ঈশ্বরগঞ্জে এক রাতে ৩ কৃষকের ৭ গরু চুরি, আতঙ্কে খামারিরা

আপডেট : ০৯ জুন ২০২৬, ০৪:০৬ পিএম

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় এক রাতে তিন কৃষকের সাতটি গরু চুরি করেছে সংঘবদ্ধ চোরচক্র। সোমবার দিবাগত রাতে উপজেলার ঈশ্বরগঞ্জ ইউনিয়নের চরহোসেনপুর পূর্বপাড়া গ্রাম এবং মাইজবাগ ইউনিয়নের হারুয়া এলাকা থেকে গরুগুলো চুরি হওয়ার ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীদের দাবি, চুরি যাওয়া গরুগুলোর আনুমানিক মূল্য সাড়ে ৬ লাখ টাকা।

এ ঘটনায় চরহোসেনপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল মালেক (৪৭) গরুগুলো উদ্ধারের দাবিতে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। 

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত ২টার দিকে গোয়ালঘরে থাকা গরুগুলো দেখে ঘুমাতে যান আব্দুল মালেক। ভোর ৫টার দিকে ঘুম থেকে উঠে গোয়ালঘরে গিয়ে দেখেন, সেখানে কোনো গরু নেই। তখন তিনি চিৎকার করে পরিবারের অন্য সদস্যদের ডাকেন। এ সময় তার ভাই আব্দুল খালেক গোয়ালঘরে গিয়ে দেখেন, তার তিনটি গরুও চোরচক্র নিয়ে গেছে।

ভুক্তভোগীদের মধ্যে ঈশ্বরগঞ্জ ইউনিয়নের চরহোসেনপুর পূর্বপাড়া গ্রামের আব্দুল মালেকের তিনটি এবং তার ভাই আব্দুল খালেকের তিনটি গরু চুরি হয়েছে। চোরেরা গোয়ালঘরের তালা কেটে মোট ছয়টি গরু নিয়ে যায়। এছাড়া মাইজবাগ ইউনিয়নের হারুয়া গ্রামের কৃষক রিপন মিয়ার একটি গরুও চুরি হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ লাখ টাকা।

এ ঘটনায় স্থানীয় খামারি ও কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দিন দিন সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

ভুক্তভোগী কৃষক আব্দুল খালেক কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘এই গরুগুলোই ছিল আমার শেষ সম্বল। এর মধ্যে দুটি ষাঁড় ও একটি গাভী চুরি হয়েছে। গরুগুলোর আনুমানিক মূল্য প্রায় আড়াই লাখ টাকা। ভেবেছিলাম, গরুগুলো আরও বড় হলে বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ করব। কিন্তু এখন আমি একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেলাম।’

অপর ভুক্তভোগী কৃষক আব্দুল মালেক জানান, তার একটি গাভী অন্তঃসত্ত্বা ছিল এবং কয়েক দিনের মধ্যেই বাচ্চা প্রসব করার কথা ছিল। এছাড়া গোয়ালে আরও দুটি বকনা গাভী ছিল। চুরি যাওয়া গরুগুলোর আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩ লাখ টাকা।

তিনি বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। সারা বছর কষ্ট করে গাভীগুলো পালন করেছি। ভেবেছিলাম, গাভীটি বাচ্চা দেওয়ার পর দুধ বিক্রি করে সন্তানদের পড়াশোনার খরচ চালাব। কিন্তু চোরচক্র শুধু গরুই নেয়নি, আমার পরিবারের জীবিকা ও সন্তানদের ভবিষ্যৎও কেড়ে নিয়েছে।’

চরহোসেনপুর গ্রামের বাসিন্দা ইমরান হাসান মিলন বলেন, ‘গরুগুলো ছিল পরিবারগুলোর একমাত্র সম্বল। চুরির ঘটনায় তারা নিঃস্ব হয়ে গেছে। এখন গ্রামের অন্যান্য খামারি ও কৃষকরাও আতঙ্কে রয়েছেন। চুরি রোধে পুলিশের আরও কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।’

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আজম বলেন, ‘গরু চুরির ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। চুরি যাওয়া গরুগুলো উদ্ধারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ শুরু করেছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত