জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে আবারো রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের প্রস্তাব তোলা হয়েছে। সংস্থাটির সদর দপ্তর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে স্থানীয় সময় গত সোমবার এই প্রস্তাব তোলে যুক্তরাজ্য।
চীন ও রাশিয়া এতে সায় দেয়নি বলে কূটনীতিকদের বরাতে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
পরিষদের বৈঠকে উত্থাপিত খসড়া প্রস্তাবনার উদ্দেশ্য, রোহিঙ্গা নির্যাতনের ঘটনায় মিয়ানমারকে দায়ী এবং সাত লাখেরও বেশি শরণার্থীকে প্রত্যাবাসনে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কূটনীতিক রয়টার্সকে জানান, গত মাসে ওই খসড়া পরিষদের সদস্যদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এ নিয়ে কয়েক ধাপে আলোচনা হবে। প্রাথমিক আলোচনায় রাশিয়া ও চীনের প্রতিনিধি উপস্থিত থাকলেও তারা আলোচনায় অংশে নেননি বলে জানান তিনি।
চলতি বছরের প্রথম দিকেও এ ধরনের একটি প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছিল দেশ দুটি।
খসড়ায় জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান কমিশনের করা সুপারিশ এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন ও শরণার্থী সংস্থার সঙ্গে করা সমঝোতা বাস্তবায়নে মিয়ামনারকে তাগিদ দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।
কিছু ক্ষেত্রে অবরোধ আরোপের কথাও বলা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচারের বিষয়ে কিছু উল্লেখ করা হয়নি।
ভোটাভুটির জন্য খসড়াটি পরিষদে কবে তোলা হতে পারে এ ব্যাপারে কিছু বলতে পারেননি ওই কূটনীতিক।
পরিষদের বিধান অনুযায়ী, কোনো প্রস্তাবনা পাসের ক্ষেত্রে ১৫ সদস্যের মধ্যে কমপক্ষে ৯টি ভোট লাগবে। কিন্তু স্থায়ী পাঁচ সদস্য রাষ্ট্রের (যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া ও চীন) কেউ ‘ভেটো’ দিলে প্রস্তাব পাস হবে না।
এ বিষয়ে জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার দূত বাসিলি নেবেনজিয়া রয়টার্সকে বলেন, ‘আমি মনে করি এটা অনুপযুক্ত, অর্থহীন ও সময়োপযোগী নয়।’
এ বিষয়ে বার্তা সংস্থাটি জাতিসংঘে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত মা ঝাউজু ও মিয়ানমারের হ দু সুয়ানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা কোনো মন্তব্য করেননি।
গত বছরের আগস্টে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর নতুন করে অভিযান শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। সেখানে গণহত্যা, গণধর্ষণ, জ্বালাও-পোড়াও, লুটপাট চালায় সেনা সদস্যরা।
জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য একে জাতিগত নিধনযজ্ঞ বলে উল্লেখ করেছে। নির্যাতনে বাস্তুচ্যুত সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।
বৈশ্বিক চাপের মুখে এদের ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করলেও তা শুরু করেনি মিয়ানমার।
অবস্থা পর্যবেক্ষণে চলতি বছরের এপ্রিলে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ ও মিয়ানমারে সফর করে। তাদের দেওয়া প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত অক্টোবরে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর গণহত্যা চালানো হয়েছে বলে বিবৃতি দেয় জাতিসংঘ।
চীন ও রাশিয়া বিবৃতি ঠেকাতে তৎপরতা চালালেও তা ব্যর্থ হয়। পরে তারা নিরাপত্তা পরিষদে ওঠা এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে।