রজার নামের বিখ্যাত সেই ক্যাঙ্গারুর মৃত্যু

বিশাল আকৃতি ও দৃষ্টিনন্দন শারীরের অধিকারী বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পাওয়া  ক্যাঙ্গারু রজার মৃত্যু বরণ করেছে। রজারের বয়স হয়েছিল ১২ বছর। বার্ধক্যের কারণে রজারের মৃত্যু বলে জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার এলিস স্প্রিংস এর ক্যাঙ্গারু অভয়ারণ্যের পরিচালক ক্রিস ব্রোলগা বার্নস। 

বিবিসি জানিয়েছে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় রজারের মা মারা যায়। এরপর তাকে উদ্ধার করে এলিস স্প্রিং এর ক্যাঙ্গারু আশ্রয়কেন্দ্রে লালন-পালন করা হয়। এখানে সে দারুণভাবে বাড়তে থাকে। দীর্ঘদেহী রজারের উচ্চতা ছিল দুই মিটার (ছয় ফিট সাত ইঞ্চি); ওজন ৮৯ কেজি। 

রজারের মৃত্যু সংবাদ দিয়ে ক্রিস বার্নস বিবিসিকে বলেন, ‘আমরা আমাদের মিষ্টি বালককে হারিয়েছি।’
তিনি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় রজারের মায়ের মৃত্যু হলে মৃত মায়ের থলে থেকে শিশু রজারকে উদ্ধার করি।  
বার্নস ক্যাঙ্গারুর বাচ্চাটিকে বাঁচাতে একটি ক্যাঙ্গারু আশ্রয় কেন্দ্র খোলেন। ১২ টি বাচ্চা ক্যাঙ্গারু নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্র যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে এখানে ৫০ টি ক্যাঙ্গারু আছে।  
২০১৫ সালে পেশিবহুল শরীরে একটি স্টিলের বালতি দুমড়ে মুচড়ে দেওয়ার ভিডিও ভাইরাল হলে রজার বিশ্বব্যাপী আলোচনায় চলে আসে। 
 
বার্নস বলেন, রজার ছিল পেশীবহুল। তার শরীরের গঠন এবং শক্তি অন্যসব ক্যাঙ্গারুর মতো ছিল না। সে আর সব পুরুষ ক্যাঙ্গারুর মধ্য থেকে আলাদাভাবে চোখে পড়ত। 
যেহেতু ক্যাঙ্গারুটিকে টিভিতে দেখানো হয় এবং তার কিছু ভিডিও ভাইরাল হয় ফলে সে অনেক মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ এবং ভালোবাসা অর্জন করে বলে জানান বার্নস। 

তিনি বলেন, রজার মারা গেছে আমি এমনটা মনে করি না। সে নতুন করে বিশ্বব্যাপী সবার মনোযোগ কেড়েছে। রজারকে ক্যাঙ্গারু আশ্রয়কেন্দ্রেই দাফন করা হয়েছে। সে সবসময় আমাদের সঙ্গেই থাকবে।