সেনাবাহিনী মোতায়েনের পরও নির্বাচনী পরিবেশের উন্নতি হয়নি দাবি করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ বলেছেন, সোমবার ২৮টিরও বেশি আসনে ধানের শীষের প্রার্থীদের ওপর হামলা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
রিজভী বলেন, ‘অবস্থার তেমন উন্নতি হয়নি। আমরা প্রত্যাশা করি, সেনাবাহিনী মোতায়েনের পর পরিস্থিতি উন্নতি হবে। দ্রুত সন্ত্রাসীদের ধরা হবে। নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ সৃষ্টির জন্য আমরা তাদের প্রতি আহ্বান জানাই।’
সোমবার ২৮টিরও বেশি আসনে ধানের শীষের প্রার্থীদের ওপর হামলা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গতকাল ছিল সবচেয়ে ভায়োলেন্ট (সহিংস) দিন। আওয়ামী সন্ত্রাসীদের টেক্কা দিয়ে পুলিশই সন্ত্রাসী আক্রমণে প্রাধান্যে থেকেছে।’
‘নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর গতকাল ছিল বিএনপি প্রার্থীদের জন্য সবচেয়ে ভয়ংকর দিন। হামলা করে, গুলি করে বিএনপি প্রার্থীদের রক্তাক্ত করেছে আওয়ামী সন্ত্রাসী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা’
বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সিনিয়র নেতা মওদুদ আহমদের গাড়িতে ভয়ংকর হামলা করা হয়েছে। অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান তিনি। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খানের ওপর গতকালও সশস্ত্র হামলা করেছে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা।’
তিনি বলেন, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মাহবুব উদ্দিন খোকনের ওপর আবারও হামলা করা হয়েছে। ধানের শীষের প্রার্থী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির ওপর হামলা করেছে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। কিশোরগঞ্জে ধানের শীষের প্রার্থী মেজর (অব.) আক্তারুজ্জামান ও শরীফুল আলমের ওপর গুলি চালিয়েছে পুলিশ। তাদের শরীরে পরিধেয় রক্তে ভিজে গেছে।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, শরীয়তপুর-৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপুর প্রচারণায় সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। গুরুতর আহত ও মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়েছে চিকিৎসার জন্য। তার অবস্থা গুরুতর।
রিজভী জানান, শেরপুরে ধানের শীষের প্রার্থী ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকার ওপর হামলা করা হয়েছে। হামলায় তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন। বরিশালে সরদার সারফুদ্দিন আহমেদ সান্টু হামলায় আহত হয়েছেন।
এছাড়াও ধানের শীষের প্রার্থী জয়নুল আবদিন ফারুক, ফজলুল আজিম, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, সেলিম রেজা হাবিব, আজহারুল ইসলাম মান্নান ও এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদের ওপর হামলা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বিএনপির এই মুখপাত্র দাবি করেন, ‘ভোটে আওয়ামী লীগের পক্ষে মাঠে কাজ করার জন্য জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) থেকে শুরু করে কনস্টেবল পর্যন্ত সর্বস্তরের পুলিশ সদস্যদের সরকারের পক্ষ থেকে প্রচুর নগদ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিটি অপারেশনাল ইউনিটে নগদ অর্থ পৌঁছানো হয়েছে। বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও সদস্যদের জন্য ব্যাপক টাকা ছড়ানো হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘ভোটের ময়দান ফাঁকা করতেই ধানের শীষের প্রার্থী ও সমর্থকদের উপর সশস্ত্র হামলা চলছে। সারাদেশে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যারা মানুষকে নিরাপত্তা দেবে, সে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীই মানুষকে নিরাপত্তাহীন করে তুলছে। সারাদেশে এখন ভয়ংকর আতঙ্কের নাম পুলিশ-র্যাব-বিজিবি। তাদের পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছেন সিইসিসহ কতিপয় কমিশনার।’
রিজভী দাবি করেন, ‘চুয়াডাঙ্গায় সহকারী পুলিশ সুপার আবু রাসেলের গাড়িতে বোমা হামলাকারী গুলিবিদ্ধ যুবক খালিদুজ্জামান টিটু (২০) ছাত্রলীগ নেতা। অথচ ওই ঘটনায় মামলা করা হলো চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ওহিদুল আলম বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। তাকেসহ অনেক নেতাকর্মীকে ধানের শীষের প্রার্থী শরিফের বাসায় আটকে রাখা হলো।’
তার দাবি, কেন্দ্র দখল করে জাল ভোট মারতে দলে দলে প্রস্তুতি নিচ্ছে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী। গতকাল সাভারে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আমানুর রহমান ঘোষণা দিয়েছেন, প্রতি কেন্দ্রে কেন্দ্রে তার ২০০ জন করে যুবক দরকার। নাটোরে নৌকার প্রার্থী শিমুল ঘোষণা করেছেন, যারা নৌকায় ভোট দেবেন, তারা কেন্দ্রে আসবেন। আর যারা নৌকায় ভোট দেবেন না, তাদের কেন্দ্র আসার দরকার নেই।
এক প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, ‘এখন পর্যন্ত অন্তত ১৭টির মতো আসনে বিএনপির প্রার্থী শূন্য করা হয়েছে সেখানে প্রার্থী নিয়ে আলাপ-আলোচনা চলছে।’