চট্টগ্রাম-১১ আসনে (বন্দর-পতেঙ্গা) মহাজোটের প্রার্থী ও আওয়ামী লীগ নেতা এম এ লতিফ এমপি নির্বাচন নিয়ে অনেকখানি নির্ভার এবং আত্মবিশ্বাসীও বটে। দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর, সিইপিজেড ও শিল্পাঞ্চল এবং শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এই এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় চট্টগ্রাম-১১ আসন অনেক গুরুত্বপূর্ণ। চট্টগ্রামের ১৬টির মধ্যে বেশিরভাগ আসনেই যখন হামলা-ভাঙচুর ও নিত্য গোলযোগের ঘটনা ঘটে চলেছে, সে ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম-১১ আসনকে অনেকটা ব্যতিক্রমই বলা চলে। গত দুই মেয়াদে এই আসনে নির্বাচিত এমপি তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে এ যাবৎ কোনো কটূক্তি করেননি। এ আসনে নির্বাচনী পরিবেশ-পরিস্থিতি তুলনামূলক অনেক শান্ত। তবে প্রচারের শুরুর দিকে বিরোধী প্রার্থীর গণসংযোগে একটি হামলার ঘটনা শান্ত পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছিল। এসব বিষয় নিয়ে দেশ রূপান্তরের সঙ্গে একান্ত আলাপে এম এ লতিফ বলেন, জনগণই তার কর্মফলের মূল্যায়ন করবেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান ও বিশেষ প্রতিনিধি
কেমন হলো নির্বাচনী প্রচার? ভোটারদের কাছে আপনার কী প্রতিশ্রুতি? এবারও নির্বাচিত হওয়ার ব্যাপারে কতটা আস্থাশীল?
এম এ লতিফ : নির্বাচন এলে সবাই মানুষের দ্বারে দ্বারে যান, ভোট প্রার্থনা করেন, আমিও যাচ্ছি। আসলে এটি একটি প্রথা হয়ে গেছে। প্রকৃত বিষয় হলো, প্রার্থী হিসেবে আমার কর্মে কতটা সফল হয়েছি। মানুষের মন কতটা জয় করতে পেরেছি। আর আমি কোনো প্রতিশ্রুতি দিয়ে, টোপ ফেলে লোভী করে মানুষের ভোট চাই না। ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে আমার কাছে এলাকাবাসীর অনেক দাবি-দাওয়া ছিল। তখন শুধু বলেছিলাম, পাঁচ বছর দোয়া করবেন। তৌফিক হলে দাবি পূরণ হবে। পরে আমি কী করেছি সবাই সেসব দেখেছেন।
কোন কোন শ্রেণি-পেশার মানুষ আপনাকে বেশি সমর্থন করেছে এবং কারা করেনি?
এম এ লতিফ : আমার সম্পর্কে জনগণ থেকে খবর নিন কী করেছি। আমি সে কথা প্রচার করতে চাই না, এটা আমার মুখে সাজেও না। তবে আমি চোর, গু-া, বদমায়েশদের ভোট চাই না। তাদের ভোটে জয়ী হয়ে গুনাহর বোঝা মাথায় নিতে চাই না। আমি দুনিয়া-আখেরাতের ভালো চাই। তাই আগাম প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট শেষে অন্যদের মতো মোনাফেকি করতে রাজি নই। অন্যরা যা করে, আমি তা পারি না। জনগণের সঙ্গে প্রতারণা, বেইমানি আমাকে দিয়ে হবে না।
আপনার এলাকায় নির্বাচনী পরিবেশ কতটা স্থিতিশীল? অন্য দলের প্রার্থীরা কি নির্বিঘ্নে প্রচার চালাতে পেরেছে?
এম এ লতিফ : পরিবেশ বিচারের দায়িত্বটি আপনাদের (মিডিয়ার)। এ পর্যন্ত কোনো অভিযোগ কি কেউ করেছেন? এসব করলে মানুষের সঙ্গে কেবল দূরত্ব সৃষ্টি হয়। সবাই যে যার মতো প্রচার চালিয়েছে। আমি আমার কর্মী বাহিনীকে সংযত রেখেছি। যারা মানুষের সঙ্গে দূরত্ব সৃষ্টি করেছেন, তারা নানা কথা বলেন। এটা হলো আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ। আমি এমন ধরনের কু-রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। মানুষের খেদমত করা আমার কর্তব্য। আমি তাদের নিয়েই বেঁচে বর্তে আছি।
আপনার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে এই আসনে ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী নির্বাচন করছেন।
প্রচারের শুরুর দিকে তার নেতৃত্বাধীন মিছিলে হামলার কারণ কী? তাকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করেন?
এম এ লতিফ : আমি খসরু ভাইকে অনেক সম্মান করি। আগেও একবার উনার সঙ্গে নির্বাচন করে জয়ী হয়েছি। এবারও উনি এবং আমি একসঙ্গে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি। আমীর খসরুর মিছিলে হামলায় আমার নেতাকর্মীরা দায়ী নয়। বিষয়টি অতিরঞ্জিত হয়ে থাকতে পারে। এসব বিষয়ে আমি খুবই সতর্ক। আমি মনে করি কিছু কিছু রাজনীতিবিদ এখন ‘সেকেলে’ হয়ে গেছেন। আত্মকেন্দ্রিকতা এবং আত্মম্ভরিতা মানুষকে বিচ্ছিন্ন করে। সাধারণের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। খসরু ভাই অনেক ধন-সম্পত্তির মালিক, বিত্তবান। কিন্তু জনগণের ‘ভালোবাসার ধন’ হারিয়ে ফেলেছেন। জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। তাই তিনি জনগণের নৈকট্য ও ভালোবাসা হারিয়েছেন।
এলাকাবাসীর কাছে কোনো প্রতিশ্রুতি দেওয়া ছাড়াই আপনি জয়ের কথা ভাবছেন। গত পাঁচ বছরে এলাকার তথা এলাকাবাসীর উন্নয়নে কী কী কাজ হয়েছে?
এম এ লতিফ : দেখুন, আমি নিজের ঢোল নিজে পেটাই না। মানুষ আমার কর্মফলকে বিচার করবে। আমি সামাজিক উন্নয়নে, বিশেষ করে নারী অধিকার সুরক্ষা, নারীদের ঘর থেকে বাইরে এনে নিজ অর্থ ব্যয়ে তাদের স্বাধীন ও সাবলম্বী করতে কাজ করে যাচ্ছি।
আমার এই উদ্যোগ সারা দেশে একটি ‘মডেল’ হিসেবে রূপ পাচ্ছে। সারা বছর এলাকায় ন্যায্য মূল্যে চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ, রসুনসহ নানা ভোগ্যপণ্য ট্রাকে করে সাধারণ মানুষের হাতে তুলে দিয়েছি। বেকারত্বের সমাধান, পতেঙ্গা শিল্পাঞ্চলে ও এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, মাদক নির্মূল করে সামাজিক শৃঙ্খলা ও সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রেখে চলেছি। সর্বোপরি আমি একজন খেদমতগার (এমপি) হিসেবে মানুষকে সেবা ও উন্নয়ন দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।
প্রতিশ্রুতির প্রশ্নে পুনঃপুনঃ আপত্তি জ্ঞাপন করে এম এ লতিফ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘নেত্রী কি কর্ণফুলির তলদেশে টানেল নির্মাণ, তিনটি নতুন বন্দর ও ফোর লেন নির্মাণের পূর্ব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন? নেত্রী দেশের উন্নয়ন করেছেন। আমিও নেত্রীর মতো। আগাম প্রতিশ্রুতি দিই না, কাজ করে দেখাই। মানুষের দোয়া নিয়ে, কাজ দিয়ে বেঁচে থাকতে চাই।’
ফারুক ইকবাল