রোববার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ৩০ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

দুই আর্জেন্টাইন মস্তিষ্কের লড়াই

আপডেট : ১০ জুলাই ২০২৪, ০১:১২ এএম

কোপা আমেরিকার সবচেয়ে সফলতম দল দুটির একটি উরুগুয়ে। সর্বোচ্চ ১৫ বার তারা ঘরে নিয়েছে সবচেয়ে পুরনো এ আসরটির শিরোপা। সাফল্যের সেই সুখের মুহূর্তগুলো অনেকদিন ধরেই হয়ে আছে সোনালি অতীত। লুইস সুয়ারেজ, এডিনসন কাভানি ও দিয়েগো ফোরলানদের হাত ধরে ২০১০ বিশ্বকাপে চতুর্থ হওয়ার পরের বছর ১৬ বছরের প্রতীক্ষা কাটিয়ে নিজেদের ১৫তম কোপা শিরোপা জয় করেছিল লা সেলেস্তেরা। এরপর আবার সেই উল্টোপথে হাঁটার গল্প।

হারানো ওই দাপট ধীরে ধীরে ফিরে পাচ্ছে উরুগুয়ে। কোচদের কোচ মার্সেলো বিয়েলসার কাছে আছে এক জাদুর কাঠি। পুনরুত্থানের সফরে থাকা উরুগুয়ে সেই জাদুর ছোঁয়ায় ফুটবল মাঠে তৈরি করছে সুরের ছন্দ। গ্রুপের ৩ ম্যাচে ৯ গোল দিয়ে কোয়ার্টারে ওঠে তারা। এরপর টাইব্রেকারে বিদায় করে দেয় ব্রাজিলের মতো আসরের ফেভারিট দলকে। আর দল উরুগুয়ের পক্ষে এ সবকিছু সম্ভব করার কারিগর বিয়েলসা। কারণ আর্জেন্টাইন এই মানুষটির ফুটবলকে দেখার চোখই আর সবার চেয়ে আলাদা। সেমিফাইনালের আগে যেমন ফুটবলকে বাণিজ্যিকীকরণের ছাঁচে ফেলে দেওয়ার বর্তমান সময়ে প্রচেষ্টাকে দায়ী করলেন খেলাটির আকর্ষণ কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে, ‘আপনি যদি আনন্দের জন্য খেলা উপভোগ করাকে গুরুত্ব না দেন তাহলে এটা শুধু ব্যবসাই বাড়াবে। কারণ বাণিজ্য শুধু দর্শকের সংখ্যা বাড়াতে চায়। ফুটবল শুধু পাঁচ মিনিটের হাইলাইটস নয়। ফুটবল এর চেয়ে অনেক বড় কিছু। ফুটবল একটি সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি। ফুটবল একটি জাতির পরিচায়ক।’ নিজের দলকেও তিনি পরিচালনা করছেন একই আদর্শে। আপনাকে সবসময় বলের পেছনে ছুটতে হবে, পজিশন হারালে প্রতিপক্ষের ওপর চড়াও হতে হবে মারাত্মকভাবে। আর তার দলের ডারউইন নুনেজ, ফেদে ভালভার্দে, রোনাল্ড আরাওহো, উগার্তেরা যে করেই হোক ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চটুকুই দিয়ে আসবেন মাঠে।

বিয়েলসার পর আরেক আর্জেন্টাইনের কথা বলতেই হয়। তিনি ৯০ বিশ্বকাপে ডিয়েগো ম্যারাডোনার সতীর্থ নেসতর লরেনজো। ২০২২ সালের জুলাইয়ে কলম্বিয়ার দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার পর থেকে ২০২২ সালের জুলাইয়ে কলম্বিয়ার দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার পর থেকে হারের সঙ্গে কখনো সাক্ষাৎ করেননি। ২৪ ম্যাচে ৬টি কেবল ড্র, বাকি ১৮টিতেই জিতে মাঠ ছেড়েছেন। তার একাদশের প্রতিটি খেলোয়াড় বাকি দশ জনের জন্য ফুটবল খেলে। আর এবারের কোপার সেরা খেলোয়াড় হওয়ার দৌড়ে সবার সামনে আছেন হামেশ রদ্রিগেজ। গোলবারের সামনে দুর্দান্ত ক্যামিলো ভার্গাস। শিষ্যদের নিবেদনে তৃপ্ত লরেনজোও, ‘পুরো দলের মনোভাব দুর্দান্ত এবং প্রত্যেকে তার সতীর্থদের জন্য উজাড় করে দিচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য সেমি জেতা, কারণ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি এর পরেই।’ নর্থ ক্যারোলিনার শার্লটের ব্যাংক অফ আমেরিকা স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় উরুগুয়ে-কলম্বিয়ার আড়ালে আদতে দ্ইু আর্জেন্টাইনের মস্তিষ্কের লড়াইয়ের অপেক্ষা।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত