চাই। ছেলেদের রক্ত যেখানে পড়েছে, রাস্তার বাচ্চারা তার চারপাশে ইটের বন্ধনী তুলে ইটের টুকরো দিয়ে লিখেছে ‘রক্ত! রক্ত!’ কিন্তু আমেরিকার ইউসিস অক্ষত আর অদগ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।” পরের দিন ছাত্ররা ঢাকায় হরতাল ডেকেছিল। তৃতীয় দিনও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ক্লাস হয়নি হত্যার প্রতিবাদে। ছাত্ররা ইউসিসের দেয়ালে লিখে দিয়েছিল : ‘শহীদ মতিউল-কাদের পাঠাগার।’ রাস্তার মধ্য ভাগে রক্ত চিহ্নিত স্থানে তারা তৈরি করেছিল ‘ভিয়েতনাম-বাংলাদেশ সংহতি স্তম্ভ’। মতিউল-কাদের হত্যার এভাবে পরিসমাপ্তির দু’বছর পর জানুয়ারির দু’তারিখেই স্বাধীন দেশের এক বিপ্লবী রাজনীতিককে শৃঙ্খলে আবদ্ধ অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। বাংলাদেশের ইতিহাসের এই সমস্ত জ¦লন্ত ঘটনা কালের সাক্ষী হয়ে আছে। পঁচাত্তর সালের ১ জানুয়ারি চট্টগ্রামে সর্বহারা দলের আত্মগোপনকারী বিপ্লবী নেতা সিরাজ সিকদারকে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। পরের দিন ঢাকায় বিমানে এনে গভীর রাতে সাভারের অঘোষিত বধ্যভূমির পথে গাড়িতেই তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। বলিভিয়ার বিপ্লবী চে গুয়েভারাকে আটক করার সঙ্গে সঙ্গে হত্যার সঙ্গে কমরেড সিরাজের বর্বরোচিত হত্যার তুলনা করা যেতে পারে। সশস্ত্র সংগ্রামে লিপ্ত বিপ্লবী বীর কমরেড সিরাজ সিকদারের প্রকাশ্য বা গোপনে বিচার করার সাহস সরকারের ছিল না বলেই ভাড়াটিয়া হত্যাকারী দিয়ে তার প্রাণনাশ করা হয়। এবং কমরেড সিরাজের মৃত্যুর পরেই প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে পার্লামেন্টে দম্ভের সঙ্গে বলা সম্ভব হয়েছিল: ‘কোথায় এখন সিরাজ সিকদার।’ অবশ্য হত্যার এমন দম্ভোক্তি ইতিহাসে বিরল নয়। জানুয়ারিতে শহীদ মতিউল-কাদেরের মৃত্যু সম্পর্কে সরকার একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত পরিচালনার কথা ঘোষণা করেছিল। অপরদিকে বিপ্লবী সিরাজের মৃত্যু সম্পর্কেও জিয়া সরকার তদন্ত করার জন্য কয়েকবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু কোনো সরকারই তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি।

এমনই আর এক মৃত্যু এসেছিল ঊনসত্তরের বিশে জানুয়ারি। পুলিশ প্রথমে লাঠিচার্জ ও পরে কাঁদানে গ্যাস ছুড়তে শুরু করে। এই বেপরোয়া লাঠিচার্জের সময় আমরা ৭-৮ জন সাংবাদিক ও ফটোগ্রাফার প্রথমে নিকটবর্তী পেট্রোল পাম্পে আশ্রয় নিই। কিন্তু পুলিশ এবার সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণ করার জন্য এগিয়ে আসতে থাকে। উপস্থিত অফিসার ও কর্মচারীরা আমাদের চিনতেন। তবুও জনৈক ডিএসপির ইঙ্গিতে আমরা আক্রমণ থেকে রেহাই পেলাম না। বাঁচার তাগিদে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে চারদিকে ছুটে পালাবার চেষ্টা করলাম। আমি ও আরও কয়েকজন পার্শ্ববর্তী টিবি ক্লিনিকের রাস্তার দেয়ালের আড়ালে মাটিতে শুয়ে থেকে বেঁচে গেলাম। কিন্তু অদূরেই সেই পেট্রোল পাম্পের পার্শ্ব থেকে অবজারভার পত্রিকার চিফ ফটোগ্রাফার মোজাম্মেল হোসেন দৌড়ে পালাতে পারেননি। শারীরিক দিক থেকে দুর্বল মোজাম্মেলকে পুলিশ নাগালের মধ্যে পেয়ে অমানুষিকভাবে প্রহার করে মাটিতে ফেলে দেয়। বহুবার সাংবাদিকের পরিচয় দেওয়া সত্ত্বেও তাকে আহত হতে হয় এবং তার ক্যামেরা অকেজো হয়ে পড়ে। এই প্রহার, লাঠিচার্জ ও গ্যাস সেল নিক্ষেপের সময় মিউজিয়ামের দিক থেকে একটি পুলিশের জিপ জনশূন্য চৌমাথার ওপর দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পথে দ্রুত বেগে ধাবিত হয়। এই জিপেই আনা হয়েছিল, সার্পসুটার হত্যাকারীকে। সে সময় বিক্ষোভকারীদের একটি দল বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের সম্মুখে দাঁড়িয়েছিল। হত্যাকারীর জিপটি উক্ত বিক্ষোভকারীদের সম্মুখ দিয়ে যাওয়ার সময় রিভলবার বা রাইফেলের গুলি ছুড়ে মেডিকেল কলেজের দিকে দ্রুত পালিয়ে যায়। গুলিবিদ্ধ আসাদ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। অনেকে মনে করেন, অনেক পূর্বেই পুলিশ আসাদকে এই বিক্ষোভকারীদের দলে দেখতে পেয়েছিল এবং তাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে এই বিশেষ জিপটি পাঠানো হয়েছিল। আইয়ুব-এহিয়ার দক্ষ গভর্নর মোনায়েম খানের হত্যাকারী সেদিন সুনির্দিষ্ট শিকার লাভে সমর্থ হয়। এই উদ্দেশ্যমূলক হত্যার জন্যই সাংবাদিকদের বিতাড়ন করা হয়। একই সময় অর্ধচেতন অবস্থায় আহত ফটোগ্রাফার মোজাম্মেলকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে জানতে পারি যে, গুলিবিদ্ধ মৃত ব্যক্তি আসাদ। এই হত্যার জন্য দায়ী বলে নির্দিষ্ট করে ছাত্ররা একজন পুলিশ অফিসারের নাম উল্লেখ করেছিল-ডিএসপি বাহাউদ্দিন। এই হত্যাকান্ডের তদন্ত ও বিচারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সেই প্রতিশ্রুতি নিয়েই প্রতিবাদী ‘আসাদ গেট’ ঢাকার বুকে দাঁড়িয়ে আছে। আসাদ হত্যাকে কেন্দ্র করে দুর্জয় ছাত্র সমাজের বিক্ষোভ দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছিল। ২৪ জানুয়ারি ছিল সমগ্র দেশে হরতাল, ছাত্র ধর্মঘট ও বিক্ষোভ মিছিলের আহ্বান। সচিবালয় ঘেরাও করার জন্য ছাত্র-জনতার মিছিল সেদিন শহরের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আবদুল গনি রোডের দিকে আসতে থাকে। নবকুমার হাই স্কুলের কিশোর ছাত্র মতিয়ুর রহমান মল্লিক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদের একটি মিছিলের অগ্রভাগে ছিল। সচিবালয়ের প্রথম গেটের সম্মুখে মিছিলের বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা স্লোগান দেওয়ার সময় মোনায়েম খানের সশস্ত্র জল্লাদ পুলিশ বাহিনীর গুলিতে মতিয়ুর শহীদ হয়।

জানুয়ারিতে শহীদ আসাদ আর মতিয়ুরদের রক্তের পথ ধরে আমরা তখন এগোচ্ছিলাম মুক্তিযুদ্ধের দিকে, সূর্যোদয়ের রাজপথে। সূর্যোদয়ের সেই পথযাত্রা শুরু হয়েছিল আরও অনেক পূর্বে পরাধীন দেশে। যে মৃত্যুঞ্জয়ী শহীদের রক্তে জানুয়ারির হত্যাভিযান শুরু হয়েছিল, তার যাত্রা ছিল ন্যায়সঙ্গত বিদ্রোহের প্রজ¦লিত অগ্নিশিখায়। চট্টগ্রামের সেই অমর পুরুষ সূর্য সেন (মাস্টারদা) পরাধীন দেশের সূর্যোদয়ের সারথী। তাকেও ব্রিটিশ শাসক হত্যা করেছিল ফাঁসিকাষ্ঠে আজ থেকে প্রায় পঞ্চাশ বছর পূর্বে জানুয়ারির রক্তাক্ত বারো তারিখে। (ঈষৎ সংক্ষেপিত)

লেখক: বরেণ্য সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত