সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩০ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

অনন্য কীর্তির সামনে মেসিরা

আপডেট : ১১ জুলাই ২০২৪, ১২:২৭ এএম

ফুটবল ইতিহাসে একমাত্র দল হিসেবে টানা তিনটি বড় টুর্নামেন্টের শিরোপা জয়ের রেকর্ড আছে স্পেনের। তাদের সেই কীর্তিতে ভাগ বসানোর দারুণ সুযোগ পেয়ে গেছে আর্জেন্টিনা। যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির প্রথম সেমিফাইনালে মঙ্গলবার কানাডাকে মেসি-আলভারেজদের গোলে ২-০তে হারিয়ে কোপা আমেরিকার ফাইনালে উঠেছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। রবিবারের ফাইনালে জিতলেই অনন্য কীর্তি গড়বে মেসি-ডি মারিয়াদের আর্জেন্টিনা।

২০২১ সালে কোপা আমেরিকা জয়ের মধ্য দিয়ে ২৮ বছরের শিরোপা খরা কাটিয়েছিল আলবিসেলেস্তেরা। পরের বছর কাতারে বিশ্বকাপ শিরোপাও জেতে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। সেই ফাইনালে ওঠার পথে সেমিফাইনালে আলভারেজ জোড়া, মেসি করেছিলেন এক গোল। কোপার সেমিফাইনালে তারাই গোল করলেন আবার। ম্যাচের ২২ মিনিটেই এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। মাঝমাঠ থেকে ফাঁকায় থাকা আলভারেজের দিকে বল বাড়ান রদ্রিগো ডি পল। দারুণ রিসিভের পর এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে কানাডার জালে বল পাঠান ম্যানসিটির নাম্বার নাইন। চলমান আসরে এটি দ্বিতীয় গোল আলভারেজের; সব মিলিয়ে আর্জেন্টিনার জার্সিতে নবম। বিশ্বকাপ ও কোপা আমেরিকার সেমিফাইনালে গোল করা আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় ও ইতিহাসের চতুর্থ ফুটবলার হলেন তিনি।

৫১ মিনিটে ডান দিক থেকে মেসি ঢুকে যান কানাডার বক্সে। তার বাড়ানো বলে তৈরি হয় জটলা। এক ডিফেন্ডার বল ক্লিয়ার করতে গেলে সেটি চলে যায় এনজো ফার্নান্দেজের কাছে। ফাঁকায় দাঁড়ানো মিডফিল্ডার পোস্ট লক্ষ্য করে শট নেন। তার শট নেওয়া দেখে কানাডার গোলকিপার বাম দিকে ডাইভ দেন। বক্সে থাকা মেসি গোল নিশ্চিত করতে বাম পা ছুঁয়ে বদলে দেন বলের গতিপথ। বল চলে যায় জালে। কোপা আমেরিকার ইতিহাসে এটি মেসির ১৪তম গোল। এবারের আসরে প্রথম। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে মেসির গোল হলো ১০৯টি। সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় ইরানের আলি দাইয়িকে (১০৮) ছাড়িয়ে এককভাবে দ্বিতীয় স্থানে উঠলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

ম্যাচ শেষে গোলটি নিয়ে মেসি বলেন, ‘আমি এনজোকে বলেছিলাম, থামা যাবে না। কিন্তু আমি দেখেছি যে গোলকিপার ডাইভ দিচ্ছে এবং বলটি ধীরে ধীরে আসছে, তাই আমি এটির গতিপথ বদলে দিই।’ চোট নিয়ে টুর্নামেন্ট খেলতে নামা মেসি দারুণ খেলে তৃপ্ত, ‘গত কোপা ও বিশ্বকাপে যেমন কাটিয়েছি এবারও তেমন অনুভব করছি... এসবই আমার শেষের লড়াই। আমি এর সর্বোচ্চটুকু উপভোগ করার চেষ্টায় আছি।’

ফাইনালে উঠে আর্জেন্টিনার কোচ স্কালোনি জানালেন, ম্যাচটি মোটেও সহজ ছিল না। ‘আরেকটি ফাইনালে ওঠা খুবই কঠিন। এটি কঠিন কারণ আমরা জানি এখানে পৌঁছানো কতটা কঠিন ছিল। সবাই ভেবেছিল, এটি হয়তো সহজ হবে। কিন্তু একদমই এমন ছিল না। খুবই কঠিন প্রতিপক্ষ হয়ে কানাডাও এটি প্রমাণ করল।’

ডি মারিয়া আগেই জানিয়েছিলেন কোপা আমেরিকা শেষে জাতীয় দল থেকে অবসর নেবেন। ক্লাব পর্যায়েও ডি মারিয়া এখন কোনো দলে নেই। দল ফাইনালে ওঠায় দেশের জার্সিতে সেটিই হতে যাচ্ছে তার শেষ ম্যাচ।

ম্যাচ শেষে ডি মারিয়া বলেন, ‘১৪ জুলাই (বাংলাদেশ সময় ১৫ জুলাই সকালে ফাইনাল) যাই ঘটুক, আশা করি, মাথা উঁচু রেখে বিদায় নিতে পারব। মাথা উঁচু রেখে বিদায় নিতে যা যা করা সম্ভব, সবই করেছি। নিজেকে নিংড়ে দিয়েছি। এই জার্সির জন্য নিংড়ে দিতে কোনো কিছু বাকি রাখিনি। হ্যাঁ, সময় কখনো কখনো আমার পক্ষে ছিল না। তবে শেষ দিকে এসে এটা শুরু হয়েছে।’ ম্যাচের আগে অধিনায়ক মেসি বলেছেন, ডি মারিয়ার জন্য তারা ফাইনালে উঠবে চান। সেই কথাও জানান ডি মারিয়া।

কোপার ইতিহাসে ৩০তম বার ফাইনালে উঠে এখন প্রতিপক্ষের অপেক্ষায় রেকর্ড ১৫ বারের চ্যাম্পিয়নরা। উরুগুয়ে ও কলম্বিয়া ম্যাচে জয়ী দলের বিপক্ষে ফাইনালে খেলবে আর্জেন্টিনা।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত