‘উৎসব’ ফেরত চায় তরুণরা

সব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাংলাদেশ নিয়ে আকাক্সক্ষার শেষ নেই তরুণ ভোটারদের। তাদের সিলেই চূড়ান্ত হবে দেশ পরিচালনায় দায়িত্ব বা ক্ষমতায় বসবে কোন দল। উৎসবমুখর পরিবেশে, স্বতঃস্ফূর্ততার সঙ্গে ভোট দিতে চান তরুণরা। দলীয় প্রভাবমুক্ত ও সহিংসতামুক্ত নির্বাচনী পরিবেশ প্রত্যাশা তাদের।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাজমুল হুদা এবারই প্রথম ভোট দেবেন। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, তরুণ ভোটার হিসেবে আমি একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চাই। নির্বাচনপরবর্তী যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক না কেন, তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে। দেশকে শান্তিতে রেখে একটি স্বনির্ভর ডিজিটাল দেশ হোক তরুণদের বসবাসযোগ্য বাংলাদেশ।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী শাহিনুর রহমান শাহিন বলেন, তরুণরাই সিদ্ধান্ত নেবেন, দেশের দায়িত্বভার কাদের হাতে তুলে দেবেন। তরুণ প্রজন্ম দেশের সবক্ষেত্রে আগের থেকে বেশি অংশীদারিত্ব পাবে সেটা নতুন সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে। তরুণরা শিক্ষাজীবন শেষ করেই যেন কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা পায়। নতুন সরকারকে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার মিশন পুরোপুরি সম্পন্ন করতে হবে। শিক্ষাবৃত্তি ও বিদেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে সকল কর্মপ্রচেষ্টা যেন অব্যাহত থাকে, সে ব্যাপারে তরুণদের কাছে সরকারকে অঙ্গীকারবদ্ধ হতে হবে। শিক্ষা ও কারিগরি ক্ষেত্রে তরুণ প্রজন্ম শতভাগ সুবিধা পাবে এই আশা রাখি নির্বাচিত সরকারের কাছে।

নিরপেক্ষ, প্রভাবমুক্ত ও অবাধ নির্বাচন হলে সাধারণ মানুষের মতের প্রতিফলন হবে। জনমানুষের পছন্দের প্রতিনিধিরা জনগণের সেবা করার সুযোগ পাবে। এতে পরোক্ষভাবে গণমানুষ রাষ্ট্র পরিচালনা করার সুযোগ পাবে। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা যে দল থেকেই জয়লাভ করুন না কেন, তারা যেন দেশ ও দশের সেবায় নিয়োজিত থাকে। তারা যেন নিজেদের জনগণের প্রভু মনে না করে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও নতুন ভোটার মো. তাজনুর ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ছোটবেলায় দেখেছি নির্বাচন একটা উৎসবের মতো। সবাই যার যার দলের সর্মথন করে, ভোট দেয়। তাদের হৈ-হুল্লোড় অনেকটা উৎসবকেও ছাপিয়ে যায়। দুর্ভাগ্যজনক যে, এখনকার নির্বাচনকাল মোটেও উৎসবের নয়। মানুষ এখন অনেক বেশি উৎকণ্ঠার সঙ্গে দিন পার করছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া সংঘাত মানুষকে ভোটবিমুখ করে তুলছে।

তিনি বলেন, একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে ভোটাধিকার প্রয়োগ আমার সাংবিধানিক অধিকার। নির্বাচন কমিশনের উচিত, আমাদের জন্য একটি নির্ভয় ভোটকেন্দ্র তৈরি করে দেওয়া, যেখানে সবাই নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবে।
ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও নতুন ভোটার নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, আমি চাই নিরপেক্ষ নির্বাচন। নির্বাচন কমিশন সে পরিবেশ নিশ্চিত করবে বলে আশা করি। সঙ্গে চাই দেশে উন্নয়নের ধারাও অব্যাহত থাকুক, সবাই শান্তিতে ভোট দেব। সবাই মিলে স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলুক। এমন একটি সরকার আসবে যারা ক্ষুধা, দারিদ্র্য, বেকারত্ব, দুর্নীতি কমাতে উদ্যোগ নেবে। ইত্যাদি খাতে অবদান রাখবে। গণমানুষের প্রতিচ্ছবি হলে জাতীয় সংসদে কথা বলবে এটাই আমার প্রত্যাশা।

লেখক, শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক।টাঙ্গাইলের শিক্ষার্থী মামুন মিয়া বলেন, এবার প্রথম ভোট দিতে তিনি এরমধ্যেই ঢাকা থেকে গ্রামে গেছেন। তিনি বলেন, ভোটের পরিবেশ আর আগের মতো নেই। আনন্দ নেই মনের মধ্যে, ভয় ও উৎকণ্ঠা আছে। নির্বাচন কমিশন, পুলিশসহ সংশ্লিষ্টরা তৎপর না হলে বাংলাদেশ থেকে ভোট উৎসব চিরতরে হারিয়ে যাবে। তরুণরা যেন জীবনের প্রথম ভোট দিতে গিয়েই রাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রতারিত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

কুড়িগ্রামের কলেজ ছাত্র রেজাকুল হায়দার জানান, প্রথমবার ভোট দেব। প্রতীকের চেয়ে প্রার্থীকে গুরুত্ব দেব। কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি সমর্থন নেই আমার। যোগ্য ও সৎ প্রার্থীকে ভোট দেব।