সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

নিষ্ফলা সম্মেলনে শান্তির আশা ক্ষীণ

আপডেট : ১৬ জুন ২০২৪, ১২:০৪ এএম

ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানের লক্ষ্যে গতকাল শনিবার সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টক রিসোর্টে শুরু হয়েছে দুদিনের ইউক্রেন শান্তি সম্মেলন। শান্তি সম্মেলনে অংশ নিচ্ছে ৯০টির বেশি দেশ ও বৈশি^ক প্রতিষ্ঠান। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বিশ্বনেতাদের সমর্থন প্রত্যাশা করেছেন এ সম্মেলন ঘিরে। সম্মেলনে অংশ নেওয়া নেতারা মনে করেন, স্থায়ী শান্তি প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে এ সম্মেলন জোরালো ভূমিকা রাখবে। আর ইউক্রেনের জন্য এ সম্মেলন একটি বড় পাওয়া। সম্মেলনটির লক্ষ্যই ইউক্রেন সংঘাতের অবসানের জন্য একটি মৌলিক চুক্তিতে পৌঁছানো। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়াকে বাইরে রেখে করা এ শান্তি সম্মেলন কোনো ফল আনবে না। উল্টো রাশিয়ার জন্য বিষয়টি উসকানিমূলকও হতে পারে।

এ ছাড়া রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন ইউক্রেনকে আত্মসমর্পণের দাবি জানিয়ে যে আলটিমেটাম দিয়েছেন, তাতে শান্তি প্রক্রিয়ায় অগ্রগতির প্রত্যাশা কম বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ এ সম্মেলনে নেই রাশিয়া মিত্র চীনও। ব্রাজিল, ভারত সম্মেলনে নিম্ন স্তরের প্রতিনিধি পাঠিয়েছে। অংশ নেননি খোদ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও।

অবশ্য ইউক্রেনে রুশ হামলা শুরুর ২৮ মাস পরে এ সম্মেলন নতুন আশা জাগিয়েছে বলে মনে করছে বিবিসি। সংবাদমাধ্যমটি বলছে, সম্মেলনটি এমন সময় অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন খারকিভের কাছে উত্তর-পূর্বে রাশিয়া নতুন করে হামলা চালিয়েছে। রাশিয়ান ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বাড়িঘর, বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস হয়েছে।

ইউক্রেনের সংসদ সদস্য আলেক্সান্দার মেরেকো মনে করেন, ভবিষ্যৎ শান্তির জন্য একটি রাজনৈতিক ও আইনি কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা গুরুত্বপূর্ণ। এ শান্তি শুধুই আসতে পারে ২০২২ সালে তুলে ধরা জেলেনস্কির ১০ দফার ভিত্তিতে। ইউক্রেনের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব এতে অগ্রাধিকার পেয়েছে।

সেন্টার ফর ইউরোপিয়ান পলিসি অ্যানালাইসিসের (সিইপিএ) স্যাম গ্রিন বলেন, আমি মনে করি এ সম্মেলনের উদ্দেশ্য হলো ইউক্রেনের দৃষ্টিভঙ্গির পেছনে সমর্থন জোগাড় করা। তবে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ সম্মেলনটিকে অর্থহীন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অবশ্য এ সম্মেলন ঘিরে আয়োজনের মধ্যে শান্তি তথা যুদ্ধের বিরতি টানতে নতুন শর্ত দিয়েছেন পুতিন। বিবিসি বলছে, ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতির সংলাপ শুরুর জন্য দুটি শর্ত দিয়েছেন তিনি। শর্ত দুটি হলো এক. যুদ্ধবিরতির জন্য রাশিয়ার দখলকৃত এলাকা থেকে ইউক্রেনকে তাদের সেনা প্রত্যাহার করতে হবে; দুই. শান্তি আলোচনা শুরুর আগে ইউক্রেনকে ন্যাটোতে যোগদানের আশা ছেড়ে দিতে হবে।

পুতিন ইউক্রেন সরকারকে রাশিয়ার আংশিক দখল করা চারটি অঞ্চল দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন ও জাপোরিজিয়া থেকে সরে আসার আহ্বান জানান। পুতিন বলেন, ইউক্রেনকে আনুষ্ঠানিকভাবে ন্যাটো সামরিক জোটে যোগদানের প্রচেষ্টা বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, যখনই কিয়েভ ঘোষণা করবে যে তারা এ ধরনের সিদ্ধান্তের জন্য প্রস্তুত, আমরা অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির নির্দেশ দেব এবং আক্ষরিক অর্থে সেই মুহূর্তে আলোচনা শুরু করব।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা মাইখাইলো পোদোলিয়াক এ প্রস্তাবকে সম্পূর্ণ প্রতারণা বলে অভিহিত করেছেন। আর প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেন, এটি এক ধরনের আলটিমেটাম বার্তা। ব্যাপারটা অনেকটা হিটলারের মতো, যখন তিনি বলেছিলেন, আমাকে চেকস্লোভাকিয়ার কিছু অংশ দাও, তাহলে সব এখানেই শেষ হয়ে যাবে।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিনও রাশিয়ার দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, পুতিন অবৈধভাবে সার্বভৌম ইউক্রেনীয় ভূখণ্ড দখল করেছেন। তিনি ইউক্রেনকে নির্দেশ দিতে পারেন না যে, শান্তির জন্য তাদের কী করতে হবে। ন্যাটোর মহাসচিব জেন্স স্টলটেনবার্গ বলেছেন, পুতিন ভালো উদ্দেশ্যে এ প্রস্তাব দেননি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত