লিবিয়ায় মানবপাচার চক্রের কবলে ৩০০ কুর্দি যুবক

আপডেট : ০৯ জুন ২০২৬, ০১:০৭ পিএম

গত গ্রীষ্মে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করা তিন শতাধিক অভিবাসীকে লিবিয়ায় অপহরণ করা হয়েছিল। তাদের ওপর চালানো হয় নির্যাতন, আর মুক্তিপণ না দিলে জোরপূর্বক কিডনি অপসারণের হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে বিবিসির নতুন অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

অপহৃতদের সবাই ছিলেন ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের তরুণ। লিবিয়ার একটি সশস্ত্র মিলিশিয়া তাদের আটক করে পরিবারের কাছ থেকে প্রত্যেকের জন্য পাঁচ হাজার ডলার (প্রায় তিন হাজার সাতশ পাউন্ড) মুক্তিপণ দাবি করে। নির্ধারিত সময়ে অর্থ পরিশোধ না করলে বন্দিদের কিডনি তুলে নেওয়া হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়। 

মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা নির্যাতনের নানা চিহ্ন দেখিয়েছেন এবং জানিয়েছেন, তাদের অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রাখা হতো। একটি কক্ষে প্রায় ১৮০ জনকে একসঙ্গে বন্দি করে রাখা হয়েছিল বলে তারা দাবি করেন।

অন্তত একজন জিম্মির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে। তবে এখনো কতজন বন্দি অবস্থায় রয়েছেন, তা স্পষ্ট নয়।

যে মিলিশিয়াটি অভিবাসীদের লিবিয়ার ভেতর দিয়ে ভূমধ্যসাগরীয় উপকূল পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল, তারাই পরে তাদের আটক করে। জানা গেছে, পুরো যাত্রার আয়োজনকারী ইরাকি কুর্দি মানবপাচারকারী নোয়া অ্যারনের সঙ্গে অর্থ লেনদেন নিয়ে বিরোধের জেরে এই ঘটনা ঘটে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিবিসির একটি তদন্তকারী দলের সঙ্গে এক স্থানীয় ব্যক্তি যোগাযোগ করে জানান, তার ছেলে অপহৃতদের মধ্যে একজন ছিলেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী অভিবাসীদের উত্তর আফ্রিকা হয়ে লিবিয়া অতিক্রম করে ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে ইউরোপে প্রবেশ করার কথা ছিল।

এই পথের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল লিবিয়া। জাতিসংঘের উপদেষ্টা অ্যান্থনি ডানকারলির ভাষায়, দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর কেন্দ্রীয় শাসনের অভাব রয়েছে। বর্তমানে লিবিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চল বিভিন্ন প্রতিদ্বন্দ্বী মিলিশিয়ার নিয়ন্ত্রণে। মানবপাচার চক্রগুলোও তাদের সহযোগিতার ওপর নির্ভর করে কাজ চালায়।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত