আজ কঙ্গোতে নির্বাচন

দীর্ঘ প্রতীক্ষিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় আশার আলো দেখছে কঙ্গোর জনগণ। দেশটির ৫৮ বছরের ইতিহাসে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে জোসেফ কাবিলার পরিবর্তনকে খুবই উল্লেখযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর আগে কখনো কঙ্গোতে শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরিত হয়নি।

দেশটিতে দুই বছর আগেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক বিভিন্ন অস্থিরতার কারণে নির্বাচন হয়নি। নির্বাচন বিলম্ব হওয়ায় দেশটিতে বিরোধী দলের সমর্থকদের বিক্ষোভে উল্লেখযোগ্য-সংখ্যক মানুষ নিহত হয়। জোসেফ কাবিলার প্রধান কূটনীতিক উপদেষ্টা বার্নাবে কিকায়া কিন কারুবি এই নির্বাচনকে ‘সকল নির্বাচনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

কঙ্গোর নির্বাচনে এবার ২১ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও বলা হচ্ছে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী তিনজন। প্রার্থী ইম্মানুয়েল রামাজানি শাহদারি প্রেসিডেন্ট জোসেফ কাবিলার বিশ্বাসভাজন হিসেবে পরিচিত। বিশ্লেষকদের মতে, ভোটে জিতলে তিনি পুতুল সরকার পরিচালনা করবেন। বিশ্লেষক ইন্ডিগো এলিস বলেন, কাবিলা পেছন থেকে পুরো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করবেন। শাহদারির কোনো বিশেষ গুণ নেই কাবিলার প্রতি আনুগত্য ছাড়া।

মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে শাহদারির প্রতি নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ২০০১ সালে কাবিলাকে পিপলস পার্টি ফর রিকন্সট্রাকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (পিপিআরডি) গঠন করতে সহায়তা করেছিলেন তিনি।

শাহদারির পরেই আছেন ফেলিক্স শিশেকেদি। ধারণা করা হচ্ছে, ৫৫ বছর বয়সী এই নেতা কঙ্গোর প্রেসিডেন্ট হতে পারেন। দেশটির প্রধান একটি বিরোধী দল ইউনিয়ন ফর ডেমোক্র্যাসি অ্যান্ড সোশ্যাল প্রোগ্রেস (ইউডিপিএস) গঠনে তার বাবার ভূমিকা ছিল। ২০১৭ সালে পার্টির দায়িত্ব পান ফেলিক্স। বন্ধুদের কাছে তিনি ফাটশি নামে পরিচিত। গত নভেম্বরের ১১ তারিখ ফেলিক্স ছয় বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে রাজধানীতে বিক্ষোভ র‌্যালিতে নামেন। ওই সময়ই মূলত রাজনীতির মাঠে শাহদারিকে ঠেকাতে বিরোধীদের মধ্যে ঐক্য হয়।

তৃতীয় শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন মার্টিন ফায়ুলু। দুই বছর আগে কাবিলার সমালোচক হিসেবে তিনি কঙ্গোর রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পান। কাবিলাবিরোধী বিক্ষোভে তিনি বেশ কয়েকবার গ্রেপ্তার হন। এ ছাড়া পুলিশের ছোড়া রাবার বুলেট তার মাথায় বিদ্ধ হয়। গত মাসে জেনেভাতে অনুষ্ঠিত বিরোধীদের বৈঠকে প্রথম নেতৃত্ব পর্যায়ে তার নাম আসে। সাম্প্রতিক সময়ে মার্টিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সফর করেন এবং জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। সাবেক ওয়্যারলর্ড জ্যা পিয়েরে বেমবা এবং ব্যবসায়ী মইস কাতুম্বুই পেছন থেকে মার্টিনকে সহায়তা করছেন। এই দুজনেরই নির্বাচনে দাঁড়ানোর কথা থাকলেও তারা দাঁড়াতে পারছেন না। নির্বাচনী প্রচারে তিনি জানান, জিতলে পাঁচ বছরে ১২৬ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ বাড়বে এবং ২০ মিলিয়ন মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। সূত্র : এএফপি