নষ্ট ইভিএমে ভোটে ভোগান্তি

খুলনায় শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে নষ্ট ইভিএমের কারণে ভোটারদের পোহাতে হয়েছে ভোগান্তি। বিভিন্নস্থানে ভোটারদের ভোটদানে বাধারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনেক কেন্দ্রেই ছিল না বিএনপির পোলিং এজেন্ট।

খুলনা-২ আসনের একটি কেন্দ্রের বুথে ইভিএম (ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন) নষ্ট থাকায় ভোটগ্রহণ বাধাগ্রস্ত হয়। নির্বাচনের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দাবি, জেলার সব আসনে সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল রবিবার সকালে খুলনার বিভিন্ন এলাকার ভোটকেন্দ্রের সামনে ভোটারের চেয়ে দলীয় কর্মী, সাংবাদিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বেশি উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। নগরীর রূপসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রূপসা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কেসিসি কলেজিয়েট স্কুল অ্যান্ড উইমেন্স কলেজ, রূপসা ইউসেপ প্রাথমিক বিদ্যালয়, টুটপাড়া সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়, বসুপাড়া ইয়াতিম খানা মোড়ে নূরাণী মাদরাসা, দারুল কুরআন সিদ্দিকীয়া কামিল মাদরাসা, পল্লীমঙ্গল শেখ হাতেম আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ধানের শীষ সমর্থিত ভোটারদের কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

খুলনা-২ (সদর ও সোনাডাঙ্গা) আসনের বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু অভিযোগ করে বলেন, ‘নির্বাচনের আগের রাতে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা আমার এজেন্টদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কেন্দ্রে না যাওয়ার হুমকি দিয়েছে।’

অন্যদিকে আসনে মহাজোট সমর্থিত আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট গ্রহণ চলছে। বিএনপির প্রার্থী নিশ্চিত পরাজয় জেনেই মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালাচ্ছেন। এটা তাদের চারিত্রিক দোষ।’

এদিন দুপুরে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ হেলাল হোসেন বলেন, ‘আমরা এ পর্যন্ত ২০টি কেন্দ্র পরিদর্শন করেছি। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা চোখে পড়েনি। সদর আসনে ইভিএমে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিচ্ছেন মানুষ। জেলার বাকি পাঁচটি আসনেও শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ চলছে।’

এক বুথের ইভিএম অকেজো : খুলনা-২ আসনের ইসলামাবাদ কলেজিয়েট স্কুল কেন্দ্রের পাঁচ নম্বর বুথের ইভিএম ভোটগ্রহণের আগেই অকেজো হয়ে যায়। এ কেন্দ্রের ৪৫০ ভোটারের সবাই নারী। কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার সনজিৎ সিংহ জানান, ভোট শুরু হওয়ার আগে থেকেই ইভিএমটির পোলিং কার্ড নষ্ট হওয়ায় অকেজো রয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা ও খুলনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন জানান, ‘ইভিএম অকেজোর বিষয়টি ঢাকায় নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছে। সেখান থেকে হেলিকপ্টারে পোলিং কার্ড এলেই ভোটগ্রহণ শুরু হবে। অন্যথায় বিকল্পভাবে ভোটগ্রহণ করা হবে।’