বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪, ১০ শ্রাবণ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

গাজা যুদ্ধের ৯ মাস

যুদ্ধবিরতির আলোচনা আগামী সপ্তাহে

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২৪, ০২:৪১ এএম

গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যামূলক আগ্রাসন দশম মাসে পা দিয়েছে। গতকাল রবিবার ছিল এই দফার হামলা আর আগ্রাসের ৯ মাসপূর্তি। ইতিমধ্যে গাজায় নিহত মানুষের সংখ্যা ৩৮ হাজার ছাড়িয়ে গেছে, আহত মানুষের সংখ্যাও প্রায় ৯০ হাজার। আর শিশুসহ নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা অন্তত ১৩ হাজার। এমন পরিস্থিতি কিছুদিন ধরেই যুদ্ধবিরতির আলোচনা নতুন গতি পেয়েছে। তবে এর মধ্যেই গতকাল রবিবারও ভূখণ্ডটির অন্তত ছয় স্থানে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলে। নুসেইরাতের একটি শরণার্থীশিবিরের স্কুলে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। হামলায় জাতিসংঘ পরিচালিত ওই স্কুলে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়। অথচ সেখানে হামাসের কোনো সদস্য ছিল না। এদিন অন্যান্য ঘটনায় আরও ১৫ জনের মরদেহ উদ্ধারের কথা জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলি ভূখণ্ডে অতর্কিত হামলা চালায় ফিলিস্তিনি সশস্ত্র সংগঠন হামাস। এতে ১ হাজার ১৭০ জন নিহত হয়। জিম্মি হয় প্রায় ২৫০ জন। এ হামলার প্রতিশোধ হিসেবে সেদিনই গাজায় নজিরবিহীন ও নির্বিচার বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েল। পরে স্থলবাহিনীও এতে যোগ দেয়। গত ৯ মাসে ফিলিস্তিনি নিহতের সংখ্যা অন্তত ৩৮ হাজার ১৫৮। আহতের সংখ্যা অন্তত ৮৭ হাজার ৭০৫। হতাহতের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।

গতকাল আলজাজিরা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, নুসেইরাতের স্কুলে হামলার বিষয়ে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, ফিলিস্তিনে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ পরিচালিত আল-জাউনি স্কুলের হামলার লক্ষ্য ছিল হামাসের ‘জঙ্গিরা’। তবে এই দাবি নাকচ করে বিবৃতি দিয়েছে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র সংগঠন হামাস। হামাস বলেছে, ভূমি-অধিগ্রহণকারীদের (ইসরায়েলের) সেনাবাহিনী দাবি করেছে, ইউএনআরডব্লিউএর আল-জাউনি স্কুলে স্বাধীনতাকামী সংগঠনের (হামাসের) সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন, যা মিথ্যে ও বিভ্রান্তিমূলক।

বিবৃতিতে হামাস বলেছে, ইসরায়েলের উদ্দেশ্য হচ্ছে ফিলিস্তিনিদের নির্মূল করা। সেই উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে গিয়ে তারা যেসব অপরাধ করছে, সেগুলো সবার সামনে গ্রহণযোগ্য করে তোলার জন্য তারা এসব মিথ্যে অভিযোগ আনছে।

হামাসনিয়ন্ত্রিত গাজার সরকারি দপ্তর আল-জাউনি নামের ওই স্কুলে হামলার বিস্তারিত জানায়। তাদের এক পৃথক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চলমান যুদ্ধের সময়ে জাতিসংঘ পরিচালিত এই স্কুলটি গাজার অন্যান্য অংশ থেকে পালিয়ে আসা ফিলিস্তিনিদের আশ্রয়কেন্দ্র হিসবে ব্যবহার হচ্ছিল। গাজার সরকারি তথ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গাজার মধ্যাঞ্চলের নুসেইরাত শরণার্থীশিবিরের আল-জাউনি বিদ্যালয়ে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৭৫ জন আহত হয়েছে। নিহত হয়েছে অন্তত ১৬ জন।

এই হামলার পর গাজার মধ্যাঞ্চলের আল-আকসা হাসপাতালের ওপর চাপ বেড়েছে। নিহতদের মরদেহ হাসপাতালে আনা হয়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় চিকিৎসক ও চিকিৎসা উপকরণ খুবই কম থাকায় আহতদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ।

গত জুনে নুসেইরাতে জাতিসংঘ পরিচালিত আরেকটি স্কুলে হামলার ঘটনায় অন্তত ৩৫ জনের প্রাণহানি ঘটে। স্থানীয় সাংবাদিকারা তখন বিবিসিকে বলেছিলেন, স্কুলের ওপরের তলার শ্রেণিকক্ষে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল একটি যুদ্ধবিমান থেকে।

ওই হামলার পর ইসরায়েলির সামরিক বাহিনীর তরফে বলা হয়েছিল, ওই স্কুলে ‘হামাসের একটি অবস্থানে’ সুনির্দিষ্ট আঘাত হানা হয়েছে এবং সেখানে থাকা ‘২০ থেকে ৩০ যোদ্ধার’ অনেকেই মারা গেছে।

জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার প্রধান ওই ঘটনাকে ‘ভয়ংকর’ বলেন। তিনি বলেছিলেন, একটি আশ্রয়শিবিরে সশস্ত্র সংগঠনের উপস্থিতি ‘দুঃখজনক’, তবে স্কুলটিতে এমন কেউ ছিল বলে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে গাজায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে কয়েক দিনে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে চুক্তির বিষয়ে অগ্রগতির খবর মিলছে। ইসরায়েল বলেছে, জিম্মি মুক্তির প্রশ্নে হামাসের সঙ্গে আলোচনা করতে আগামী সপ্তাহে তারা মধ্যস্থতাকারী দল পাঠাবে। সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির বিষয়ে হামাস তার অবস্থানে ‘উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন’ আনতে সম্মত হয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তার বক্তব্য আসার পর ওই অগ্রগতি হয়েছে।

হামাসের শীর্ষ এক নেতা শনিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ইসরায়েলি জিম্মি মুক্তির প্রশ্নে আলোচনায় বসতে তারা সম্মত হয়েছে। গাজা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে সম্ভাব্য চুক্তির প্রথম ধাপের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনায় সম্মত হওয়ার ১৬ দিন পর এই সিদ্ধান্ত এলো।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত