নড়াইল-১ আসনে নৌকার প্রার্থী মাশরাফী বিন মোর্ত্তুজাকে টেলিভিশনে দেখলেও সরাসরি দেখা পাননি অনেকেই। তাই ভোটের আগে অন্তত একনজর দেখতে চান ভোটাররা। মঙ্গলবার তৃতীয় দিনের মতো বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ ও পথসভা করেছেন মাশরাফী।
তার আরসব পথসভার মতো মঙ্গলবারের পথসভায় নেমেছিল জনমানুষের ঢল। সময় স্বল্পতার কারণে সবার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পাচ্ছেন না মাশরাফী। ফলে ভোটার ও ভক্তরা তার সাক্ষাৎ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
মাশরাফী বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগে ও পথসভায় বের হলে রাস্তার দু’ধারে শত শত নারী-পুরুষ দাড়িয়ে অভিনন্দন জানাচ্ছেন এবং একনজর দেখার চেষ্টা করছেন। স্থানীয়রা জানান, গত তিনদিনের গণসংযোগ বা পথসভা যাবার পথে মাশরাফীকে এক নজর দেখার জন্য সড়কের দুপাশে শিশু থেকে শুরু করে নানা বয়সী শতশত ভোটার ও ভক্তদের দাড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।
মঙ্গলবার এড়েন্দা-কামাল প্রতাপ সড়কের পদ্মবিলা, এড়েন্দা-আমাদা সড়কের শালবরাত, ঝিকড়া, কুচিয়াবাড়ি, আমাদা, বয়রা, দিঘলিয়া, মহাজন, কলাগাছি, তালবাড়িয়া সহ বিভিন্ন সড়কের মোড়ে মোড়ে ও বাজারে মাশরাফীর পোস্টার ও লিফলেট নিয়ে ভোটার ও ভক্তদের দাড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। অনেকে হাতে ফুলের মালা নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন প্রিয় নেতাকে পরিয়ে দেয়ার জন্য।
লোহাগড়া উপজেলার সরুশুনা গ্রামের রিনা বেগম বলেন, ‘আমি মাশরাফীকে টেলিভিশনে দেখেছি। তাকে সরাসরি দেখার খুব ইচ্ছা। আমি ভোট দেওয়ার আগে একবারের জন্য মাশরাফীকে দেখতে চাই। আমি যেন মরার আগে অন্তত একবার মাশরাফীকে দেখে যেতে পারি।’
একই উপজেলার লিপি বেগম বলেন, ‘মাশরাফীকে আমার দেখার খুব ইচ্ছা। আমি যদি দেখা করতে পারতাম তাহলে আমার এলাকার সমস্যার কথা তুলে ধরতাম। আমাদের অনেইেক মাশরাফীকে এক নজর দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।’
আমাদ গ্রামের রুনা খানম বলেন, ‘মাশরাফী ভাইয়াকে শুধু টিভিতে দেখেছি। সরাসরি দেখার খুবই ইচ্ছা। আমি মাশরাফী ভাইয়াকে ভোট দিবো। তবে ভোট দেয়ার আগে একবার সরাসরি দেখতে চাই।’
জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এ্যাডভোকেট সুবাস চন্দ্র বোস বলেন, ‘খেলার কারণে মাশরাফীর নড়াইলে আসতে দেরি হয়েছে। গত ২২ ডিসেম্বর নড়াইলে ফেরার পর ২৩ ডিসেম্বর থেকে গণসংযোগ ও পথসভা শুরু হয়েছে। আগামী ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত শতাধিক স্থানে মাশরাফীর গণসংযোগ ও পথসভার জন্য সময়সূচী নির্ধারণ করা হয়েছে। সময় সংক্ষিপ্ত হওয়ায় সব অঞ্চলে এবং ভোটারদের বাড়িতে বাড়িতে যেতে পারছে না। মাশরাফী নির্বাচিত হলে ভোটারদের কাছে যাবে এবং বিভিন্ন এলাকার সমস্যার কথা শুনে সমাধানের চেষ্টা করবে।’