ধানের শীষের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ‘ষড়যন্ত্রের’ প্রতিবাদ ফখরুলের

বিএনপির প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে থাকা প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করে তার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল বুধবার এক বিবৃতিতে তিনি এ প্রতিবাদ জানান।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রতীকে নির্বাচন করছে নিবন্ধন বাতিল হওয়া জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নাগরিক ঐক্য, জেএসডিসহ কয়েকটি দল।

বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক বেলাল আহমেদ স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে ফখরুল বলেন, এরমধ্যে মনোনয়নপত্র দাখিল, বাছাই, নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল ও প্রার্থীর অনুকূলে প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন হয়েছে। এ অবস্থায় প্রার্থীদের প্রার্থিতার বিরুদ্ধে আবেদন তৈরি ও তা নিষ্পত্তির জন্য আদালতকে ব্যবহার নির্বাচন বানচালের গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ।

গত ১০ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দের পর মামলা দিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের নির্বাচন থেকে দূরে রাখার অভিযোগ করেছেন দল ও জোটের বেশকিছু নেতা।  বিবৃতিতে সেদিকে ইঙ্গিত করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এরই মধ্যে সরকার ও সরকারদলীয় ব্যক্তিদের দায়ের করা মামলার মাধ্যমে বিএনপির আট প্রার্থীকে নির্বাচনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এবার বিএনপি কর্র্তৃক মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের ২৩ প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়ে সরকারদলীয় একজন আইনজীবী নির্বাচন কমিশনে তাদের প্রার্থিতা বাতিলের আবেদন করেছেন। শুধু তাই নয়, তার ভিত্তিতে রিট আদালত তিন কর্মদিবসের মধ্যে বিষয়টি নিষ্পত্তি করার জন্য ইসিকে নির্দেশনা দিয়েছে।

৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থীদের অংশগ্রহণের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে গত সোমবার হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের মহাসচিব সৈয়দ রেজাউল হক চাঁদপুরীসহ চারজন। পরের দিন এ আবেদন তিন দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। 

ফখরুল বলেন, রিট আবেদনের উদ্দেশ্যই হচ্ছে বিরোধী দলের প্রার্থীদের আদালতের দোহাই দিয়ে অযোগ্য করে বিনা নির্বাচনে ক্ষমতা দখলের ব্যবস্থা করা।  অথচ দেশের সংবিধান এবং সর্বোচ্চ আদালতে নির্বাচনের বিষয়ে তফসিল ঘোষণার পর উদ্ভুত যেকোনো আপত্তি নিষ্পত্তির জন্য নির্বাচন ট্রাইব্যুনাল ছাড়া আর কোনো কর্র্তৃপক্ষে বিবেচনার সুযোগ নেই। বিএনপি স্পষ্ট বলতে চায়, বিএনপি এসব বেআইনি অপচেষ্টা বন্ধ করে নির্বাচনের পরিবেশ ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানাচ্ছে।