অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাতব্য সংগঠন ট্রাম্প ফাউন্ডেশন। ট্রাম্প এবং তার পরিবারের সদস্যরা এই সংস্থার অর্থ তছরুপ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল বারবারা আন্ডারউড এক ঘোষণার মধ্য দিয়ে ট্রাম্প ফাউন্ডেশন বন্ধের সিদ্ধান্তের কথা জানান। সংগঠনটির অবশিষ্ট অর্থ দাতব্য কাজে খরচ ও বিতরণের কাজ তিনি তত্ত্বাবধান করবেন।
বিবিসি জানায়, ট্রাম্প এবং তার তিনজন ছেলেমেয়ে এই সংস্থাটির অর্থ ব্যক্তিগত এবং রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করেছেন বলে বারবারার অভিযোগ।
তবে ফাউন্ডেশনের আইনজীবী এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “অ্যাটর্নি জেনারেল বিষয়টিকে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছেন।”
বারবারা বলেন, “ট্রাম্প এবং তার তিন ছেলেমেয়ে- ডোনাল্ড জুনিয়র, ইভাঙ্কা এবং এরিকের বিরুদ্ধে এই মামলা চলমান থাকবে। আইন লঙ্ঘন করে খুব নোংরাভাবে ট্রাম্প ফাউন্ডেশনকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেছেন প্রেসিডেন্ট পরিবার।”
তিনি বলেন, “দাতব্য কাজের নামে সংস্থাটি অর্থ সংগ্রহ করলেও ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণায় অবৈধভাবে এর অর্থ ব্যবহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত স্বার্থে স্বেচ্ছাচারী হয়ে এর অর্থ খরচ করা হয়।”
বিবিসি জানায়, ট্রাম্প এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে বেশ কিছু অভিযোগ তদন্তাধীন আছে। সর্বশেষ যুক্ত হলো নিজের নামে দাতব্য সংস্থার অর্থ জালিয়াতির অভিযোগও।
তবে প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে চলমান সবচেয়ে বড় অভিযোগ হচ্ছে নির্বাচনী প্রচারণায় রাশিয়ার সঙ্গে যোগসাজশ। সাবেক এফবিআই ডিরেক্টর রবার্ট মুলার এই মামলা তদন্ত করছেন।
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ এবং দাতব্য সংস্থাটির কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন অ্যাটর্নি জেনারেল বারবারা।
তিনি বলেন, “আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিজয়। এর মাধ্যমে এটাই প্রমাণিত হয় যে আইন সবার জন্য সমান।”
তবে অ্যাটর্নি জেনারেলের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে এখনো কোনো ধরনের মন্তব্য করেননি ট্রাম্প এবং তার তিন ছেলেমেয়ের কেউই।
প্রসঙ্গত, এই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে গত এক দশকে ৭০০টি বিভিন্ন দাতব্য কর্মসূচিতে প্রায় এক কোটি ৯০ লাখ ডলার খরচ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। এর মধ্যে ৮০ লাখ ডলারেরও বেশি অর্থ প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত বলে দাবি ফাউন্ডেশনটির।