একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও এর জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রচারে প্রার্থী এবং নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, মামলা, গ্রেপ্তারের খবরে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা ‘অবাক’ হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।
বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে ঢাকাস্থ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও পলিটিক্যাল সেক্রেটারিদের সঙ্গে ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের বৈঠকের পর গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি জাফরুল্লাহ চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপি দলীয় প্রার্থীদের যে পুলিশ ধরপাকড় করছে তা কূটনীতিকদের জানানো হয়েছে।
বুধবার দুপুর আড়াইটায় রাজধানীর গুলশানে একটি হোটেলে এ বৈঠক শুরু হয়। এতে ড. কামাল হোসেন উপস্থিত থাকেন।
তিনি বলেন, পুলিশ সরকার দলীয় কর্মীদের মতো আচরণ করছে। প্রচার-প্রচারণা শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ২১শ’ নেতাকর্মীকে পুলিশ আটক করেছে। এছাড়া ১৫ প্রার্থী পুরাতন বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম এ সংগঠক বলন, যদিও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংলাপে নতুন করে ধরপাকড় ও মামলা করা হবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এসব শুনে কুটনীতিকরা অবাক হয়েছেন।
গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি ও ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে জানান, প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সরকারের নাচের পুতুল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সারা দেশে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীসহ সরকার বিরোধী প্রার্থীরা হামলা-মামলার শিকার হলেও সে বিষয়ে ইসি কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। লিখিতভাবে কূটনীতিকদের এসব জানিয়েছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন।
বৈঠকে অংশ নেওয়া সুব্রত চৌধুরী আরো বলেন, বৈঠকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপি প্রার্থীদের ওপর সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের হামলার ভিডিও দেখানো হয়। হামলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যে নীরব ভূমিকা পালন করেছে কিংবা সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগ দেয় তাও তাদের দেখানো হয়েছে।
সরকারের নির্যাতনের বিষয়ে সোচ্চার হওয়ার জন্য ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে কূটনীতিকদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে বৈঠক শেষে বেরিয়ে যাওয়ার সময় ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলার নির্বাচন পদ্ধতি ঠিক রাখতে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সকল রাজনৈতিক দল ও ইসিকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন।
বৈঠকে ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য সাবিহ উদ্দিন আহমেদ, বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার ও নির্বাহী কমিটির সদস্য জেবা আমিন খান প্রমুখ।
বৈঠকে কূটনীতিকদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার, পাকিস্তানের ডেপুটি হাইকমিশনার, তুরস্কের রাষ্ট্রদূত, কানাডা, ডেনমার্ক, ব্রিটেন, জাপান, ইন্দোনেশিয়া, চীনসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও পলিটিক্যাল সেক্রেটারিরা উপস্থিত ছিলেন।