যেভাবে চলল ধানের শীষের কারাবন্দি প্রার্থীদের প্রচার

রোববার অনুষ্ঠেয় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ক্ষমতাসীন মহাজোটের প্রার্থীদের সঙ্গে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি       নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীদের। কিন্তু সারা দেশে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা যেভাবে ভোটের প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছেন সে তুলনায় ধানের শীষের প্রার্থীদের পক্ষে মাঠে প্রচার ছিল না বললেই চলে। হামলা-মামলা-ভাঙচুরসহ প্রশাসনের সহায়তায় প্রচারে ক্ষমতাসীনদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে বিএনপির পক্ষ থেকে। উপরন্তু ৩০০টি সংসদীয় আসনে মধ্যে ১৩টিতে ধানের শীষ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী বিএনপি-জামায়াতের নেতা রয়েছেন কারাগারে। তারা কারাবন্দি থাকা অবস্থায় তাদের প্রচার-প্রচারণা কেমন ছিল তা নিয়ে জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরের ভিত্তিতে সাজানো হয়েছে আজকের প্রতিবেদন।

কারাবন্দি প্রার্থীরা হলেন চট্টগ্রাম-৯ আসনে ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম-১৫ আসনে আ ন ম শামসুল ইসলাম, কুমিল্লা-১০ আসনে মনিরুল হক চৌধুরী, সাতক্ষীরা-২ আসনে মুহাদ্দিস আবদুল খালেক, সাতক্ষীরা-৪ আসনে গাজী নজরুল ইসলাম, খুলনা-৬ আসনে আবুল কালাম আজাদ, কুষ্টিয়া-১ আসনে রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা, গোপালগঞ্জ-৩ আসনে এস এম জিলানী, মাগুরা-১ আসনে মনোয়ার হোসেন খান, নরসিংদী-১ আসনে খায়রুল কবির খোকন, গাজীপুর-৫ আসনে ফজলুল হক মিলন, টাঙ্গাইল-২ আসনে সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, ঠাকুরগাঁও-২ আসনে মাওলানা আবদুল হাকিম। এদের মধ্যে বাচ্চু মোল্লা, গাজী নজরুল ও ফজলুল হক মিলন প্রতীক বরাদ্দের পর গ্রেপ্তার হন।

চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি) আসনের প্রার্থী মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন। বিভিন্ন অভিযোগে ৪০টি মামলা মাথায় নিয়ে দুই মাস ধরে কারাবন্দি শাহাদাত। তার পক্ষে নগর বিএনপির নেতা বদরুল আনোয়ারের নেতৃত্বে গণসংযোগ চললেও প্রার্থীর অনুপস্থিতির কারণে জমে ওঠেনি। এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। চট্টগ্রামের প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক মেয়র প্রয়াত মহিউদ্দিন চৌধুরীর ছেলে নওফেল নেতাকর্মীদের নিয়ে নিজ এলাকা চষে বেড়ান।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম-১৫ (লোহাগাড়া-সাতকানিয়া) আসনের প্রার্থী জামায়াত নেতা আ ন ম শামসুল ইসলাম নাশকতা সৃষ্টিসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১০টির বেশি মামলা মাথায় নিয়ে ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে কারাগারে রয়েছেন। তার পক্ষে নির্বাচনী প্রচারকাজ সমন্বয় করছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমির জাফর সাদেক। এলাকাটি ‘জামায়াতের ঘাঁটি’ হিসেবে পরিচিত হলেও বড় ধরনের কোনো প্রচার কার্যক্রম দেখা যাচ্ছে না। এ আসনে এবারও প্রার্থী হয়েছেন দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে সংসদ সদস্য হওয়া নানা ঘটনায় আলোচিত আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দিন।

কুমিল্লা

কুমিল্লা-১০ (সদর দক্ষিণ, লালমাই ও নাঙ্গলকোট) আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরী চৌদ্দগ্রামে যাত্রীবাহী বাসে আগুনে পুড়িয়ে আট যাত্রী হত্যা মামলার আসামি হয়ে কারাগারে আছেন। তার পক্ষে প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছেন তার মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস। শেষ দিনে তিনি হামলার অভিযোগ করে ‘জান-মাল রক্ষায়’ প্রচার বন্ধ ঘোষণা করেন। এই আসনে কুমিল্লা আওয়ামী লীগের প্রার্থী পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। উঠান বৈঠক, পথসভা ও চা চক্রসহ বিভিন্নভাবে গণসংযোগে সক্রিয়; তার পক্ষে মাঠে ছিলেন বিপিএলে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের চেয়ারম্যান মেয়ে নাফিসা কামাল।

সাতক্ষীরা

সাতক্ষীরার দুটি আসনে ধানের শীষের প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর দুই নেতা কারাগারে থাকলেও ক্ষমতাসীন মহাজোটের প্রার্থীদের সঙ্গে তাদেরই প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। এর মধ্যে মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক সাতক্ষীরা-২ (সদর) আসনে ও গাজী নজরুল ইসলাম সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর ও কালীগঞ্জের) আসনে প্রার্থী হয়েছেন।

প্রার্থীরা জেলে থাকলেও কর্মীরা ভোটারদের নিয়ে ভোটের দিনে কেন্দ্রে যাওয়ার অপেক্ষায় আছে। ২০১৩-১৪ সালের আলোচিত সহিংসতার ঘটনায় একাধিক মামলায় আসামি হওয়ার কারণে গ্রেপ্তার হওয়ার আশঙ্কায় প্রকাশ্যে গণসংযোগ এড়িয়ে চলছেন।

জামায়াতের মুখপাত্র আজিজুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, তাদের প্রার্থীরা কারাগারে থাকায় গণসংযোগ করতে না পারলেও সাধারণ মানুষ যথেষ্ট সচেতন। তারা যে কোনো মূল্যে ৩০ ডিসেম্বর ভোটকেন্দ্রে আসবে। সে জন্য তারা এলাকার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করে যাচ্ছেন।

জেলা বিএনপির সভাপতি রহমতুল্লাহ পলাশ বলেন, জামায়াতপ্রার্থীর নেতাকর্মীরা মাঠে নামলে সমন্বয় করলে বিএনপির নেতাকর্মীরা ধানের শীষের জন্য যাবতীয় ভোটপ্রচারে যুক্ত হবে।

খুলনা

খুলনা-৬ (কয়রা-পাইকগাছা) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর নেতা মাওলানা আবুল কালাম আজাদ দুই মাস ধরে কারাগারে রয়েছেন। তার অনুপস্থিতিতে দলের নেতাকর্মীরা নীরবে প্রচার চালিয়েছেন। অন্যদিকে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীর অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আখতারুজ্জামান বাবুর নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চলেছে বেশ জোরেশোরে।

জামায়াত প্রভাবিত এই এলাকায় জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা বাবু ও জামায়াতের খুলনা মহানগর আমীর কালাম দুজনই নতুন প্রার্থী। ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর সমর্থকদের মাঠে নামতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

জামায়াতের প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট মুহাম্মদ লিয়াকত আলী সরদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, কালাম সব মামলায় জামিনে থাকার পরও গত ২৭ অক্টোবর ঢাকা যাওয়ার পথে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওইসময় তাকে আগের দুটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

কুষ্টিয়া

কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনে বিএনপির প্রার্থী রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর ১৯ অক্টোবর থেকে কারাগারে রয়েছেন। বিস্ফোরক আইনের একটি মামলায় জামিন শেষে আদালতের হাজিরা দিতে গেলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। তার অনুপস্থিতিতে তার পরিবারকে পুলিশ একরকম অবরুদ্ধ করে রাখে বলে তার স্বজনদের অভিযোগ। ফলে তার পক্ষে প্রচার-প্রচারণা প্রায় ছিল না বললেই চলে।

বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকরা বলছেন, হামলা-মামলা দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়েছে, পুলিশ বিরোধী পক্ষের যাকে পাচ্ছে তাকেই ধরে আদালতে পাঠিয়েছে। কার্যত কেবলমাত্র নৌকা প্রতীকের পক্ষে উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচনী প্রচারণা চলছে, অন্যরা নেই মাঠে।

রেজার স্ত্রী শামীম আরা শেফালী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘স্বামী এখন কারাগারে। এমন পরিস্থিতিতে এমনিতেই পরিবার-পরিজন নিয়ে বিপর্যস্ত, তার ওপর আবার বাড়ি পুলিশ দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। না পারছি আমি বের হতে, না পারছে দলের নেতাকর্মীরা আমার বাড়িতে আসতে।’

তাদের ছেলে আসিফ রেজার অভিযোগ, তার বাবার জামিন নামঞ্জুর হওয়ার দিন সন্ধ্যায় দৌলতপুর থানা পুলিশ নতুন করে দেড় শতাধিক জনের নামোল্লেখসহ বিস্ফোরক আইনে একটি মামলা করেছে। ধানের শীষ প্রতীকের সম্ভাব্য পোলিং এজেন্টদের আসামি করা হয়েছে।

গোপালগঞ্জ

গোপালগঞ্জ-৩ (টুঙ্গিপাড়া-কোটালীপাড়া) আসনে কারাবন্দি বিএনপিপ্রার্থী এস এম জিলানীর পক্ষে কোনো প্রচার-প্রচারণা ছিল না। পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, নেতাকর্মী, সমর্থক কাউকেই ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণায় দেখা যায়নি। এই আসনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট তৌফিকুল ইসলাম বলেন, বিএনপি প্রার্থী এস এম জিলানী দীর্ঘদিন ধরে কারগারে রয়েছেন। এ কারণে আসনটিতে বিএনপিকে মাঠে দেখা যায় না বা প্রচার-প্রচারণা চোখে পড়ে না।

মাগুরা

মাগুরা-১ (শ্রীপুর ও সদরের একাংশ) আসনে বিএনপির প্রার্থী ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালসের ন্যাশনাল ম্যানেজার মনোয়ার হোসেন খান মাগুরার পেট্রল বোমা হামলার মামলায় নভেম্বর থেকে কারাগারে রয়েছেন। এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাইফুজ্জামান শিখরের জমজমাট নির্বাচনী প্রচারের বিপরীতে অনেকটাই নি®প্রভ বিএনপি প্রার্থীর প্রচার।

জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক আকতার হোসেন বলেন, প্রার্থীর পোস্টার লাগাতে দেয়নি আওয়ামী লীগের কর্মীরা। প্রতিদিনই বিএনপির নেতাকর্মীদের বিনা কারণে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

নরসিংদী

নরসিংদী-১ (সদর) আসনে বিএনপি প্রার্থী খায়রুল কবির খোকন কারাগারে থাকায় এবং বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতাসহ প্রায় ৩ শতাধিক নেতাকর্মী কারাগারে থাকায় নির্বাচনী ফাঁকা মাঠ দাপিয়ে বেড়িয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম হীরু।

সরেজমিনে ঘুরে নরসিংদী ও মাধবদী শহরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর নির্বাচনী পোস্টার ও নির্বাচনী ক্যাম্প চোখে পড়লেও খোকনের নিজ এলাকা চিনিশপুর ছাড়া ধানের শীষের পোস্টার দেখা যায়নি।

খোকনের স্ত্রী জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের নেত্রী শিরিন সুলতানা বলেন, ‘আমার বাড়ি পুলিশের নজরবন্দি করে রাখা হয়েছে, নেতাকর্মীরা এলেই তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এখানে আমাদের পোস্টার, লিফলেট লাগাতে দেওয়া হচ্ছে না, আমাদের মাইক ভেঙে ফেলা হচ্ছে। কর্মীরা কেউ বাড়িতে থাকতে পারছে না।’

নৌকার প্রার্থী নজরুল ইসলাম হীরু বলেন, ‘বিএনপির অভিযোগ একটি নির্বাচনী কৌশল ছাড়া আর কিছু নয়। খোকনের কারাগারে যাওয়ার সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো সম্পৃক্ততা নেইÑ এটা আদালতের বিষয়। বিচারাধীন বিষয়ে আমরা কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’

গাজীপুর

গাজীপুর-৫ (কালীগঞ্জ-সদরের একাংশ) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী জেলা বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক মিলন ঢাকার একটি নাশকতা মামলায় ১৩ ডিসেম্বর থেকে কারাগারে আছেন। তার হয়ে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন তার স্ত্রী নারায়ণগঞ্জ মহিলা কলেজের সাবেক ভিপি শম্পা হক। তিনি দলের কালীগঞ্জ উপজেলার সাধারণ সম্পাদক সোলায়মান আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক ফরিদ আহমেদ মৃধাসহ স্থানীয় যুবদল, ছাত্রদল, মহিলাদলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। প্রচারের সময় তিনি স্থানীয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বাধার মুখে পড়েছেন বলে জেলা রিটার্নিং অফিসারের কাছে একাধিকবার অভিযোগ করেছেন।

এই আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রার্থী মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতা স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শহীদ ময়েজ উদ্দিনের মেয়ে। বাবার ভাবমূর্তির সঙ্গে গত পাঁচ বছর ধরে সাংসদ ও প্রতিমন্ত্রী থাকার সময় এলাকায় উন্নয়নের কথা তুলে ধরে ভোট চাইছেন।

টাঙ্গাইল

বিএনপির ঘাঁটি খ্যাত টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর-গোপালপুর) আসনটিতে নৌকার জয়ের ধারাবাহিকতা রক্ষায় চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক তানভির হাসান ছোট মনির। বিএনপির প্রার্থী যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু কারাগারে তার পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন তার ভাই টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ শামছুল আলম তোফাসহ নেতাাকর্মীরা।

তোফা দেশ রূপান্তরকে বলেন, গোপালপুর-ভূঞাপুরে প্রশাসন ও সরকারি দলের প্রার্থীরা যোগসাজশে ভোট চাইতে বাধা দিচ্ছে। পুলিশ দিয়ে গ্রেপ্তার, অফিস ভাঙচুর ও পোস্টার ছেঁড়াসহ হামলা এবং মামলা করা হচ্ছে। টুকুর বাসায় হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করেছে নৌকার সমর্থকরা।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর বড় ভাই সাবেক মন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলায় ফাঁসির দণ্ড মাথায় নিয়ে কারাগারে রয়েছে। তিনি এ আসন থেকেই সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন।

ঠাকুরগাঁও

ঠাকুরগাঁও-২ (বালিয়াডাঙ্গী, হরিপুর ও রানীশংকৈল উপজেলার কিছু অংশ) আসনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী দবিরুল ইসলামের সঙ্গে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর নেতা কারাবন্দি মাওলানা আব্দুল হাকিমের।

১ নভেম্বর নাশকতার একটি মামলায় পুলিশ আটক হওয়ার পর থেকে কারাগারে আছেন তিনি। নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে প্রথম সারির জামায়াত ও শিবির নেতাদের আটকের পর স্থবির হয় ধানের শীষের প্রচার-প্রচারণা। যে দিকেই চোখ যায় শুধু নৌকার পোস্টারে ছাওয়া। দুয়েকটা হাতপাখা মার্কার ছবি দেখা গেলেও অনুপস্থিত ধানের শীষের পোস্টার।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক টিআই মাহাবুবুল ইসলাম বলেন, দলীয় কর্মীরা পোস্টার লাগাতে গেলেই রাতের বেলা বাসায় গিয়ে পুলিশ হয়রানি করে না হলে আওয়ামী লীগের কর্মীরা ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। পোস্টার ছিঁড়ে ফেলে। এই সময়ে জামায়াতের নেতারাও আটক বা হয়রানি এড়াতে গা ঢাকা দিয়ে আছেন। এ কারণে প্রচার-প্রচারণায় বা ভোটারদের কাছে যেতে বেগ পেতে হচ্ছে।

হরিপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন বলেন, বাধা-বিঘেœর মধ্য দিয়ে প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে; প্রকাশ্যে নয়, কিছুটা আড়ালে। মাইক ভেঙে দিচ্ছে, সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছে অভিযোগ দিলেও কাজ হচ্ছে না।