সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার রায় আপিল বিভাগে স্থগিত

আপডেট : ০৯ জুন ২০২৬, ১২:৩২ পিএম

সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক ও স্বাধীন সচিবালয় গঠনের নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করেছেন আপিল বিভাগ। আগামী ১৬ জুন এই মামলার পরবর্তী আপিল শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হাইকোর্টের দেওয়া পূর্বের রায়টি স্থগিত থাকবে বলে আদালত জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (৯ জুন) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং অপরপক্ষে অংশ নেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। এর আগে সকালে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি শুরু হয়।

গত ২ সেপ্টেম্বর বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ তিন মাসের মধ্যে স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিয়ে রায় দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে গত ৭ এপ্রিল এই মামলার ১৮৫ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়।

হাইকোর্টের ওই রায়ে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের একটি বিশেষ বিধান বাতিল করা হয়েছিল, যার অধীনে অধস্তন আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ, পদোন্নতি, কর্মস্থল নির্ধারণ ও ছুটি মঞ্জুরির ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে ন্যস্ত ছিল। একই সাথে ২০১৭ সালের তৈরি করা বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধিও বাতিল ঘোষণা করা হয়। হাইকোর্টের এই রায়ের ফলে নিম্ন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলার পুরো দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের ওপর বর্তায়।

২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের সাতজন আইনজীবী সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ এবং ২০১৭ সালের জুডিসিয়াল সার্ভিস বিধিমালার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এই রিট পিটিশনটি দায়ের করেন। একই সাথে তারা বিচার বিভাগের জন্য সম্পূর্ণ পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানান। রিটের প্রেক্ষিতে ওই বছরের ২৭ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করেছিলেন।

সে সময় আদালতে রিটকারীদের পক্ষে আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির এবং অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে সিনিয়র অ্যাডভোকেট শরীফ ভূঁইয়া অংশ নেন। তৎকালীন রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।

বিদ্যমান সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, অধস্তন আদালতের বিচারক ও ম্যাজিস্ট্রেটদের বদলি, পদোন্নতি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার মূল এখতিয়ার রাষ্ট্রপতির হাতে। রাষ্ট্রপতি সুপ্রিম কোর্টের সাথে পরামর্শ করে এই সিদ্ধান্ত নেন। তবে রিটকারী আইনজীবীদের দাবি, এই বিধানের কারণে কার্যত বিচার বিভাগে নির্বাহী বিভাগের সরাসরি হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরি হয়, যা বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতায় বাধা সৃষ্টি করে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট থেকে জানা যায়, ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানে নিম্ন আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণের পূর্ণ ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের হাতেই ছিল। ১৯৭৪ সালে চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে এই ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির অধীনে আনা হয়। পরবর্তীকালে সংবিধানের পঞ্চম ও পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বর্তমান নিয়মটি বহাল রাখা হয়, যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আইনি বিতর্ক চলছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত