দিগন্ত বিস্তৃত সরিষার ক্ষেত। যেদিকে চোখ যায়, হলুদ আর হলুদ। তার মাঝেই দেখা মেলে উড়ন্ত মৌমাছির। বলছি কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার চরাঞ্চলের কথা। বছরের একটা সময় পতিত থাকে যে জমি, তাতে চাষ হয়েছে মৌসুমি ফসলের। এতে চোখ জুড়াচ্ছে কৃষক আর প্রকৃতিপ্রেমীর।
রৌমারী কৃষি অফিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ উপজেলাতেই সরিষা চাষ হয়েছে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার হেক্টর জমিতে। এ নিয়ে উপজেলার কোদালকাটি চরের কৃষক আফাজ মিয়া জানান, তিনি এবার আড়াই একর জমিতে সরিষা বুনেছেন। ফলনও ভালো।
রৌমারী সদর ইউনিয়নের মাদারটিলা গ্রামে এসে দেখা গেল, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় সব ক্ষেতে সরিষা চাষ করা হয়েছে। সেখানে ক্ষেতের পাশে তাঁবু খাটিয়ে অবস্থান নিয়েছেন মৌচাষিরা। সরিষা ক্ষেতে বসানো হয়েছে শত শত মৌ বাক্স।
কথা হয় মৌচাষি মমতাজুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি ঝিনাইদহ থেকে গিয়েছেন কুড়িগ্রামে। তিনি জানালেন, সপ্তাহে চার থেকে সাড়ে চার কেজি মধু পান। তারা এখানে এসেছেন ২৫ জন। দলটি প্রায় ১০০ কেজি মধু পায় এক সপ্তাহে। মাড়াই মেশিনে মধু সংগ্রহের পর এখান থেকেই তারা বিক্রি করছেন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। একই কথা জানালেন এখানে যাওয়া চাষি আবুল খায়ের মিয়া ও জোবেদ আলী।
রৌমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, নদ-নদীময় কুড়িগ্রাম জেলার চরাঞ্চলের মাটি অতি উর্বর, সরিষা চাষের জন্য উপযোগী। উন্নত জাতের বীজ ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ অঞ্চলে সরিষার ফলনও হয় অনেক বেশি। এখানে সাধারণত বারি-১৪ ও বারি-১৫ জাতের সরিষা চাষ হয়ে থাকে। এতে বিঘাপ্রতি ফলন চার থেকে ৫ মণ ও হেক্টর প্রতি দেড় মেট্রিক টন। আর এ সময়ে সংগৃহীত মধু স্বাদে-গন্ধে খুবই ভালো মানের।
কুড়িগ্রাম খামারবাড়ির উপপরিচালক ড. মুস্তাফিজুর রহমান প্রধান জানান জানান, সরিষা ক্ষেতের পাশে মৌমাছির বাক্স বসালে দ্রুত পরাগায়ন হয়। এতে সরিষার উৎপাদন ১২ শতাংশ বাড়ে। এরমধ্যে কৃষি বিভাগ থেকে জেলার ৪৮টি ইউনিয়নে এক একর জমিতে সরিষা বীজ, দুটি করে মৌবাক্স ও মধু মাড়াই মেশিন দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সরিষা চাষের পাশাপাশি মৌসুমে মৌচাষ করে চাষিরা বেশি লাভবান হতে পারেন। কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাফর আলী বলেন, কুড়িগ্রামের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে ১৬টি নদী। বর্ষায় দুর্ভোগ বাড়লেও পানি নামার পর হাজার হাজার হেক্টর পলিযুক্ত চরের জমি পতিত থাকে। এসব জমিতে কৃষকদের প্রণোদনা দিয়ে সরিষা, ভুট্টা কিংবা বাদাম চাষ করালে চরাঞ্চলের অর্থনীতিতে পরিবর্তন আসবে।