রোববার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ৩০ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

সিসিটিভির শুভাগমন

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২৪, ১২:৪৭ এএম

ক্লোজড-সার্কিট টেলিভিশন (সিসিটিভি) সিস্টেম, যা ভিডিও নজরদারি সিস্টেম নামে পরিচিত। এটি অপরাধ প্রতিরোধ থেকে শুরু করে ট্রাফিক মনিটরিংসহ অনেক উদ্দেশ্যে কাজ করে। বিভিন্ন গার্হস্থ্য, বাণিজ্যিক এবং শিল্পক্ষেত্রে এসব ব্যবহৃত হয়। প্রযুক্তির অগ্রগতি এবং চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এটি আরও সাশ্রয়ী হচ্ছে। বিশ্বের এমন কিছু দেশ এবং শহর রয়েছে, যেখানে প্রায় প্রতিটি বড় রাস্তা এবং কোণে সিসিটিভি ক্যামেরা পাওয়া যায়। বিভিন্ন দেশে এর ব্যবহার রয়েছে। সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী চীন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং জার্মানি সবচেয়ে বেশি সিসিটিভি ক্যামেরাসহ পৃথিবীর শীর্ষ তিনটি দেশ। সিসিটিভির নজরদারিতে চীনকে সেরা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই দেশে প্রায় ২০০ মিলিয়ন সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। চীনা শহরগুলো বিশ্বের সবচেয়ে ভারী সিসিটিভি নজরদারির অধীনে রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছে ৫০ মিলিয়ন। ৬ মিলিয়ন সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে যুক্তরাজ্যে। জার্মানিতে রয়েছে ৫.২ মিলিয়ন। অন্যদিকে জাপানে ৫ মিলিয়ন, ভিয়েতনামে ২.৬ মিলিয়ন, ফ্রান্সে ১.৬৫ মিলিয়ন, দক্ষিণ কোরিয়ায় ১.০৩ মিলিয়ন এবং নেদারল্যান্ডসে ১ মিলিয়ন সিসিটিভি রয়েছে। আর ভারতের চেন্নাই শহরে সবচেয়ে বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। শহরের প্রতিটি বড় সিগন্যালে গাড়ি চলাচলের জন্য ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা দ্বারা মনিটর করা হচ্ছে।

প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা স্তর এবং ধরন, সিস্টেমের আকার, ক্যামেরার রেজল্যুশন, দৃশ্য ও স্থান নির্ধারণের ক্ষেত্র এবং অবশ্যই বাজেটের ওপর নির্ভর করে- কোন মাত্রার সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। যেটিই ব্যবহার করা হোক না কেন, একটা বিষয় ঠিক যে, এর ফলে জনগণের সামাজিক নিরাপত্তা অনেক বাড়বে। এ বিষয়ে দেশ রূপান্তরে রবিবার প্রকাশিত হয়েছে ‘সব বড় শহর সিসি ক্যামেরার আওতায় আসবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী’ প্রতিবেদন। জানা যাচ্ছে  নাগরিকদের নিরাপদ বসবাসের জন্য রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সব বড় শহর সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। তিনি বলেন, ‘আমরা পুরো ঢাকা সিটিকে সিসিটিভির আওতায় আনার চেষ্টা করব। যেমন গুলশান, বনানীতে করা হয়েছে। বর্তমানে যেটা আছে, সেটাকে আরও বেগবান করব।’ শনিবার রাতে রাজধানীর বনানীতে একটি অভিজাত হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। ল’ অ্যান্ড অর্ডার কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিলের (এলওসিসি) আয়োজনে ‘সিসিটিভি ক্যামেরা নজরদারি প্রকল্পের চতুর্থ পর্বের উদ্বোধন এবং অন স্ট্রিট স্মার্ট পার্কিং সিস্টেম’ পরিচালনার উদ্বোধন উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকা শহরে গত কয়েক বছরে যত বড় বড় অপরাধ সংঘটিত হয়েছে তার বেশিরভাগেরই রহস্য উদঘাটনে সহায়তা করেছে সিসিটিভির ফুটেজ।’ অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খাঁন মুকুল ও গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সাইফ আলী খাঁন অতুল। বিএবি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকার কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী অনুষ্ঠানে সিসি ক্যামেরা বসানোর এই উদ্যোগে অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দেন। রূপায়ণ গ্রুপের পক্ষে এজন্য ১ কোটি টাকা দেওয়ার ঘোষণা দেন প্রতিষ্ঠানের ভাইস চেয়ারম্যান সাইফ আলী খাঁন অতুল।

সিসিটিভি ক্যামেরা শুধুমাত্র অপরাধ ঘটতে বাধা দেয় না। তাদের রেকর্ডিং বিকল্পগুলোর কারণে, তারা মূল্যবান প্রমাণও দেয়। সিসিটিভি রেকর্ডিংয়ের সাহায্যে সন্দেহভাজনদের সহজেই শনাক্ত করা যায় এবং দ্রুত ও সহজে ধরা পড়ার সম্ভাবনা বেশি। তা ছাড়াও রেকর্ডিং আদালতে অপরাধীর বিরুদ্ধে বৈধ প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। বলাবাহুল্য, এর ফলে অপরাধের মাত্রা অনেকটাই কমে আসে। দেশের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্ণধার এ বিষয়ে জননিরাপত্তার স্বার্থে আর্থিকভাবে এগিয়ে এসেছেন। বিষয়টি নিঃসন্দেহে আমাদের আশাবাদী করে। একটি বিষয় না বললেই নয় সিলেট শহরের বাসিন্দারা ফ্রি ওয়াইফাই সেবা পাচ্ছেন। আমরা আশা করতেই পারি, রাজধানীতেও এমন সুবিধা চালু হবে। শুধু প্রয়োজন সরকারের আন্তরিকতা। স্মার্ট বাংলাদেশের রাজধানী থাকবে ফ্রি ওয়াইফাইয়ের বাইরে, এটা ভাবতে একটু অন্যরকম লাগে। অবশ্য টেলি কাবুলিওয়ালারা বিষয়টি কীভাবে নেবে, এটাই হয়তো সরকারের চিন্তার বিষয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত