দ্বিতীয় ইনিংসে পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানদের দাঁড়াতেই দিল না নিউজিল্যান্ডের বোলাররা। তাদের অসাধারণ পারফরম্যান্সে আবুধাবি টেস্ট জেতার পাশাপাশি দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটালো কিউইরা। দেশের বাইরে প্রতিপক্ষটির বিপক্ষে ৪৯ বছর পর সিরিজ জয়ের আনন্দে মাতলো তারা।
শেখ আবু জায়েদ স্টেডিয়ামে শুক্রবার পাকিস্তানকে ১২৩ রানে হারায় নিউজিল্যান্ড। দ্বিতীয় ইনিংসে প্রতিপক্ষকে ২৮০ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দেয় তারা। জবাবে ১৫৬ রানে গুঁড়িয়ে যায় সরফরাজ আহমেদের দল।
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই খেই হারায় পাকিস্তান। শীর্ষ পাঁচ ব্যাটারের কাছ থেকে আসে মাত্র ৪৪ রান!
কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন বাবর আজম। সরফরাজের সঙ্গে ৪৩ ও বিলাল আসিফের সঙ্গে ৩৩ রানের জুটি গড়েন ছয় নম্বরে নামা এই ব্যাটসম্যান। দলীয় ১৫০ রানে উইকেট ছাড়ার আগে ১১৪ বলে পাঁচ চারে খেলেন ৫১ রানের ইনিংস। বাবরের আউটে শেষ হয়ে যায় পাকিস্তানে সব আশা।
নিউজিল্যান্ডের বোলারদের মধ্যে তিনটি করে উইকেট নেন টিম সাউদি,অ্যাজাজ প্যাটেল ও উইলিয়াম সোমারভিলে। অভিষেক টেস্টে দুই ইনিংসে সাত উইকেট পেলেন অফস্পিনার সোমারভিলে। নিউজিল্যান্ডের হয়ে অভিষেক টেস্টে এটা চতুর্থ সেরা বোলিং।
এর আগে ৪ উইকেটে ২৭২ রান নিয়ে পঞ্চম দিন শুক্রবার দ্বিতীয় ইনিংসে ফের ব্যাট করতে নামে নিউজিল্যান্ড। হাসান আলির করা পঞ্চম দিনের প্রথম বলেই উইকেট ছাড়া হন আগের দিন ১৩৯ রানে অপরাজিত থাকা কেন উইলিয়ামসন।
তবে ষষ্ঠ উইকেটে কলিন গ্র্যান্ডহোমকে নিয়ে শুরুর ধাক্কা ভালো করেই সামাল দেন হেনরি নিকোলস। ৬২ রানের জুটি গড়েন তারা। ১৯ বলে ২৬ করা গ্র্যান্ডহোমকে উইকেট ছাড়া করে এই জুটিতে ফাটল ধরান ইয়াসির শাহ।
উইকেটের একপ্রান্ত আগলে রাখেন ৯০ রান নিয়ে দিন শুরু করা নিকোলস। বিচক্ষণতার সঙ্গে ব্যাট চালিয়ে টেস্টে চতুর্থ সেঞ্চুরির দেখা পান বাঁহাতি এই ব্যাটার। ৩৫৩ রানে ইনিংস ঘোষণা করে নিউজিল্যান্ড। ২৬৬ বলে ১২ চারে ১২৬ রানে অপরাজিত থাকেন নিকোলস।
নিউজিল্যান্ডের প্রথম ইনিংসটা তেমন আশানুরূপ ছিল না। তাদের ২৭৪ রানের জবাবে পাকিস্তান প্রথম ইনিংসে করেছিল ৩৪৮ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং ব্যর্থতায় ম্যাচ হারার পাশাপাশি ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হারাল ‘অননুমেয়’ পাকিস্তান।
ম্যাচ সেরা হয়েছেন নিউজিল্যান্ডের উইলিয়ামসন। সিরিজ সেরা পাকিস্তানের অফস্পিনার ইয়াসির শাহ।
আবুধাবিতে প্রথম টেস্টে ৪ রানের নাটকীয় জয়ে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েছিল নিউজিল্যান্ড। কিন্তু দুবাই টেস্টে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় পাকিস্তান। ইনিংস ও ১৬ রানের জয় নিয়ে সিরিজে সমতা ফিরিয়েছিল তারা।