লড়াই, পাল্টা লড়াই। মাঝে নাটকীয় মুহূর্ত। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে উড়তে থাকা লিভারপুলকে মাটিতে নামাতে বৃহস্পতিবার সবকিছু উপহার দিল ম্যানচেস্টার সিটি। এই জয়ে শিরোপার লড়াইয়ে টিকে থাকল দলটি।
ইতিহাদ স্টেডিয়ামে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা জয় পেয়েছে ২-১ গোলে। লিভারপুল এই ম্যাচ জিতে গেলে ১৯৯০ সালের পর প্রথমবারের মতো শিরোপার অনেকটা কাছে চলে যেত।
২১তম ম্যাচে এসে লিভারপুল হারের মুখ দেখল। ২০০৩-০৪ মৌসুমে ৩৮ ম্যাচে অপরাজিত থাকার রেকর্ড আছে আর্সেনালের।
শুরু থেকে তুমুল লড়াই হওয়া ম্যাচে সিটি এগিয়ে যায় ৪০তম মিনিটে। বের্নার্দ সিলভার পাস ধরে দুরূহ কোণ থেকে বাঁপায়ের শটে জাল খুঁজে নেন সের্হিও আগুয়েরো।
প্রথম গোলের আগে নাটকীয় মুহূর্ত থেকে রক্ষা পায় ম্যানসিটি। ২১তম মিনিটে ফরোয়ার্ড সাদিও মানের শট পোস্টে লেগে জালের দিকে অগ্রসর হয়। ক্লিয়ার করতে গিয়ে গোলের দিকে সেটি আরেকটু এগিয়ে দেন গোলরক্ষক এদেরসন। একদম শেষ মুহূর্তে ডাইভ দিয়ে কোনোমতে বল ফেরান জন স্টোনস।
ম্যাচ শেষে স্টোনস বলেন তার এই চেষ্টাই সিটিকে ম্যাচে রেখেছে, ‘এই সব প্রচেষ্টা ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেয়। এদিন সেটিই হয়েছে। আমি সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করেছি বল বাইরে পাঠাতে।’
০-১ গোলে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যায় লিভারপুল। টানেল থেকে ফিরে দলটি সমতাসূচক গোলের দেখা পায় ৬৪তম মিনিটে।
আলেকজান্ডার-আরনল্ডের পাস রবার্টসনের কাছ থেকে চলে যায় ফিরমিনোর কাছে। পোস্টের খুব কাছ থেকে হেড করে বল জালে পাঠান তিনি। লিগে ফিরমিনোর এটি অষ্টম গোল।
লিভারপুলকে হতাশ করে সিটি এগিয়ে যায় ৭২ মিনিটের সময়। স্টার্লিংয়ের পাস থেকে লেরয় সানে দূরের পোস্ট ব্যবহার করে বলকে জালের বাসিন্দা করেন। লিগে এটি তার সপ্তম গোল।
গত মৌসুম থেকে এই পর্যন্ত সানে নিজেদের মাঠে প্রিমিয়ার লিগে ২৬টি গোলের সঙ্গে যুক্ত থাকলেন। ৯টি করেছেন, ১৭টি করিয়েছেন।
শেষদিকে এসে পিছিয়ে পড়ার পর আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি লিভারপুল। গোটা ম্যাচে ৫১ শতাংশ সময় বল দখলে রেখেও হারতে হয় তাদের।
২১ ম্যাচে ১৭ জয়, তিন ড্র নিয়ে শীর্ষে থাকা লিভারপুলের পয়েন্ট ৫৪। দ্বিতীয় স্থানে থাকা শিরোপাধারী সিটির পয়েন্ট ৫০। তিন নম্বরে নেমে যাওয়া টটেনহ্যামের সংগ্রহ ৪৬। ৩৮ পয়েন্ট নিয়ে চারে ২০১৬-১৭ মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন চেলসি।