একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি বিভিন্ন প্রস্তাব রেখে 'তারুণ্যের ইশতেহার ভাবনা' তৈরি করেছে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা। বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ব্যানারে এই বিভিন্ন প্রস্তাব প্রচার করা হয়েছে।
এতে সরকারি ও বেসরকারি চাকরির আবেদন ফি সম্পূর্ণ বাতিল, নিয়োগের ক্ষেত্রে তথ্য যাচাইয়ের নামে হয়রানি বন্ধসহ বিভিন্ন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতারা তাদের এই ইশতেহার নিয়ে সোমবার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে নয়া পল্টনে দলটির কার্যালয়ে বৈঠক করেছেন। এই ইশতেহার ভাবনা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, গণফোরামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কাছে পর্যায়ক্রমে তুলে ধরা হবে বলে তারা জানান।
তারুণ্যের ইশতেহার ভাবনায় বলা হয়, আগামী নির্বাচনে সারাদেশে ভোটার ১০ কোটি ৪৪ লাখ। এর মধ্যে তরুণ ভোটার ৪ কোটি ২০ লাখ। সে হিসেবে মোট ভোটারের ৪০ শতাংশের বেশি তরুণ।
শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন শেষে উপার্জনমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগের পাশাপাশি যোগ্যতা অনুযায়ী কাজের নিশ্চয়তা, উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে অধিক হারে কর্মসংস্থান তৈরি, মানসম্মত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, বেকার তরুণদের আত্মকর্মসংস্থান বা উদ্যোক্তা সৃষ্টির লক্ষ্যে সহজ শর্তে ন্যূনতম ৫ লাখ টাকা ঋণ প্রদান এবং প্রশাসনিক কাজের ভোগান্তি কমাতে ‘ওয়ান ডেস্ক সার্ভিস’ চালুর দাবি করা হয়েছে ইশতেহার ভাবনায়।
অধিকসংখ্যক তরুণদের আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যুগোপযোগি পদ সৃষ্টির দাবি করা হয়েছে এতে।
সরকারি চাকরি আইনের আলোকে বেসরকারি চাকরি আইন প্রণয়নে উদ্যোগ, সরকারি ও বেসরকারি চাকরির মধ্যে বৈষম্য দূর, নিয়োগ পরীক্ষার প্রচলিত পদ্ধতি পরিবর্তন, পরিবর্ধন, উন্নয়ন ও নতুন পদ্ধতি প্রণয়নে আধুনিক বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তিনির্ভর পরীক্ষা পদ্ধতি চালুর দাবি করা হয়েছে উল্লেখিত ইশতেহার ভাবনায়।
তারুণ্যের ইশতেহার সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে জানিয়ে পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হাসান বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে তারুণ্যের চাওয়া-পাওয়ার বিষয়টি যেন প্রাধান্য পায় সেজন্য এই প্রচারপত্র।
রুহুল কবীর রিজভী বলেন, বিএনপি দলীয় ইশতেহারে তারুণ্যের চিন্তার প্রতিফলন ঘটাবে।