সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

চোখের সামনের বিপর্যয় আড়ালে

আপডেট : ১৬ জুন ২০২৪, ১২:০৪ এএম

বিশ্বের ভয়াবহতম মানবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে সুদানের রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ। এক বছরের বেশি সময় ধরে চলা গৃহযুদ্ধে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৪ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। বাস্তুচ্যুত হয়েছে এক কোটির বেশি মানুষ। অথচ ইউক্রেন ও গাজা যুদ্ধের ডামাডোলে এই ভয়াবহতা বিশ্ববাসীর চোখের আড়ালে রয়ে যাচ্ছে। আশু পদক্ষেপ নেওয়া না হলে আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশটিতে সাড়ে ৭ লাখের বেশি মানুষ পড়তে পারে বিপর্যয়কর খাদ্যসংকটে।

গত বছরের ১৫ এপ্রিল থেকে আব্দেল ফাত্তাহ আল-বুরহানের নেতৃত্বে সুদানের সশস্ত্র বাহিনী (এসএএফ) এবং জেনারেল মোহাম্মদ হামদান হেমেদতি দাগালোর অনুসারী আধাসামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) মধ্যে ভয়াবহ লড়াই চলছে। গত এক মাসের বেশি সময় ধরে উত্তর দারফুরের আল-ফাশের শহর অবরুদ্ধ করে রেখেছে আরএসএফ। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ গত শুক্রবার আরএসএফকে ওই শহর থেকে অবরোধ তুলে নিতে বলে। তবে তাতে কর্ণপাত না করে সেখানে বড় ধরনের আক্রমণ চালিয়েছে আরএসএফ। তবে তা প্রতিহত ও প্রতিপক্ষের বড় ক্ষতি করার দাবি করেছে সুদানের সশস্ত্র বাহিনী।

এসএএফ এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, ব্যর্থ আক্রমণে আরএসএফের শতাধিক সদস্য হতাহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে আলী ইয়াগুব গিবরিল নামে বাহিনীর একজন জ্যেষ্ঠ কমান্ডারও রয়েছেন। কার্যত যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে গেছেন এ বাহিনীর যোদ্ধারা। আরএসএফের পক্ষ থেকে অবশ্য এ বিষয়ে এখনো কিছু জানানো হয়নি।

জাতিসংঘ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনের আশঙ্কা, আরএসএফ আল-ফাশের শহরের দখল নিতে পারলে সেখানে জাতিগত নিধন চালাবে। শহরটিতে প্রায় ১৮ লাখ মানুষের বসবাস। দারফুর অঞ্চলে এটাই এখন সুদানের সশস্ত্র বাহিনীর সবশেষ শক্ত ঘাঁটি।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সবশেষ প্রস্তাবে সুদানে দ্রুত যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা, বাধাহীনভাবে মানবিক ত্রাণসহায়তা প্রবেশের সুযোগ দেওয়া ও সব পক্ষকে সুদানের ওপর আরোপ করা অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়। পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে গত বছরের মার্চে দেশটিতে যুদ্ধবিরতি ডাকা হলেও তা ব্যর্থ হয়। এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র শুক্রবার সুদানে জরুরি মানবিক সহায়তায় সাড়ে ৩১ কোটি মার্কিন ডলারের সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। সেই সঙ্গে সতর্ক করে বলেছে, দেশটি দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে।

জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত লিন্ডা থমাস গ্রিনফিল্ড সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের চোখের সামনে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটে চলেছে, বিশে^র এখন জেগে ওঠা প্রয়োজন। গ্রিনফিল্ড আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে তীব্র খাদ্যসংকটে এ দুই অঞ্চলের প্রায় ২৫ লাখ মানুষ মৃত্যুর মুখে পড়তে পারে, যা জনসংখ্যার প্রায় ১৫ শতাংশ। স্বাভাবিকভাবেই এটি বিশে^র সর্ববৃহৎ মানবিক সংকটে রূপ নিতে পারে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত