বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ৩ শ্রাবণ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

আমার বাবা উইকি বাবা

আপডেট : ১৫ জুন ২০২৪, ০২:০৭ এএম

আমার বাবা ছবি তোলে, লেখে, গবেষণা করে। গুগল, উইকিপিডিয়াতেও যে জিনিস পাওয়া যায় না, সেটাও আমার বাবা জানে। আমার বাবা উইকি বাবা।

আগে বাবা আমাকে ও পূর্ণতাকে (আমার ছোটবোন) নিয়ে প্রায় প্রতিদিন ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিত, ছবি আপ করত। প্রথম প্রথম মনে করতাম, কেন দেয়? এখন ভাবি, বাবা যদি ফেসবুকে এগুলো না দিত তাহলে বাবার ফটোজ অ্যালবামে গিয়ে আমাদের ছোটবেলার পোস্টগুলো পেতাম না। আমাদের ছোটবেলাটা কেমন ছিল বুঝতে পারতাম না।

ব্যস্ততার কারণে বাবা আমাকে বেশি সময় দিতে পারে না। সকালবেলা বাবা বাসা থেকে বের হন। ফেরেন রাতে। ফলে বাবার সঙ্গে রাতে দেখা হয় (ঘুমিয়ে গেলে তাও হয় না)।

মাঝে মাঝে বাবা আমাকে বাইকে করে স্কুলে নিয়ে যান। শুক্রবার তার ছুটি। ওই দিন বাবা আমাকে ও পূর্ণকে ছায়ানটে নিয়ে যান। বাবা যে কোনো ঐতিহাসিক জায়গা বা স্থাপনা দেখিয়ে এমন করে গল্প বলে যে, জানার আগ্রহ বেড়ে যায়। আমার মনে হয় না আমাকে এত ভালো করে আর কেউ বোঝাতে পারবে।

বাবার সঙ্গে কোথাও গেলে দেখি, বাবাকে সবাই চেনে। সম্মান দেয়। বাবা মেতে থাকে ফটোগ্রাফি, লেখালেখি ও গবেষণা নিয়ে। বাবা মুক্তিযুদ্ধ নিয়েও বেশ কয়েকটা বই লিখেছেন। বাবাকে একদিন জিজ্ঞেস করেছিলাম, তুমি তো আলোকচিত্রশিল্পী, তুমি লেখ কেন? বাবা বলছিলেন, ‘ছবির মাধ্যমে সব কিছু বলা যায় না, কিছু অপূর্ণতা থেকে যায়;

তাই লিখি।’ বাবার কাজ দেখে আমি অবাক হই।

শিক্ষার্থী, নবম শ্রেণি

ভিকারুননিসা নূন স্কুল

 ধানমন্ডি শাখা, ঢাকা

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত