আনুষ্ঠানিক প্রচার শেষ, চলছে ভোটের ক্ষণ গণনা। শেষমুহূর্তের আলোচনায় ভোটারদের মুখে উঠে আসছে নানা প্রার্থী-দলের নাম ও জয়-পরাজয়ের হিসাব। সাধারণত ভোটাররা নিজ নির্বাচনী এলাকার প্রার্থীদের নিয়েই আলোচনায় মশগুল থাকেন। এ ক্ষেত্রে সিলেট বিভাগে নিজ সীমানা ছাড়িয়ে দুই প্রার্থীকে নিয়েও আলোচনা চলছে। দুজনেই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ঘরের ছেলে। এরা হলেন মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর ও হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনের প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া।
শুধু সিলেট বিভাগই নয়, ধানের শীষ প্রতীকের জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের এই দুই প্রার্থীর দিকে নজর আছে দেশবাসীরও। সুলতান মনসুর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি, ঢাকসুর সাবেক ভিপি ও আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য। এবার তিনি ভোট করছেন বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে। আর ড. রেজা কিবরিয়ার বাবা শাহ এ এম এস কিবরিয়া ছিলেন ১৯৯৬ সালে গঠিত আওয়ামী লীগ সরকারের অর্থমন্ত্রী। পাশাপাশি তিনি আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যও ছিলেন। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে ২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জের বৈদ্যেরবাজারে গ্রেনেড হামলায় নিহত হন এ এম এস কিবরিয়া। বিএনপির লোকজনই কিবরিয়া হত্যার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে আদালতে মামলা চলছে। বিচার প্রক্রিয়াও প্রায় শেষপর্যায়ে। সেই বিএনপির প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে এবার নির্বাচন করছেন তার ছেলে রেজা কিবরিয়া।
মৌলভীবাজার-২ আসনে সুলতান মনসুরের সঙ্গে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন মহাজাটের প্রার্থী এম এম শাহীন। সাবেক বিএনপি নেতা শাহীন কিছুদিন আগে বিকল্পধারায় যোগ দিয়ে মহাজোটের নৌকা প্রতীক পেয়েছেন। তিনি অষ্টম সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটে লড়ে বিজয়ী হয়েছিলেন। ওই নির্বাচনে তিনি হারিয়েছিলেন তৎকালীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী সুলতানকেই। দুই নেতা আবারও ভোটের লড়াইয়ে মুখোমুখি। তবে দুজনেরই রাজনৈতিক অবস্থান ও প্রতীক বদলেছে। যে কারণে কুলাউড়ার বিএনপির লোকজন এখন সুলতানের পক্ষে আর আওয়ামী লীগের লোকজন শাহীনের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন।
এ প্রসঙ্গে সুলতান মনসুর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাকে নিয়ে আলোচনা হতেই পারে। আমার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার উজ্জ্বল ও সুদীর্ঘ। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক হিসেবে ছাত্রজীবন থেকে সোচ্চার ছিলাম। এখনো আছি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের অনুসারী হিসেবে এবারের নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হয়েছি।’ প্রচারে জয় বাংলা স্লোগান দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু ও জয় বাংলা স্লোগান কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়।’ ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটা কোনো বিষয় নয়। দেশের মানুষ গণতন্ত্রের জন্য বিকল্প প্ল্যাটফর্মে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। এটাই বড় কথা।’ তিনি বলেন, ‘জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী। তবে সরকার প্রশাসনযন্ত্রকে বাধ্য করে জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড় করাচ্ছে।’
হবিগঞ্জ-২ আসনে রেজা কিবরিয়ার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের প্রার্থী শাহনেওয়াজ মিলাদ গাজী। তিনি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, সাবেক মন্ত্রী, প্রয়াত দেওয়ান ফরিদ গাজীর ছেলে। মিলাদ গাজী ভোটের মাঠে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনের ব্যাপারে রেজা কিবরিয়া বলেন, ‘আমার বাবা শাহ এ এম এস কিবরিয়াকে হত্যার পর ১৩টি বছর কেটেছে। এই সময়ের মধ্যে ১০ বছর ধরে আমার বাবার দল আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে। কিন্তু হত্যার বিচার হয়নি। আমার বাবার হত্যার বিচার যাতে হয়, সে জন্য আমি মানুষের কাছে ধানের শীষে ভোট চাচ্ছি। পাশাপাশি আমার বাবা নবীগঞ্জ-বাহুবলের উন্নয়নের ব্যাপারে যে স্বপ্ন নিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন, সেই কাজকে এগিয়ে নিতেও আমি ভোট চাচ্ছি।’