‌‘কে ভুল করেছে ইতিহাস সাক্ষ্য দেবে’

শপথ না নিয়ে বিএনপি ‘ভুল’ করেছে- আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের জবাবে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ বলেছেন, ‌‌‘কে ভুল করেছে ইতিহাস তার সাক্ষ্য দেবে।’

শুক্রবার সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।

এসময় রিজভী বলেন, ‘গতকাল ৩ জানুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ৩৬ বছর রাজনৈতিক জীবন পূর্ণ হলো। ১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি বেগম খালেদা জিয়া বিএনপির প্রাথমিক সদস্য হিসেবে দলে যোগ দেন। এর ২ মাসের মধ্যে গণতন্ত্র হত্যা করে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ সামরিক শাসন জারি করেন। এ রকম এক ক্রান্তিকালে শুরু হয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন। সেই আন্দোলনে বেগম জিয়ার অবদান বীরত্বগাথা।’

তিনি বলেন, ‘সেই সময়ে নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রামে তিনি (খালেদা জিয়া) জাতীয় রাজনীতির মঞ্চে একক ও অনন্য নেতৃত্বে সুপ্রতিষ্ঠিত হন। দীর্ঘ ৯ বছরের সংগ্রামে, সংকটে আপসহীন ধারায় জনগণের সঙ্গে অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে তিনি গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন।’

বিএনপির এ জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ‘কিন্তু দেশি-বিদেশি চক্র এই মহান জাতীয়তাবাদী নেত্রীর উত্থান সহ্য করতে পারেনি। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রকে যিনি আগলে রেখেছিলেন অতন্দ্র প্রহরীর মতো, তাকে পর্যুদস্ত করার জন্য চক্রান্তকারীরা চক্রান্ত জাল বুনতে থাকে।’

‘ভোটার শূন্য নির্বাচনে বিদেশি মদদপুষ্ট অগণতান্ত্রিক ফ্যাসিবাদী শক্তি গণতন্ত্রকে দাফন করতে বেগম জিয়াকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে আটকে রেখে জুলুমের পর জুলুম চালিয়ে যাচ্ছে’ অভিযোগ করেন তিনি।

রিজভী আরও অভিযোগ করেন, ‘মূলত ৭ দিন পর পর কারাবন্দীদের সঙ্গে স্বজনদের দেখা করার কথা। অথচ বেগম জিয়ার জন্য কারা কর্তৃপক্ষ ১৫ দিন পর পর সাক্ষাতের বিধান করে। এবারে ২০/২১ দিন অতিবাহিত হলেও দেশনেত্রীর সঙ্গে তার আত্মীয়-স্বজনদের সাক্ষাৎ করতে দেওয়া হয়নি। দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ ও নেত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসকেরা ৪ মাস ধরে তার সঙ্গে দেখা করতে পারছেন না।’

তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে মহাজালিয়াতির নির্বাচনের পর অবৈধ শাসকগোষ্ঠী আরও বেশি নিষ্ঠুর, বেপরোয়া ও ঔদ্ধত্য হয়ে উঠছে। মিথ্যা জয়ের গরিমায় ধরাকে সরা জ্ঞান না করার পর্যায়ে তারা পৌঁছেছে। দেশটা এখন জনগণের নয়, দেশ এখন আওয়ামী লীগের একক তালুকদারিতে পরিণত হয়েছে।’

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘দেশ ও জাতির সঙ্গে এত বড় প্রতারণা ও জালিয়াতির জন্য জনগণের আদালতে প্রকাশ্যে তাদের বিচার একদিন হবেই।’

নির্বাচন কমিশনের পিঠা উৎসবের সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন নির্লজ্জ বলে জনগণকে বলি দিয়ে পিঠা উৎসব করছে।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, সহ-দপ্তর সম্পাদক মুনির হোসেন, নির্বাহী সদস্য আমিনুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।