বেগম নূরজাহান মেমোরিয়াল উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের পুরুষ কেন্দ্রের ৮ নম্বর কক্ষে এই আসনের ভোটের দিন সকাল শুরু হয় যান্ত্রিক ত্রুটি দিয়ে। ইভিএম নষ্ট। ফলে ওই কক্ষের ৭৭৯ জন ভোটারের একজনও ভোট দিতে পারেননি দুপুর পর্যন্ত। ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা স্বপন কুমার বিশ্বাস দেশ রূপান্তরকে বলেন, সম্ভবত সকাল ৮টায় ইভিএম চালু করার পরই ভোটগ্রহণ শেষ বাটনে চাপ পড়েছে। বিষয়টি কমিশনকে জানানোর পর তারা জানায়, ওই কক্ষের ভোটাররা ১টার পর ভোট দিতে পারবেন। অপেক্ষারত ভোটারদের একজন বলেন, ‘সূক্ষ্মভাবে ভোট চুরির যন্ত্র এটা’।
ঢাকা ১৩ আসনে সকাল ৮টা থেকে তরুণ এবং সংখ্যালঘুদের ভোটকেন্দ্রে আসতে দেখা যায়। কিন্তু ধীরে ধীরে লাইন বাড়তে থাকলেও ভোটকেন্দ্রের ভেতর ভোটারশূন্য দেখা যায়। মোহাম্মদিয়া আলিম মাদ্রাসার প্রিসাইডিং কর্মকর্তা অসীম কুমার দাস বলেন, ইভিএমে ভোট দেওয়া সহজ, সময়ও কম লাগে। সময় কম লাগে বলার পরেও বাইরে লম্বা লাইন, ভেতরে ঢুকে দেখা গেল কক্ষে কোনো ভোটার নেই। জানতে চাইলে তিনি বলেন, তরুণদের আঙুলের ছাপ নিতে সমস্যা হচ্ছে না, কার্ড ঢোকালেই ছাপ মিলে যাচ্ছে। কিন্তু বৃদ্ধ ভোটারদের আঙুলের ছাপ মেলাতে সমস্যা হচ্ছে বলে লম্বা লাইন হয়ে যাচ্ছে।
এই আসনের প্রতিটি ভোটকেন্দ্র থেকে বিএনপির পোলিং এজেন্টদের মারধর করে বের করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. আবদুস সালাম। আলহাজ মকবুল হোসেন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শনের সময় এই অভিযোগ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে ধানের শীষের এজেন্টদের মারধর করা হয়েছে। পরে তিনি আলী হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিতে যান। অবশ্য ঢাকা-১৩ আসনের বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, ধানের শীষের কোনো এজেন্ট উপস্থিত নেই।
ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের তিনটি ভোটকেন্দ্রে, শারীরিক শিক্ষা কলেজের কেন্দ্রের কোনো কক্ষে, মোহাম্মদিয়া আলিম মাদ্রাসা, লোটাস ন্যাশনাল স্কুল, হাসেম খান ইউসেপ স্কুল, শংকরে ইউসুফ হাই স্কুল, রায়েরবাজার কমিউনিটি সেন্টারসহ ১২টি ভোটগ্রহণ কক্ষ ঘুরে বিএনপির এজেন্ট পাওয়া যায়নি। তবে সব কেন্দ্রেই আওয়ামী লীগের পোলিং এজেন্ট রয়েছে। এর বিপরীতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ মুরাদ হোসেনের পোলিং এজেন্ট রয়েছে বিভিন্ন কেন্দ্রে।
এই প্রসঙ্গে ইউসুফ হাই স্কুলের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা দীনেশ চন্দ্র সাহা বলেন, ‘বিএনপির এজেন্ট না এলে আমাদের কী করার আছে। এই আসনে আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা বেশি, এ জন্য হয়তো আসেনি।’ আওয়ামী লীগ প্রার্থী মো. সাদেক হোসেন মোহাম্মদিয়া আলিম মাদ্রাসায় ভোট দেওয়ার পরে বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশে ডিজিটাল ইভিএম পদ্ধতিতে সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিচ্ছে। কোনো রকম সহিংসতা ছাড়াই আমরা শান্তির্পূণভাবে জয়ী হব।’
ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের কেন্দ্রে স্লিপ না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয় জেনেভা ক্যাম্পের বাসিন্দারা। এই কেন্দ্রের এজেন্ট শ্যামল কুমার মিত্র বলেন, স্লিপ অনেকে পায়নি, এ জন্য এসএমএসের মাধ্যমে দেখতে হচ্ছে তারা ঠিক ভোটকেন্দ্রে এসেছে কি না। এসব সময়সাপেক্ষ তাই দেরি হচ্ছে। এই কেন্দ্রের ভোটারদের অনেকে অভিযোগ করছে, কক্ষ খুঁজে পেতেও বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে তাদের। প্রথম ভোটার সাগর মল্লিক বলেন, ‘আমি তো ভোট দেওয়ার সময় ভিডিও করতে চাইছিলাম। তাই মোবাইল বের করেছিলাম বলে কর্মকর্তা আমার মোবাইল বন্ধ করতে বলেন। অনেক উত্তেজিত, জীবনের প্রথম ভোট, তাই ভুলেই গিয়েছিলাম নিষেধাজ্ঞার কথা।’