নীলফামারীতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের নির্বাচনী কার্যালয়ে অগ্নি সংযোগের অভিযোগ করেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ।
সোমবার গভীর রাতে নীলফামারী-২ (সদর) আসনের রামনগর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের চরচরাবাড়ি মোদোর মোড় বাজারে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে জামায়াত-শিবিরের তিন নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।
মোদোর মোড় বাজারের মুদি দোকানদার শাহিনুর রহমান জানান, ‘আমি দোকানে ঘুমিয়ে ছিলাম। রাত আনুমানিক ৩টার দিকে হঠাৎ আওয়াজ পাই। দোকানের ঝাপ খুলে দেখি আমার দোকানের সামনে থাকা আওয়ামী লীগের নির্বাচনী কার্যালয়ে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। এসময় আমি পাশের দোকানদার মোটু ভাইকে ডেকে তুলি এবং চিৎকার শুরু করি। এসময় এলাকার মশিউর রহমানসহ অনেকে এগিয়ে এসে পানি দিয়ে আগুন নিভিয়ে ফেলি।’
রামনগর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মকছুদার রহমান জানান,‘কাজ শেষে রাত ১১টার দিকে নির্বাচনী কার্যালয় বন্ধ করে আমরা দলীয় নেতা-কর্মীরা নিজ নিজ বাড়ি চলে যাই। রাত তিনটার দিকে ওই বাজারের মুদি দোকানদার শাহিনুর মোবাইলে জানায় নির্বাচনী কার্যালয়ে আগুন জ্বলছে। খবর পেয়ে আমিসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে দেখি নির্বাচনী কার্যালয় থাকা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি, নৌকা প্রার্থী সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের নৌকা প্রতীকের পোস্টার, চেয়ার টেবিল পুড়ে ছাই হয়েছে।’
তিনি বলেন,‘ নীলফামারী-২ আসনে মহাজোট মনোনীত আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের ব্যাপক জনপ্রিয়তা আছে এই রামনগর ইউনিয়নে। জনপ্রিয়তা নষ্ট করতে এবং ভোটারদের মধ্যে ভয় সৃষ্টির লক্ষ্যে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী জামায়াত নেতা মনিরুজ্জামান মন্টুর সমর্থক জামায়াত-বিএনপির নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগের নির্বাচনী কার্যালয়ে আগুন দিয়েছে।’
এ বিষয়ে ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মনিরুজ্জামান মন্টু দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঐ ইউনিয়নে ধানের শীষ প্রতীকের গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এখানে নৌকা পরাজিত হওয়ার শঙ্কায় সাধারণ ভোটারদের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নিজেদের কার্যালয়ে আগুন দিয়ে জামায়াত-বিএনপির নামে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
রামনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান অভিযোগ করে বলেন,‘রামনগর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড জামায়াত-শিবির ও বিএনপি অধ্যুষিত এলাকা। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের ভোটারদের মাঝে ভীতি সৃষ্টি করতেই জামায়াত-শিবিরের লোকজন আমাদের আওয়ামী লীগের নির্বাচনী অফিসে আগুন দিয়েছে।’
এদিকে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি দেওয়ান কামাল আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,‘সন্ত্রাসী রাজত্ব কায়েম করে সুষ্ঠ ও সুন্দর থাকা নীলফামারী-২ আসনের নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করতে জামায়াত-বিএনপির লোকজন এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে। জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করার জন্য পুলিশের প্রতি দাবি জানাচ্ছি।’
নীলফামারী থানার অফিসার ইনচার্জ মোমিনুল ইসলাম জানান, ‘সকালের দিকে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী কার্যালয়ে আগুনের খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি তদন্ত চলছে। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে তিন জনকে আটক করে থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এরা হলো ওই ইউনিয়নের ৫নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের আমীর আবুল কালাম আজাদ (৫২), শিবির কর্মী মামুনুর রশীদ(২০) ও মোহাম্মদ (১৯)। এ ঘটনায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে একটি মামলার দায়েরর প্রস্তুতি চলছে।’