চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়ায় সেই চার বছরের শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে করা মামলার একমাত্র আসামি মনির হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফছা ঝুমা এ আদেশ দেন। এ সময় আসামি মনির হোসেন ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আসামি মনির হোসেনের জন্য আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়।
ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী মারুফ বলেন, ‘নগরের বাকলিয়ায় চার বছরের এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের মামলার একমাত্র আসামি মনির হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার কার্যক্রম শুরুর আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। বুধবার (১০ জুন) স্বাক্ষীর জন্য দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
জানা গেছে, উক্ত শিশুকে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে শেষ করে গত ৪ জুন চট্টগ্রাম মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত ৬ এ মামলার চার্জশিট জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা নগরের বাকলিয়া থানার পরিদর্শক (নিরস্ত্র) তানভীর আহমেদ। গত ২১ মে বাকলিয়া থানার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের নুর হোসেন চেয়ারম্যানঘাটা এলাকার আবু জাফর রোডের একটি গুদামকক্ষে চার বছরের এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় বাকলিয়া থানায় মনির হোসেনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী শিশুর বাবা মেহেদী হাসান।
অভিযুক্ত মনির হোসেনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালতে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিলেন। চার্জশিটে একমাত্র আসামি করা হয়েছে মনির হোসেনকে (৩০)। তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর থানার জাহাজপুর ইউনিয়নের বাখরাবাদ এলাকায়। মামলায় মোট সাক্ষি করা হয়েছে ১৫জনকে। চার্জশিটে আসামির বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (২০০০) সংশোধন (২০২৬) এর ৯ (১) ধারার অপরাধ সংঘঠনের অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ বলছে, ভুক্তভোগী শিশুর চিকিৎসা প্রতিবেদন, ডিএনএ রিপোর্ট, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পর অভিযুক্ত মনির হোসেনকে গ্রেপ্তারের সময় এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। আসামিকে থানায় নেওয়ার প্রস্তুতিকালে একদল ব্যক্তি পুলিশের কাজে বাধা দেয় এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও সাংবাদিক আহত হন। পাশাপাশি পুলিশের কয়েকটি গাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ সদস্যদের আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে এ ঘটনায় চাক্তাই পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) মোবারক হোসেন বাদী হয়ে পৃথক একটি মামলা করেন। মামলায় ৫৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।