কয়েকটি কেন্দ্রে উত্তেজনা, ভোটে বাধার অভিযোগের মধ্যে সিলেট-১ (মহানগর-সদর) আসনে ভোটগ্রহণ হয়েছে। নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, মানুষ ঈদ উৎসবের মতো আনন্দিত মনে ভোট দিচ্ছে। বিপরীতে বিএনপি প্রার্থী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, এটা ভোটের নামে প্রহসন।
গতকাল রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় নগরীর বন্দরবাজারের দুর্গাকুমার পাঠশালা কেন্দ্রে ভোট দেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এ সময় তার ছোট ভাই নৌকার প্রার্থী আবদুল মোমেনসহ পরিবারের সদস্যরা সঙ্গে ছিলেন। ভোট দিয়ে বেরিয়ে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, অত্যন্ত চমৎকার পরিবেশে ভোট হচ্ছে। এ সময় ড. মোমেন বলেন, ‘কেন্দ্রে ধানের শীষের এজেন্টরাও সুখে-শান্তিতে দায়িত্ব পালন করছেন। কেউ তাদের বাধা দিচ্ছে না।’
বিকেল ৩টায় নিজের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে ব্রিফিং করেন ধানের শীষের প্রার্থী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, ‘অনেক কেন্দ্রে রাতেই ব্যালটে নৌকা প্রতীকে সিল মেরে বাক্স বোঝাই করে রাখা হয়েছে। বেশিরভাগ কেন্দ্রেই বিএনপির এজেন্টদের মারধর, হুমকি দিয়ে বের করে দেওয়া হয়েছে। ভোটারদেরও কেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।’ মুক্তাদির আরো বলেন, ‘নিজে প্রার্থী পরিচয় দিয়েও দারুস সালাম মাদ্রাসা কেন্দ্রে ঢুকতে পারিনি। এর মিনিট দুয়েক পর কেন্দ্রের ভেতর থেকে ফাঁকা গুলির শব্দ শোনা যায়। এটাই হলো নির্বাচনের চিত্র।’ এ আসনে মোট ১০ জন প্রার্থী ভোটের লড়াইয়ে ছিলেন। তবে বেশিরভাগ কেন্দ্রেই নৌকা ও ধানের শীষ ছাড়া অন্য প্রার্থীদের এজেন্ট দেখা যায়নি।
এদিন পাঠানটুলা জামেয়া ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে সকাল থেকে ভালোভাবে ভোট চললেও সাড়ে ১১টার দিকে বাইরে দুপক্ষের মধ্যে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। বেশ কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দও শোনা গেছে। ভাঙচুর করা হয় ভোটকেন্দ্রের জানালার কাচ। প্রিসাইডিং অফিসার সৈয়দ মোহাদ্দিস আহমদ বলেন, ‘ওই ঘটনার পর থেকে ভোটারের উপস্থিতি কম। তবে ভোটগ্রহণ বন্ধ করা হয়নি। ভোটার এলেই তার ভোট নেওয়া হচ্ছে।’
বেলা পৌনে ২টায় ওই কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, মাদ্রাসা ভবনের সামনের অংশের কাচ ভেঙে টুকরো হয়ে নিচে পড়ে আছে। মাদ্রাসার মূল ফটক থেকে কয়েক হাত দূরে ছিল আওয়ামী লীগ প্রার্থীর অস্থায়ী কার্যালয়। সেই কার্যালয়ের ৪-৫টি চেয়ার ভেঙে চুরমার হয়ে আছে। কার্যালয়ের সামনেই এক আওয়ামী লীগ নেতার মোটরসাইকেল আগুনে পুড়ে গেছে। কেন্দ্রের বাইরে একাধিক লোকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সকালে প্রথমে বিএনপির একটি বুথ অফিস ভাঙচুর করে আওয়ামী লীগের লোকজন। এরপর বিএনপি-জামায়াতের কর্মীরা পাল্টাহামলা চালিয়ে আওয়ামী লীগের অফিস ভাঙচুর করে। আওয়ামী লীগ কর্মী আবদুর রাজ্জাক রাজার মোটরসাইকেলও পুড়িয়েছে তারা।
নগরীর শিবগঞ্জে অবস্থিত স্কলার্সহোম স্কুল কেন্দ্রে দুপুর ১২টায় গিয়ে দেখা যায়, লাইনে কোনো ভোটার নেই। স্কুলের দ্বিতীয় তলায় ভোটকক্ষের দরজার সামনে ২-৩ জন ভোটার। প্রিসাইডিং অফিসার আমিন মোহাম্মদ সাঈদ স্কুলের আঙিনায় হাঁটাহাঁটি করছেন। তিনি জানান, এই কেন্দ্রে মোট ভোট ২ হাজার ৪৬৩। দুপুর ১২টার মধ্যে অর্ধেক ভোট গ্রহণ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, কেন্দ্রের বাইরে গ-গোল হওয়ায় ভোটার কম আসছেন। একজন পান দোকানি জানান, ভোটকেন্দ্রের পাশের লামাপাড়া গলির মুখে কিছু লোক অবস্থান নিয়ে ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা দিচ্ছিলেন। এ নিয়েই সংঘর্ষ হয়েছে।
সকাল সাড়ে ৮টায় নগরীর নয়াসড়কে কিশোরীমোহন বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, পুরুষ ও নারী ভোটারের দুটি লাইনেই ভালো উপস্থিতি। কেন্দ্রের ভেতরে গিয়ে কথা হয় ধানের শীষের এজেন্ট নীলিমা আক্তারের সঙ্গে। তিনি জানান, ভোট সুষ্ঠুভাবে হচ্ছে। তার পাশে বসা নৌকার এজেন্ট লুৎফা বেগমও এতে সায় দেন। এই কেন্দ্রে লাইনে দাঁড়ানো তরুণী সামিয়া সিরাজ বলেন, জীবনে প্রথমবারের মতো জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিচ্ছি। খুব আনন্দ লাগছে।