কিশোরগঞ্জ কারাগার ধারণক্ষমতার ছয়গুণ বেশি বন্দি

কিশোরগঞ্জ কারাগারের ধারণক্ষমতা ২৫০ হলেও বর্তমানে বন্দির সংখ্যা ১,৪২৪। এতে দেখা গেছে, ধারণক্ষমতার চেয়ে ছয়গুণ বেশি বন্দি রয়েছেন কারাগারটিতে। সদ্য শেষ হওয়া নির্বাচনকে ঘিরে পুলিশের বিশেষ অভিযানে এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে। ফলে বন্দিদের ঘুমানো, গোসল করাসহ নানা কাজে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। পাশাপাশি কারাগারটিতে রয়েছে জনবল সংকটও।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ব্রিটিশ আমলে জেলায় এ কারাগারটি তৈরি করা হয়েছিল। তখন এ কারাগারে বন্দির ধারণক্ষমতা ছিল ২৫০ জনের। এর মধ্যে পুরুষ ২৩৩ ও নারী ১৭। কিন্তু গতকাল বৃহস্পতিবার বন্দির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৪২৪ জনে। এর মধ্যে ৪০ নারী বন্দিসহ তাদের সঙ্গে শিশুরাও রয়েছে। তা ছাড়া বন্দিদের মধ্যে সাজাপ্রাপ্ত তিন উলফা নেতা ও তাদের সহযোগী, জেএমবি সদস্য, যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ও ২০-২৫ দাগি বন্দি রয়েছে। নিরাপত্তায় ৭৫ কারারক্ষী পদের বদলে এখন কর্মরত ৪৫ জন। শূন্যপদ ৩০টি। তা ছাড়া দুজন নারী কারারক্ষী, ডেপুটি জেলারের একটি পদসহ আরও ১০টি পদ শূন্য রয়েছে।

জামিনে বের হওয়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন আসামি জানান, তারা কারাগারে ঢোকার আগ থেকেই ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি বন্দি ছিল। সম্প্রতি এ সংখ্যা আরো বেড়ে গেছে। এতে বন্দিদের দুর্দশা বেড়েছে কয়েকগুণ। হাজতিদের এক থেকে আট নম্বর ওয়ার্ডের প্রতিটি কক্ষে গাদাগাদি করে ঘুমাতে হয় পালাক্রমে। একই অবস্থা কিশোর, ডিভিশন ও মহিলা ওয়ার্ডগুলোতেও।

কারামুক্ত এক নারী দেশ রূপান্তরকে জানান, কারা হাসপাতালে নারী বন্দিদের সুষ্ঠু চিকিৎসাব্যবস্থা নেই। বেসরকারি পরিদর্শক দলের সদস্য অধ্যক্ষ গুলশান আরা জানান, কারাগারে একজন সার্বক্ষণিক নারী নার্স নিয়োগ ও নারীদের জন্য পাঁচটি শয্যা সরবরাহের জন্য কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জনকে অনুরোধ করা হয়েছে। জেল সুপার বজলুর রশিদ চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, কারাগারে ধারণক্ষমতার চেয়ে বন্দি বেশি হওয়ায় কিছু সমস্যা তো হবেই। তবে তা সামলে নেওয়া হচ্ছে। জেলকোড অনুযায়ী, যতটুকু সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার কথা, তার সবটুকুই দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। নতুন কারাগারটি এরই মধ্যে উদ্বোধন করা হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে বন্দিদের নতুন কারাগারে স্থানান্তর করা হলে সমস্যা কেটে যাবে।