বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ৩ শ্রাবণ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বন্দর উপজেলা চেয়ারম্যানকে বয়কট করলেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা

আপডেট : ২৪ জুন ২০২৪, ১০:৩৫ পিএম

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেনকে বয়কট করার ঘোষণা দিয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা। সোমবার (২৪ জুন) দুপুরে বন্দর মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন বন্দর থানা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার কাজী নাসির। এ সময় ৫ ইউনিয়নের কমান্ডাররাসহ বীর মুক্তিযোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে ডেপুটি কমান্ডার কাজী নাসির বলেন, ১৯৭১ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে শপথ নিয়েছিলাম, বাংলাদেশকে স্বাধীন করব। আমরা যুদ্ধ করে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছি। বাংলাদেশ স্বাধীন করতে গিয়ে আমাদের মা-বোনদের ইজ্জত হারাতে হয়েছে। শহীদ হয়েছে ৩০ লাখ মানুষ। তাদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীন বাংলাদেশ। ৭১’র স্বাধীনতা বিরোধী কুখ্যাত রাজাকার ও তাদের দোসরদের আমরা ঘৃণা করি। আমরা তাদের কোন ছাড় দিতে পারি না। পারি না সেই বীর মুক্তিযোদ্ধাদের রক্তের সাথে বেঈমানি করতে। এ জন্য আমরা বন্দর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের পক্ষ থেকে ঘোষণা করছি, স্বাধীনতা বিরোধী চক্র ও রাজাকারের সন্তানকে ছাড় দেব না। আমরা শক্ত হাতে তা প্রতিহত করব। 

তিনি বলেন, গত ৮ মে বন্দর উপজেলা নির্বাচনে ১৯৭১ সালে দেশদ্রোহী কুখ্যাত রাজাকার রফিকের পুত্র মাকসুদ হোসেন টাকার জোরে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। আমরা বীর মুক্তিযোদ্ধারা তা কোনো প্রকারেই মেনে নিতে পারি না। সদ্য নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেনের পিতা কুখ্যাত রাজাকার রফিক স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীদের নিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আজিজকে হত্যা করে। শুধু তাই নয় ধামগড় ও মুছাপুরে বিভিন্ন সাধারণ মানুষের বাড়ি ঘরে অগ্নি সংযোগসহ লুটপাট করে। ৭১’ সালে সে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছিল। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর বীর মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিনসহ নিরীহ লোকদের অকাতরে হত্যা করা হয়। সেই বর্বর ও কুখ্যাত খুনি রাজাকারের পুত্র মাকসুদকে বন্দর উপজেলা চেয়ারম্যান হিসাবে প্রত্যাখ্যান করছি। গত ১২ জুন সে উপজেলার দায়িত্ব নেয়ার সময় বন্দর উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধারা তাকে বয়কট করেছে। বন্দর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সভায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় আমরা রাজাকারপুত্রের সকল অনুষ্ঠান বয়কট করলাম। আমরা তার দ্রুত অপসারণ দাবি করছি। 

সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন জেলার সাবেক সাংগঠনিক কমান্ডার মোশারফ হোসেন খান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আ. জাব্বার, আ. আজিজ, কাজী মোবারক, হাজী লিয়াকত আলী, আ. ছালাম, হাজী সফিউদ্দিন, রাহিম সাউদ, হাজী নুরুল আমিন, আ. বাতেন, মোজাফ্ফর হোসেন, আলী আক্কাস, মোহাম্মদ হোসেন, আবুল কালাম ও জালাল উদ্দিন।

উল্লেখ্য গত ২০ জুন দ্বিতীয় স্ত্রীর নারী নির্যাতন মামলায় নারায়ণগঞ্জ আদালতে জামিন নিতে গেলে আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। মাকসুদ হোসেন বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছেন। 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত