ধনী-গরিবের বৈষম্যের লাগাম টানতে হবে

অর্থনৈতিক দিক দিয়ে বাংলাদেশে অগ্রগতির ধারা সূচিত হয়েছে যা দৃশ্যমান। একই সঙ্গে ক্রমাগত বিসদৃশভাবে হলেও দেশে অতিমাত্রায় আয় ও সম্পদ বৈষম্য বেড়ে চলেছে। ফলে নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশা থাকবে, তারা এটার লাগাম টানার জন্য যা যা করার তা করবেন। একদম মানবাধিকারের জায়গা থেকে কাজটি করতে হবে।

শিক্ষার হার বৃদ্ধি, প্রাথমিক-মাধ্যমিকে ছাত্রছাত্রীর সমতা, ভর্তির হার বৃদ্ধি, বছরের প্রথম দিন বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তকসহ বেশকিছু অর্জন এরই মধ্যে আমাদের রয়েছে।

কিন্তু শিক্ষার মান কোনোভাবেই ঠিক রাখা সম্ভব হচ্ছে না। এর অন্যতম কারণ পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাটাই পরীক্ষাকেন্দ্রিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। একজন শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার আগে চারটি পাবলিক পরীক্ষা দিতে হয়। এতে করে শিক্ষার্থীরা কোচিং সেন্টার ও নোট গাইডের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ছে। অন্যদিকে জিপিএ-৫-ই মুখ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষা ক্রমাগত পণ্য হয়ে উঠছে। ফলে এসব জায়গাকে চিহ্নিত করে খুব শক্তভাবে কাজ করতে হবে। এছাড়া দেশের শিক্ষানুরাগীদের দীর্ঘদিনের দাবি সমন্বিত শিক্ষা আইন, সেটার বাস্তবায়ন করতে হবে।

শিক্ষা ক্ষেত্রে বিনিয়োগ সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে বাড়াতে হবে। দেশের বিভিন্ন স্থানে কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। অথচ সেখানে ওষুধ নিয়ে লুটপাট-দুর্নীতি চলে, ডাক্তারের অভাব দেখা যায়। নতুন সরকারের উচিত হবে এগুলোর ওপর মনিটরিং বাড়ানো। স্বাস্থ্যসেবার দিকে খুব বেশি করে নজর দিতে হবে।

সব দুর্নীতির ক্ষেত্রে নতুন সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করবে বলে প্রত্যাশা করি। দুর্নীতি করে পার পেয়ে যাওয়ার যেন কোনো সুযোগ না থাকে, সরকারকে সে নীতি শক্তভাবে গ্রহণ করতে হবে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

নারী নির্যাতন প্রতিরোধে অনেক ভালো আইন রয়েছে অথচ সেগুলোর মামলা এমনভাবে তৈরি করা হয় তাতে আদালতও কিছু করতে পারে না। অপরাধী পার পেয়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, নারী নির্যাতনকারীরা প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় পার পেয়ে যায়। আমি আশা করব, নতুন সরকার নারী নির্যাতন প্রতিরোধে নিশ্চয়ই শক্ত একটি অঙ্গীকার নিয়ে আসবে। আশা করব, তারা নারী নির্যাতন প্রতিরোধে আরো শক্ত ভূমিকা পালন করবেন।

লেখক : সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা

অনুলিখন : রশিদ আল রুহানী