সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যাকাণ্ডের আগে পরে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে নিয়মিত ব্যক্তিগত আলাপ চালিয়ে গিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা এবং শীর্ষ উপদেষ্টা জারেদ কুশনার।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের বরাত দিয়ে এমনটা জানিয়েছে তুরস্কের সংবাদমাধ্যম হুরিয়াত ডেইলি।
ওয়াশিংটনের সাবেক দুই শীর্ষ কর্মকর্তা এবং দুই সৌদি সূত্রের বরাত দিয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমস ওই প্রতিবেদনে জানায়, কুশনারের সঙ্গে যুবরাজের এ আলাপ ছিল একেবারেই অনানুষ্ঠানিক।
গত ২ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন ওয়াশিংটন পোস্টের এই কলামিস্ট। শুরুতে তার নিখোঁজের অভিযোগ অস্বীকার করে সৌদি।
তবে সংবাদমাধ্যমে তুর্কি গোয়েন্দাদের একের পর এক ‘তথ্য ফাঁসে’র মুখে ১৯ অক্টোবর খাসোগি হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে বলে স্বীকার করে সৌদি কর্তৃপক্ষ। যদিও এর সাথে সৌদি যুবরাজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে তারা দাবি করে।
নিউইয়র্ক টাইমসকে সূত্রগুলো জানায়, হোয়াইট হাউজের ভেতর থেকে কুশনারই প্রাথমিকভাবে এমবিএসকে খাসোগি হত্যাকাণ্ডের দায় থেকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন। পশ্চিমা অঙ্গনে সৌদি যুবরাজকে সংক্ষেপে এমবিএস (মোহাম্মদ বিন সালমান) বলেই সম্বোধন করে থাকে।
তারা আরো জানান, কুশনারের সঙ্গে এমবিএসের ঘনিষ্ঠতা দীর্ঘদিনের। প্রায় আড়াই বছর ধরে তাদের মধ্যে নিয়মিত খুদে বার্তা ও ইমেইল আদান-প্রদান এবং ফোনে যোগাযোগ হয়েছে। এমনকি খাসোগি হত্যাকাণ্ডের পরেও তাদের মধ্যে যোগাযোগ ছিল।
তবে এ ঘটনার পর উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে কুশনার এবং এমবিএসের মধ্যে একটি মাত্র ফোনালাপের ব্যাপারে স্বীকার করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ১০ অক্টোবর এই ফোনালাপে কুশনারের সঙ্গে আরো যুক্ত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বল্টন।
তবে এ ফোনালাপের পরেও কুশনার এবং এমবিএসের মধ্যে নিয়মিত অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ হয়েছে এমনটাই জানিয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমস।