কামাল হোসেনের মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে পুলিশ

পুলিশবাহিনীকে ‘জানোয়ার লাঠিয়াল বাহিনী’ হিসেবে ড. কামালের মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন।

বুধবার পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া এবং সাধারণ সম্পাদক ও স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপের উপ-কমিশনার প্রলয় কুমার জোয়ারদার স্বাক্ষরিত প্রতিবাদলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এ ধরনের আপত্তিকর, অবিবেচনাপ্রসূত মন্তব্যের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশ পুলিশের মতো জননিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলা বিধানে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালনকারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেওয়ার অপপ্রয়াস নেওয়া হয়েছে।

প্রতিবাদপত্রে আরও বলা হয়েছে, পুলিশের ২ লাখ সদস্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, দমন ও উদ্‌ঘাটনে বদ্ধ পরিকর। তাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও নিরলস পরিশ্রমের ফসল হিসেবে বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে রয়েছে।

এতে বলা হয়, ২০১৩ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দেশব্যাপী জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, নাশকতামূলক অপতৎপরতা প্রতিরোধ করতে গিয়ে পুলিশের ২৭ জন সদস্য আত্মাহুতি দিয়েছেন।

এতে আরো বলা হয়, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২০১৮ নিরাপদ পরিবেশে ও সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের ক্ষেত্রে সর্বত্র আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মূল দায়িত্ব পুলিশের ওপর অর্পিত হয়েছে। নির্বিঘ্ন ভোটাধিকার প্রয়োগের নিরাপদ পরিবেশ তৈরিতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

পলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তা, নির্বাচন সামগ্রী প্রেরণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকল কার্যক্রম নির্বিঘ্ন সম্পন্ন করার জন্য বাংলাদেশ পুলিশের প্রায় ১ লাখ ৪৫ হাজার সদস্য দেশব্যাপী নিয়োজিত আছে।

প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, এমন মুহূর্তে বাংলাদেশ পুলিশকে ‘জানোয়ার লাঠিয়াল বাহিনী’ হিসেবে আখ্যায়িত প্রকৃতপক্ষে নির্বাচনী প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের ক্ষেত্রে প্রভাবিত করা ও প্রতিবন্ধকতা তৈরির অপচেষ্টা মাত্র।

তাই অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্যের মাধ্যমে পুলিশ সদস্যদের মনোবলে আঘাত হেনে বিধিবদ্ধ দায়িত্ব পালনে বিঘ্ন সৃষ্টির যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা থেকে বিরত থাকার জন্য সকলকে অনুরোধ জানিয়েছে । একই সঙ্গে ড. কামালের বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে।